রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় গড়াই নদীর ভয়াবহ ভাঙনে গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রামীণ সড়ক এখন প্রায় ধ্বংসের মুখে। একই সঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন অন্তত ৫০টি পরিবারের মানুষ। বর্ষা ঘনিয়ে আসায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
নারুয়া ও জঙ্গল ইউনিয়নের সংযোগকারী নারুয়া-কোনাগ্রাম সড়কের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে ভাঙনের কবলে পড়েছে। বিশেষ করে জামসাপুর এলাকায় প্রায় ১০০ গজ সড়ক এতটাই সরু হয়ে গেছে যে সেটি এখন অনেকটা পায়ে হাঁটার পথের মতো দেখাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে বড় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান কষ্ট করে চললেও প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ভাঙা অংশ পার হতে গিয়ে ছোট যান উল্টে যাওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।
বর্ষার আগে বাড়ছে আতঙ্ক
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে শুধু সড়ক নয়, আশপাশের বসতবাড়িও নদীতে চলে যেতে পারে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ওপর নির্মিত এই সড়ক পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর পাকা করে। নারুয়া, জামসাপুর, কোনাগ্রাম, মরাবিলা ও আশপাশের গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ।
তিন বছর ধরে বেড়েছে ভাঙন
স্থানীয়দের দাবি, গত তিন বছরে জামসাপুর এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড মাঝেমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেললেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না। কিছুদিন পর আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে ভাঙন।
জামসাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মতিন জানান, বহু বছর ধরেই নদী সড়কটি গ্রাস করছে। তবে গত দুই থেকে তিন বছরে ভাঙন মারাত্মক আকার নিয়েছে। এখন নদী তার বাড়ির একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে।
তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরে বড় গাড়ি চলাচল বন্ধ। বর্ষাকালে কিছু বালুর বস্তা ফেলা হলেও কয়েকদিন পর আবার আগের মতো অবস্থা হয়ে যায়। এখন যাত্রীরা ভাঙা অংশ পায়ে হেঁটে পার হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নদীপারের এলাকায় অব্যাহত বালু উত্তোলনের কারণেও ভাঙন বাড়ছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা সৈয়দ আলাউদ্দিন ফকির বলেন, প্রায় এক দশক ধরে এই ভাঙন সমস্যা চলছে। প্রতি বছর বর্ষায় কিছু বস্তা ফেলা হলেও নদীভাঙন থামে না। এবার বর্ষার আগেই ভাঙন শুরু হওয়ায় মানুষ আরও আতঙ্কিত।
প্রশাসনের আশ্বাস
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাঈম রহমান রুমান জানান, সড়কটি তাদের অধীনে থাকলেও পাকা করার কাজ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। গত কয়েক বছরে নারুয়া ফেরিঘাট থেকে কোনাগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনাগ্রাম ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত নিশ্চিত করতে জরুরি সংস্কার করা হয়েছিল। তবে কিছুদিনের মধ্যেই আবার ক্ষতি দেখা দেয়। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান জানান, বর্তমানে নারুয়া ও জঙ্গল ইউনিয়নের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা গড়াই নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। জামসাপুরসহ অন্তত ১৫টি স্থান গুরুতর হুমকির মধ্যে আছে। বর্ষার আগেই প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করতে জরুরি ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে গড়াই নদীর ভাঙনে সড়ক ও অর্ধশতাধিক পরিবার ঝুঁকিতে, বর্ষার আগে বাড়ছে আতঙ্ক।
Sarakhon Report 



















