গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামে। নিহতদের মরদেহ রোববার নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয় তাদের।
দাফনের সময় স্বজন ও স্থানীয়দের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শোকার্ত পরিবেশে উপস্থিত মানুষের একটাই দাবি ছিল—এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফুরকান মিয়াকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ভোরে গ্রামে পৌঁছায় মরদেহ
রোববার সকাল প্রায় ৬টার দিকে নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে ভিড় করেন।
নিহতরা হলেন শরমিন বেগম (৩২), তার ভাই রাসেল মিয়া (২২) এবং শরমিনের তিন মেয়ে মিম (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকান্দি গ্রামের একটি বাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, শুক্রবার গভীর রাতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
ফোন করে হত্যার খবর দেন অভিযুক্ত
ঘটনার পরপরই শরমিনের স্বামী ও মামলার প্রধান আসামি ফুরকান মিয়া আত্মগোপনে চলে যান। পুলিশ জানায়, শনিবার ভোরে ফুরকান স্বজনদের ফোন করে হত্যার খবর জানানোর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
নিহত শরমিনের মামা অর্জু শেখ বলেন, খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত গাজীপুরে যান। সেখানে গিয়ে যে দৃশ্য দেখেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি ফুরকানের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মেশানোর সন্দেহ
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের আগে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মেশানো হয়েছিল। এরপর পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত শরমিনের বাবা শাহাদত মোল্লা কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফুরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মূল আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। হত্যার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ সদস্য হত্যার ঘটনায় গোপালগঞ্জে শোকের মাতম, প্রধান আসামি এখনও পলাতক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















