যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলের পর দলটির ভেতরেই নতুন নেতৃত্বের দাবি উঠেছে। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও এমপি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে।
লেবার এমপি জশ সিমন্স বলেছেন, স্টারমার “দেশকে হারিয়েছেন” এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি আর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না। তিনি মনে করেন, দলকে টিকিয়ে রাখতে হলে নেতৃত্বে পরিবর্তন প্রয়োজন। সিমন্সের ভাষায়, লেবার পার্টি এখন “ধীরে ধীরে রাজনৈতিক বিলুপ্তির পথে হাঁটছে”।
নেতৃত্ব সংকট ঘিরে উত্তেজনা
লেবার এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্ট ঘোষণা দিয়েছেন, সোমবারের মধ্যে যদি কোনো মন্ত্রিসভার সদস্য স্টারমারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত না নেন, তাহলে তিনি নিজেই নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার চেষ্টা করবেন। এজন্য প্রয়োজনীয় এমপি সমর্থন সংগ্রহের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
দলটির ভেতরে সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নামের তালিকায় আছেন অ্যাঞ্জেলা রেইনার, ওয়েস স্ট্রিটিং এবং অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে এদের কেউই এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে স্টারমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি।
নির্বাচনী ধাক্কা ও হতাশা
স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবির পর দলের নেতারা খোলাখুলিভাবে হতাশা প্রকাশ করছেন। শিক্ষা সচিব ব্রিজেট ফিলিপসন বলেছেন, ফলাফল দেখে তিনি “অত্যন্ত হতাশ” হয়েছেন। তাঁর মতে, ভোটাররা ২০২৪ সালে পরিবর্তনের আশা নিয়ে লেবারকে সমর্থন দিয়েছিলেন, কিন্তু সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
তিনি আরও স্বীকার করেন, শীতকালীন জ্বালানি ভাতা কমানোর মতো সিদ্ধান্ত এবং সরকারের অতিরিক্ত নেতিবাচক বার্তা মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।
পুরনো নেতাদের ফেরানোর চেষ্টা
চাপের মুখে স্টারমার সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এবং সাবেক ডেপুটি লেবার নেতা হ্যারিয়েট হারম্যানকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ব্রাউনকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বিষয়ক বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে হারম্যান কাজ করবেন নারী ও মেয়েদের নিরাপত্তা এবং প্রতিনিধিত্ব নিয়ে।
তবে সমালোচকেরা বলছেন, পুরনো মুখ ফিরিয়ে আনা সাধারণ ভোটারদের মনোভাব বদলাতে পারবে না। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ব্লাঙ্কেট বলেছেন, মানুষ এখন নেতৃত্বের চেয়ে নিজেদের জীবনমানের পরিবর্তন দেখতে চায়।
বিরোধীদের চাপও বাড়ছে
এদিকে এড ডেভি দাবি করেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা কনজারভেটিভদের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে এবং দক্ষিণ ইংল্যান্ডের বহু এলাকায় তারা এখন প্রধান শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি স্টারমারের ইউরোপনীতি ও নেতৃত্বের সমালোচনাও করেন।
লেবার পার্টির সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন দাতা সংগঠন ইউনাইটের প্রধান শ্যারন গ্রাহামও স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দলকে নতুনভাবে সংগঠিত করতে “পরিকল্পিত নেতৃত্ব পরিবর্তন” প্রয়োজন।
স্টারমার অবশ্য এখনই সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি। তিনি আগামী সপ্তাহে নতুন নীতিগত বক্তব্য ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
লেবার নেতৃত্ব সংকট
স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের মুখে লেবার পার্টিতে নতুন নেতৃত্বের আলোচনা তীব্র হয়েছে।
স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর লেবার দলে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দলীয় এমপি ও ইউনিয়ন নেতাদের একাংশ পরিবর্তনের দাবি তুলছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















