০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

বিনিয়োগে আস্থা ফেরাতে আইনি সংস্কারে জোর বিশ্বব্যাংকের

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং দারিদ্র্য কমাতে বিনিয়োগবান্ধব আইনি ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। সংস্থাটির মতে, বিনিয়োগকারীরা শুধু বাজারের সুযোগ দেখেন না, তারা খোঁজেন স্থিতিশীল নীতি, স্পষ্ট আইন এবং নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। এই আস্থা না থাকলে বিনিয়োগ থেমে যায়, আর তার সঙ্গে থেমে যায় কর্মসংস্থানও।

বিশ্বব্যাংকের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগামী এক দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে প্রবেশ করবে। কিন্তু তাদের অর্ধেকের জন্যও নতুন চাকরি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই বিশাল ব্যবধান পূরণে বেসরকারি বিনিয়োগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ চাকরি তৈরি করে বেসরকারি খাত।

আইনি অনিশ্চয়তা বিনিয়োগে বড় বাধা

বিশ্বব্যাংক বলছে, অনেক দেশে অস্পষ্ট আইন, অনির্দেশ্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং দুর্বল বিচারিক ব্যবস্থার কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে চান না। ফলে সম্ভাবনাময় খাতেও অর্থায়ন কমে যায়। সংস্থাটির মতে, কার্যকর আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে।

বিশেষ করে ব্যবসা নিবন্ধন, লাইসেন্স, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির মতো বিষয়গুলো বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে জটিলতা বা অনিশ্চয়তা থাকলে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

অ্যাটর্নি জেনারেলদের সঙ্গে নতুন উদ্যোগ

এই বাস্তবতায় বিশ্বব্যাংক গ্রুপ নতুন একটি উদ্যোগ চালু করেছে, যার নাম ‘প্যাক্ট ফোরাম’। এর পূর্ণরূপ ‘অ্যাটর্নিজ জেনারেল পাবলিক/প্রাইভেট পার্টনারশিপস অ্যাকসেলারেটিং কলাবোরেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং জ্যেষ্ঠ আইন কর্মকর্তাদের একত্র করা হবে, যাতে তারা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে যৌথভাবে কাজ করতে পারেন।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই উদ্যোগের প্রথম সম্মেলন ২০২৬ সালের ৫ থেকে ৭ মে রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রুয়ান্ডার বিচার মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সহায়তায় এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।

WB to provide $3b this fiscal for reforms | The Daily Star

কর্মসংস্থান কৌশলের তিন ভিত্তি

বিশ্বব্যাংকের কর্মসংস্থান কৌশল মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল সুবিধার মতো মৌলিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ সহায়ক নীতি ও আইনি সংস্কার বাস্তবায়ন। তৃতীয়ত, বেসরকারি খাতে মূলধন, গ্যারান্টি এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমার মাধ্যমে বড় পরিসরে অর্থায়ন নিশ্চিত করা।

সংস্থাটি বলছে, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, অর্থায়ন, নীতি পরামর্শ এবং সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।

আইনি সংস্কারের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি

বিশ্বব্যাংকের মতে, আইনি সংস্কার হয়তো সবসময় শিরোনাম হয় না, কিন্তু এর প্রভাব দৃশ্যমান হয় নতুন ব্যবসা, বাড়তি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। তাই দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য কার্যকর আইন ও স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

বিনিয়োগবান্ধব আইনি সংস্কারে জোর দিয়ে কর্মসংস্থান বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্বব্যাংক। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দারিদ্র্য কমাতেই এই উদ্যোগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগে আস্থা ফেরাতে আইনি সংস্কারে জোর বিশ্বব্যাংকের

০৬:২৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং দারিদ্র্য কমাতে বিনিয়োগবান্ধব আইনি ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। সংস্থাটির মতে, বিনিয়োগকারীরা শুধু বাজারের সুযোগ দেখেন না, তারা খোঁজেন স্থিতিশীল নীতি, স্পষ্ট আইন এবং নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। এই আস্থা না থাকলে বিনিয়োগ থেমে যায়, আর তার সঙ্গে থেমে যায় কর্মসংস্থানও।

বিশ্বব্যাংকের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগামী এক দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে প্রবেশ করবে। কিন্তু তাদের অর্ধেকের জন্যও নতুন চাকরি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই বিশাল ব্যবধান পূরণে বেসরকারি বিনিয়োগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ চাকরি তৈরি করে বেসরকারি খাত।

আইনি অনিশ্চয়তা বিনিয়োগে বড় বাধা

বিশ্বব্যাংক বলছে, অনেক দেশে অস্পষ্ট আইন, অনির্দেশ্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং দুর্বল বিচারিক ব্যবস্থার কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে চান না। ফলে সম্ভাবনাময় খাতেও অর্থায়ন কমে যায়। সংস্থাটির মতে, কার্যকর আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে।

বিশেষ করে ব্যবসা নিবন্ধন, লাইসেন্স, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির মতো বিষয়গুলো বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে জটিলতা বা অনিশ্চয়তা থাকলে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

অ্যাটর্নি জেনারেলদের সঙ্গে নতুন উদ্যোগ

এই বাস্তবতায় বিশ্বব্যাংক গ্রুপ নতুন একটি উদ্যোগ চালু করেছে, যার নাম ‘প্যাক্ট ফোরাম’। এর পূর্ণরূপ ‘অ্যাটর্নিজ জেনারেল পাবলিক/প্রাইভেট পার্টনারশিপস অ্যাকসেলারেটিং কলাবোরেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং জ্যেষ্ঠ আইন কর্মকর্তাদের একত্র করা হবে, যাতে তারা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে যৌথভাবে কাজ করতে পারেন।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই উদ্যোগের প্রথম সম্মেলন ২০২৬ সালের ৫ থেকে ৭ মে রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রুয়ান্ডার বিচার মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সহায়তায় এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।

WB to provide $3b this fiscal for reforms | The Daily Star

কর্মসংস্থান কৌশলের তিন ভিত্তি

বিশ্বব্যাংকের কর্মসংস্থান কৌশল মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল সুবিধার মতো মৌলিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ সহায়ক নীতি ও আইনি সংস্কার বাস্তবায়ন। তৃতীয়ত, বেসরকারি খাতে মূলধন, গ্যারান্টি এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমার মাধ্যমে বড় পরিসরে অর্থায়ন নিশ্চিত করা।

সংস্থাটি বলছে, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, অর্থায়ন, নীতি পরামর্শ এবং সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।

আইনি সংস্কারের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি

বিশ্বব্যাংকের মতে, আইনি সংস্কার হয়তো সবসময় শিরোনাম হয় না, কিন্তু এর প্রভাব দৃশ্যমান হয় নতুন ব্যবসা, বাড়তি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। তাই দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য কার্যকর আইন ও স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

বিনিয়োগবান্ধব আইনি সংস্কারে জোর দিয়ে কর্মসংস্থান বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্বব্যাংক। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দারিদ্র্য কমাতেই এই উদ্যোগ।