দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও দর্শকদের সামনে ফিরে এসে উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে প্রথম স্থান দখল করেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই ছবিটি চমকপ্রদ আয় করে প্রমাণ করেছে, ফ্যাশনের ঝলমলে জগৎ আর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এখনও দর্শকদের কাছে সমান আকর্ষণীয়।
ফিরে এল পরিচিত মুখ, নতুন সংকট
এই সিক্যুয়েলে আবারও দেখা যায় অ্যান হ্যাথাওয়ের চরিত্রকে, যিনি কঠোর স্বভাবের সম্পাদক মিরান্ডা প্রিস্টলির অধীনে কাজ করতে ফিরে আসেন। মিরান্ডা চরিত্রে আগের মতোই শক্তিশালী উপস্থিতি নিয়ে আছেন মেরিল স্ট্রিপ। তবে এবার গল্পে যুক্ত হয়েছে নতুন এক বাস্তবতা—ফ্যাশন ম্যাগাজিনটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে, আর সেই সংকটই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
আগের ছবির জনপ্রিয় চরিত্রদের পাশাপাশি স্ট্যানলি টুচি ও এমিলি ব্লান্টও ফিরেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। পাশাপাশি নতুন কিছু তারকা ও অতিথি উপস্থিতি ছবিটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

প্রথম সপ্তাহেই বড় সাফল্য
ছবিটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাজারে প্রথম সপ্তাহান্তেই প্রায় ৭৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, একটি কমেডি-ড্রামা ঘরানার ছবির জন্য এটি অসাধারণ সূচনা। ছবির গল্পে ক্ষমতা, ইমেজ এবং সাফল্যের যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো বর্তমান সময়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত—যা দর্শকদের আকৃষ্ট করতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রথম ছবিতে মিরান্ডা প্রিস্টলি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মেরিল স্ট্রিপ গোল্ডেন গ্লোব জিতেছিলেন এবং অস্কার মনোনয়নও পেয়েছিলেন। সেই চরিত্রের নতুন অধ্যায়ও দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
অন্যান্য ছবির অবস্থান
গত সপ্তাহের শীর্ষে থাকা মাইকেল জ্যাকসনের জীবনীভিত্তিক ছবি ‘মাইকেল’ এবার দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে, যদিও এটি এখনও শক্তিশালী আয় ধরে রেখেছে। ছবিটি ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী ৪২৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে অ্যানিমেশন সিক্যুয়েল ‘সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’, যা ধারাবাহিকভাবে ভালো ব্যবসা করছে এবং দেশীয় বাজারে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
চতুর্থ স্থানে থাকা বিজ্ঞানভিত্তিক কমেডি ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী ৬২৫ মিলিয়নের বেশি আয় করেছে। আর পঞ্চম স্থানে থাকা স্বল্প বাজেটের হরর ছবি ‘হোকাম’ সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বক্স অফিসে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রতিযোগিতা
সপ্তাহটির শীর্ষ দশে বিভিন্ন ঘরানার ছবি জায়গা করে নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অ্যানিমেশন, হরর, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি ও ড্রামা। এই বৈচিত্র্যই প্রমাণ করছে, দর্শকদের পছন্দ এখন বহুমাত্রিক এবং ভিন্নধর্মী গল্পের প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















