০২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
জাপানের ছোট্ট চিড়িয়াখানায় ‘পাঞ্চ’-এর জাদু, একা বানরশিশুকে দেখতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের ভিড় আসিয়ানের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন তাগিদ, বোর্নিও বিদ্যুৎ গ্রিড দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ৭২ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, জলাবদ্ধতার সতর্কতা কার্বন বাজারের ভেতরের সংকট: জলবায়ু নীতি নাকি কাগুজে সংস্কার? রংপুর-রাজশাহী-ময়মনসিংহ-সিলেটে বৃষ্টির আভাস, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সতর্কতা মাদকের টাকার জন্য মাকে হত্যা, বাবা-বোনও গুরুতর আহত  যশোরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই মোটরসাইকেল আরোহীর কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে অবতরণের সময় তুর্কি এয়ারলাইন্সের বিমানে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা ২৭৭ যাত্রী আইএমএফের হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ২৯.৪৭ বিলিয়ন ডলার ময়মনসিংহে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে বেড়েই চলেছে আক্রান্তের চাপ

মোদির ‘ত্যাগের ডাক’ ঘিরে রাজনৈতিক ঝড়, পাল্টা আক্রমণে রাহুল গান্ধী

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় দেশবাসীর প্রতি একাধিক আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমানো, বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, সোনা না কেনা এবং প্রয়োজনে আবার ঘরে বসে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। তবে এই বক্তব্য ঘিরেই দেশটির রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন, এসব বক্তব্য আসলে সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও সাধারণ মানুষের কাঁধেই সব দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সংকট মোকাবিলায় মোদির আহ্বান

হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে দেশকে রক্ষা করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি জনগণকে যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ও মেট্রোর দিকে ঝুঁকতে বলেন।

আবুধাবিতে প্রথম মন্দির উদ্বোধন করছেন মোদি

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রয়োজন হলে আবারও ঘরে বসে কাজের সংস্কৃতি চালু করা যেতে পারে। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং দেশের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। পাশাপাশি বিদেশ সফর ও সোনা কেনাকাটা এক বছরের জন্য কমিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক আক্রমণে রাহুল

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, জনগণকে কী কিনতে হবে, কোথায় যেতে হবে বা কীভাবে চলতে হবে—এসব বলে দেওয়া সরকারের দায় এড়ানোর চেষ্টা।

রাহুলের ভাষায়, দেশের এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে মানুষকে প্রতিদিন নতুন নতুন ত্যাগের কথা শুনতে হচ্ছে। অথচ সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল আগেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, সরকার বারবার সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, কিন্তু নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করছে না।

কংগ্রেসের আরও সমালোচনা

K.C. Venugopal in focus as Kerala CM speculation grows, post election  results - The Hindu

কংগ্রেসের আরেক নেতা কে সি বেণুগোপালও সরকারের সমালোচনা করে বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার এতদিন পরও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি নিতে পারেনি।

তাঁর মতে, সাধারণ মানুষকে অসুবিধার মধ্যে ফেলে সংকট মোকাবিলার কথা বলা দায়িত্বশীল আচরণ নয়। বরং সরকারের উচিত পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রাখা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা করা।

আরেক নেতা কার্তি চিদাম্বরম প্রশ্ন তুলেছেন, এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো যে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি এসব আহ্বান জানাতে হচ্ছে। তিনি এ নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবিও জানান।

বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপরও।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে। সেই কারণেই সরকার আগে থেকেই সাশ্রয়ী ব্যবহারের বার্তা দিচ্ছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনা অচল

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের ছোট্ট চিড়িয়াখানায় ‘পাঞ্চ’-এর জাদু, একা বানরশিশুকে দেখতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের ভিড়

মোদির ‘ত্যাগের ডাক’ ঘিরে রাজনৈতিক ঝড়, পাল্টা আক্রমণে রাহুল গান্ধী

০১:০৭:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় দেশবাসীর প্রতি একাধিক আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমানো, বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, সোনা না কেনা এবং প্রয়োজনে আবার ঘরে বসে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। তবে এই বক্তব্য ঘিরেই দেশটির রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন, এসব বক্তব্য আসলে সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও সাধারণ মানুষের কাঁধেই সব দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সংকট মোকাবিলায় মোদির আহ্বান

হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে দেশকে রক্ষা করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি জনগণকে যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ও মেট্রোর দিকে ঝুঁকতে বলেন।

আবুধাবিতে প্রথম মন্দির উদ্বোধন করছেন মোদি

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রয়োজন হলে আবারও ঘরে বসে কাজের সংস্কৃতি চালু করা যেতে পারে। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং দেশের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। পাশাপাশি বিদেশ সফর ও সোনা কেনাকাটা এক বছরের জন্য কমিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক আক্রমণে রাহুল

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, জনগণকে কী কিনতে হবে, কোথায় যেতে হবে বা কীভাবে চলতে হবে—এসব বলে দেওয়া সরকারের দায় এড়ানোর চেষ্টা।

রাহুলের ভাষায়, দেশের এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে মানুষকে প্রতিদিন নতুন নতুন ত্যাগের কথা শুনতে হচ্ছে। অথচ সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল আগেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, সরকার বারবার সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, কিন্তু নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করছে না।

কংগ্রেসের আরও সমালোচনা

K.C. Venugopal in focus as Kerala CM speculation grows, post election  results - The Hindu

কংগ্রেসের আরেক নেতা কে সি বেণুগোপালও সরকারের সমালোচনা করে বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার এতদিন পরও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি নিতে পারেনি।

তাঁর মতে, সাধারণ মানুষকে অসুবিধার মধ্যে ফেলে সংকট মোকাবিলার কথা বলা দায়িত্বশীল আচরণ নয়। বরং সরকারের উচিত পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রাখা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা করা।

আরেক নেতা কার্তি চিদাম্বরম প্রশ্ন তুলেছেন, এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো যে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি এসব আহ্বান জানাতে হচ্ছে। তিনি এ নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবিও জানান।

বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপরও।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে। সেই কারণেই সরকার আগে থেকেই সাশ্রয়ী ব্যবহারের বার্তা দিচ্ছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনা অচল