০২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান লুকানো পেটের চর্বি হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত বুড়িয়ে দিতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা মানুষের শিশুর মতোই গান শেখে তরুণ ফিঞ্চ পাখি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩ নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই, বললেন নাইমাল খাওয়ার তালেবান শাসনে আফগানিস্তান: বিবাহবিচ্ছেদ থেকে স্মার্টফোন, সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের ছায়া ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বতে লাইন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ‘এটা তো বিনোদনকেন্দ্র নয়’ আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ বদলে যাচ্ছে, বড় ঝুঁকিতে পাকিস্তানের শিল্প-বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নিয়ম: বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই ফিরতে বলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

রক্ত পরিশোধনেই আশার আলো: গর্ভকালীন মারাত্মক জটিলতা প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত

গর্ভাবস্থার সবচেয়ে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ সমস্যাগুলোর একটি প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া। হঠাৎ করে মায়ের রক্তচাপ বেড়ে যায়, যা দ্রুত অঙ্গ বিকল হওয়া থেকে মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই রোগের কার্যকর চিকিৎসা না থাকায় চিকিৎসকদের একমাত্র ভরসা ছিল দ্রুত সন্তান প্রসব করানো। তবে এবার নতুন এক গবেষণা আশার আলো দেখাচ্ছে—রক্ত পরিশোধনের মাধ্যমে এই রোগের গতি ধীর করা সম্ভব হতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট

প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া কেন এত বিপজ্জনক
এই অবস্থাটি সাধারণত আগাম লক্ষণ ছাড়াই দেখা দেয়। হঠাৎ করে মায়ের শরীরে জটিলতা তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময় জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করাতে হয়।
বিশেষ করে গর্ভকাল ৩২ সপ্তাহের কম হলে শিশুর বেঁচে থাকা এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। তাই গর্ভকাল সামান্য বাড়ানো গেলেও তা শিশুর জন্য বড় উপকার বয়ে আনতে পারে।

নতুন চিকিৎসার সম্ভাবনা
সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্ত থেকে একটি নির্দিষ্ট ক্ষতিকর প্রোটিন অপসারণ করলে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার অগ্রগতি ধীর করা সম্ভব। গবেষকরা এমন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যেখানে মায়ের শরীর থেকে রক্ত বের করে বিশেষ ফিল্টারের মাধ্যমে পরিশোধন করে আবার শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এই প্রক্রিয়ায় “এসএফএলটি-১” নামের একটি প্রোটিন কমানো হয়, যা প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার জন্য দায়ী বলে দীর্ঘদিন ধরে জানা গেছে।

Blood filtering' therapy could treat preeclampsia, early study hints | Live Science

কীভাবে কাজ করে এই পদ্ধতি
গবেষকরা এমন একটি বিশেষ অ্যান্টিবডি তৈরি করেছেন, যা এই প্রোটিনকে শনাক্ত করে ফিল্টারের মাধ্যমে আটকে রাখতে পারে। ফলে রক্তে ওই প্রোটিনের মাত্রা কমে যায়।
যদিও কিছু ক্ষেত্রে প্রোটিন আবার বাড়তে দেখা গেছে, তবে তা আগের মতো দ্রুত বাড়েনি। বরং একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে স্থির থেকেছে, যা রোগের গতি কমাতে সহায়ক।

গবেষণার ফলাফল কতটা আশাব্যঞ্জক
এই পরীক্ষাটি সীমিত আকারে ১৬ জন নারীর ওপর চালানো হয়েছে। তবে ফলাফল বেশ ইতিবাচক।
চিকিৎসা নেওয়া নারীদের গর্ভকাল গড়ে ১০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হয়েছে, যেখানে বর্তমান চিকিৎসায় সাধারণত ৪ দিনের বেশি সময় পাওয়া যায় না। এই অতিরিক্ত সময় অনেক শিশুকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থেকে তুলনামূলক নিরাপদ পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই পরীক্ষায় মা বা শিশুর ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি।

চিকিৎসা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তন
গত প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার চিকিৎসা পদ্ধতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। এখন পর্যন্ত চিকিৎসা মূলত উপসর্গ নিয়ন্ত্রণেই সীমাবদ্ধ ছিল।
নতুন এই পদ্ধতি প্রথমবারের মতো রোগের মূল কারণকে লক্ষ্য করে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসার ধরনই বদলে দিতে পারে।

তবে এখনও পথ বাকি
গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বড় পরিসরে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন, যাতে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
তবুও দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর এই গবেষণা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই

রক্ত পরিশোধনেই আশার আলো: গর্ভকালীন মারাত্মক জটিলতা প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত

০৬:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

গর্ভাবস্থার সবচেয়ে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ সমস্যাগুলোর একটি প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া। হঠাৎ করে মায়ের রক্তচাপ বেড়ে যায়, যা দ্রুত অঙ্গ বিকল হওয়া থেকে মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই রোগের কার্যকর চিকিৎসা না থাকায় চিকিৎসকদের একমাত্র ভরসা ছিল দ্রুত সন্তান প্রসব করানো। তবে এবার নতুন এক গবেষণা আশার আলো দেখাচ্ছে—রক্ত পরিশোধনের মাধ্যমে এই রোগের গতি ধীর করা সম্ভব হতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট

প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া কেন এত বিপজ্জনক
এই অবস্থাটি সাধারণত আগাম লক্ষণ ছাড়াই দেখা দেয়। হঠাৎ করে মায়ের শরীরে জটিলতা তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময় জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করাতে হয়।
বিশেষ করে গর্ভকাল ৩২ সপ্তাহের কম হলে শিশুর বেঁচে থাকা এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। তাই গর্ভকাল সামান্য বাড়ানো গেলেও তা শিশুর জন্য বড় উপকার বয়ে আনতে পারে।

নতুন চিকিৎসার সম্ভাবনা
সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্ত থেকে একটি নির্দিষ্ট ক্ষতিকর প্রোটিন অপসারণ করলে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার অগ্রগতি ধীর করা সম্ভব। গবেষকরা এমন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যেখানে মায়ের শরীর থেকে রক্ত বের করে বিশেষ ফিল্টারের মাধ্যমে পরিশোধন করে আবার শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এই প্রক্রিয়ায় “এসএফএলটি-১” নামের একটি প্রোটিন কমানো হয়, যা প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার জন্য দায়ী বলে দীর্ঘদিন ধরে জানা গেছে।

Blood filtering' therapy could treat preeclampsia, early study hints | Live Science

কীভাবে কাজ করে এই পদ্ধতি
গবেষকরা এমন একটি বিশেষ অ্যান্টিবডি তৈরি করেছেন, যা এই প্রোটিনকে শনাক্ত করে ফিল্টারের মাধ্যমে আটকে রাখতে পারে। ফলে রক্তে ওই প্রোটিনের মাত্রা কমে যায়।
যদিও কিছু ক্ষেত্রে প্রোটিন আবার বাড়তে দেখা গেছে, তবে তা আগের মতো দ্রুত বাড়েনি। বরং একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে স্থির থেকেছে, যা রোগের গতি কমাতে সহায়ক।

গবেষণার ফলাফল কতটা আশাব্যঞ্জক
এই পরীক্ষাটি সীমিত আকারে ১৬ জন নারীর ওপর চালানো হয়েছে। তবে ফলাফল বেশ ইতিবাচক।
চিকিৎসা নেওয়া নারীদের গর্ভকাল গড়ে ১০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হয়েছে, যেখানে বর্তমান চিকিৎসায় সাধারণত ৪ দিনের বেশি সময় পাওয়া যায় না। এই অতিরিক্ত সময় অনেক শিশুকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থেকে তুলনামূলক নিরাপদ পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই পরীক্ষায় মা বা শিশুর ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি।

চিকিৎসা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তন
গত প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার চিকিৎসা পদ্ধতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। এখন পর্যন্ত চিকিৎসা মূলত উপসর্গ নিয়ন্ত্রণেই সীমাবদ্ধ ছিল।
নতুন এই পদ্ধতি প্রথমবারের মতো রোগের মূল কারণকে লক্ষ্য করে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসার ধরনই বদলে দিতে পারে।

তবে এখনও পথ বাকি
গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বড় পরিসরে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন, যাতে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
তবুও দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর এই গবেষণা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।