পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া বড় কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, কেরলেও এই প্রক্রিয়ার প্রভাব পড়েছে, তবে সেখানে তার ফল উল্টোভাবে কংগ্রেসের পক্ষে গিয়েছে।
এক আন্তর্জাতিক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে থারুর বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল এবং তাদের বহু আবেদন ভোটের আগেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ভোটার তালিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন
শশী থারুরের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় প্রায় ৯১ লাখ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৪ লাখ মানুষ আপিল করে জানান যে তাঁরা বৈধ ভোটার এবং ভোট দেওয়ার অধিকার তাঁদের রয়েছে।

থারুরের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও ভোটের আগে মাত্র কয়েকশো মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ হারান।
তিনি বলেন, এখনও ৩১ থেকে ৩২ লাখ মানুষের আবেদন ঝুলে রয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁদের বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি মিলতে পারে, কিন্তু নির্বাচনের সময় তাঁরা ভোট দিতে পারেননি।
বিজেপির জয়ের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন
থারুর বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের ব্যবধান ছিল প্রায় ৩০ লাখ ভোট। তাঁর বক্তব্য, ঝুলে থাকা আপিলের সংখ্যার সঙ্গে এই ব্যবধানের মিল থাকায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বৈধ ভোটারদের একাংশ ভোট দিতে না পারায় ফলাফলে প্রভাব পড়েছে কি না।
তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ভুয়ো বা মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে তিনি নন। তাঁর মতে, প্রকৃত ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রেখেই তালিকা সংশোধনের কাজ হওয়া উচিত।
কেরলে কংগ্রেসের সুবিধার ইঙ্গিত
কেরলের পরিস্থিতি নিয়ে থারুর বলেন, সেখানে বহু বছর ধরে একই ব্যক্তির একাধিক জায়গায় নাম থাকার অভিযোগ ছিল। তাঁর দাবি, দ্বৈত বা একাধিক নাম বাদ যাওয়ায় কংগ্রেস লাভবান হয়ে থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কেরল ও তামিলনাড়ুতে খুব কম সংখ্যক আপিল জমা পড়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ লাখ আবেদন জমা পড়া পরিস্থিতির গুরুত্বই আলাদা করে তুলে ধরে।
বাংলা ও কেরলের নির্বাচনী ফল
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন জিতে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠন করে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পর ক্ষমতা হারায় তৃণমূল কংগ্রেস। দলটি পায় ৮০টি আসন। কংগ্রেস মাত্র ২টি আসনে জয় পায়। পরে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠন করে।
অন্যদিকে কেরলে বামেদের টানা ১০ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ১৪০টির মধ্যে ১০২টি আসনে জয় পায়। বাম জোট পায় ৩৫টি আসন। বিজেপি আসন সংখ্যা কিছুটা বাড়িয়ে ৩টি আসন পেলেও ভোটের হারে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।
শশী থারুরের এই মন্তব্য সামনে আসতেই নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আগামী দিনে আরও বড় আলোচনা তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















