চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়েই লা লিগার শিরোপা নিশ্চিত করল বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ এল ক্লাসিকোতে ২-০ গোলের জয়ে মৌসুম শেষ হওয়ার তিন ম্যাচ আগেই ২৯তম লা লিগা শিরোপা ঘরে তুলেছে কাতালান ক্লাবটি।
নতুন সাজে গড়া ন্যু ক্যাম্পে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরুতেই ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড মার্কাস রাশফোর্ড দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে গোল করে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসান। দূরপাল্লার সেই শটে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া বল ছুঁয়েও জাল রক্ষা করতে পারেননি।
রাশফোর্ডের গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে বার্সা। ম্যাচের ১৮ মিনিটে দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেরান তোরেস। মাঝমাঠে দানি ওলমোর চতুর পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন তিনি।
কোচকে উৎসর্গ করা জয়

গোল করার পর রাশফোর্ড ও তোরেস দুজনেই ছুটে যান প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিকের দিকে। সম্প্রতি কোচের বাবার মৃত্যু হওয়ায় আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় মাঠে। খেলোয়াড়দের এমন উদযাপন ন্যু ক্যাম্পের দর্শকদেরও আবেগাপ্লুত করে তোলে।
অপ্রতিরোধ্য বার্সেলোনা
এই জয়ের মাধ্যমে টানা ১১ ম্যাচে জয় তুলে নিল বার্সেলোনা। লিগে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে এখন তারা ১৪ পয়েন্ট এগিয়ে, যা আর কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায়।
ঘরের মাঠে বার্সেলোনার দাপটও ছিল চোখে পড়ার মতো। চলতি মৌসুমে নিজেদের মাঠে ১৮টি ম্যাচ খেলে সবকটিতেই জয় পেয়েছে তারা। এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত তাদের শিরোপার পথে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।
রিয়ালের হতাশার রাত
রিয়াল মাদ্রিদের জন্য ম্যাচটি ছিল হতাশাজনক। আক্রমণে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দলটি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দ্বিতীয়ার্ধে একটি সুযোগ পেলেও বার্সার গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়া দ্রুত এগিয়ে এসে বিপদ সামাল দেন।

এর আগে দলের ভেতরের অস্থিরতাও রিয়ালের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। মিডফিল্ডার অরেলিয়ান চুয়ামেনি সম্প্রতি সতীর্থ ফেদেরিকো ভালভার্দের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। সেই ঘটনায় ভালভার্দে চোট পেয়ে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি।
চাপের মুখে থাকা কোচ আলভারো আরবেলোয়াও দলকে ঘুরে দাঁড় করাতে পারেননি। পুরো ম্যাচেই রিয়ালকে ছন্দহীন দেখায়।
শেষ মুহূর্তে দর্শকদের কণ্ঠে “চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন” ধ্বনি গর্জে ওঠে ন্যু ক্যাম্পে। রবার্ট লেভানদোভস্কি শেষদিকে আরেকটি গোলের খুব কাছে গিয়েছিলেন, তবে ব্যবধান আর বাড়েনি।
তবুও এই রাত পুরোপুরি ছিল বার্সেলোনার। রাশফোর্ডের জাদুকরী ফ্রি-কিক আর দলীয় দাপটের ম্যাচে রিয়ালকে হারিয়ে আবারও স্পেনের সেরা ক্লাবের মুকুট পরে নিল কাতালানরা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















