ফাইজারের করোনা টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের দাবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। বিভিন্ন পোস্টে বলা হচ্ছে, ফাইজারের করোনা টিকার নথিতে হান্টাভাইরাস পালমোনারি সংক্রমণকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন এবং দাবিটি বিভ্রান্তিকর।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে ফাইজারের একটি নথির অংশ দেখিয়ে দাবি করা হয়, করোনা টিকা নেওয়ার পর হান্টাভাইরাস সংক্রমণ দেখা গেছে। এমনকি কেউ কেউ দাবি করেন, টিকার মধ্যেই নাকি হান্টাভাইরাস রয়েছে। এসব পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি করে।
কী ছিল সেই নথিতে
ভাইরাল পোস্টে যে নথির উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি ছিল ফাইজারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া একটি নিয়ন্ত্রক নথি। সেখানে “বিশেষ আগ্রহের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তালিকা” নামে একটি অংশে বিভিন্ন চিকিৎসাজনিত ঘটনার নাম ছিল। ওই তালিকায় হান্টাভাইরাস পালমোনারি সংক্রমণের নামও দেখা যায়।

তবে ফাইজারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ওই তালিকায় থাকা মানেই কোনো রোগ টিকার কারণে হয়েছে—এমন নয়। গবেষণা সময়ে কোনো ব্যক্তি টিকা নেওয়ার পর যেকোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা বা রোগে আক্রান্ত হলে তা রেকর্ড করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে টিকার সরাসরি সম্পর্ক থাকুক বা না থাকুক।
স্বেচ্ছায় জমা পড়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন অ্যাডভার্স ইভেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেমসহ বিভিন্ন জাতীয় রিপোর্টিং ব্যবস্থার তথ্য সেখানে যুক্ত হয়েছিল। ফলে সেখানে এমন ঘটনাও থাকতে পারে, যার সঙ্গে টিকার কোনো কারণগত সম্পর্ক নেই।
হান্টাভাইরাস কি টিকায় ছিল?
ফাইজারের বর্তমান করোনা টিকা কোমিরনাটির উপাদান তালিকায় কোনো হান্টাভাইরাস নেই। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এই টিকায় কোনো জীবন্ত ভাইরাসও ব্যবহার করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর পোস্টগুলো মানুষের ভয় ও অনিশ্চয়তাকে কাজে লাগিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। টিকা-সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

হান্টাভাইরাস নিয়ে নতুন উদ্বেগ
এদিকে সম্প্রতি একটি ডাচ পতাকাবাহী প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাস সংক্রমণে তিনজনের মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আক্রান্তদের মধ্যে অ্যান্ডিজ ধরনের হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, অ্যান্ডিজ ধরনের হান্টাভাইরাসই একমাত্র ধরন যা সীমিতভাবে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। তবে এমন সংক্রমণ খুবই বিরল এবং সাধারণত দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে তা ঘটতে পারে।
ভুল তথ্য কেন বিপজ্জনক
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা নিয়ে ভুল তথ্য মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করে এবং জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো বা আংশিক তথ্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনা এখন বাড়ছে।
তারা বলছেন, কোনো নথিতে কোনো ঘটনার নাম থাকা মানেই সেটি প্রমাণিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়। কারণগত সম্পর্ক নির্ধারণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও যাচাই প্রয়োজন হয়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















