০২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
এআই দুনিয়ার নিয়ন্ত্রণ কি কেবল ধনকুবেরদের হাতেই যাচ্ছে? জাপানের ছোট্ট চিড়িয়াখানায় ‘পাঞ্চ’-এর জাদু, একা বানরশিশুকে দেখতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের ভিড় আসিয়ানের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন তাগিদ, বোর্নিও বিদ্যুৎ গ্রিড দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ৭২ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, জলাবদ্ধতার সতর্কতা কার্বন বাজারের ভেতরের সংকট: জলবায়ু নীতি নাকি কাগুজে সংস্কার? রংপুর-রাজশাহী-ময়মনসিংহ-সিলেটে বৃষ্টির আভাস, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সতর্কতা মাদকের টাকার জন্য মাকে হত্যা, বাবা-বোনও গুরুতর আহত  যশোরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই মোটরসাইকেল আরোহীর কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে অবতরণের সময় তুর্কি এয়ারলাইন্সের বিমানে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা ২৭৭ যাত্রী আইএমএফের হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ২৯.৪৭ বিলিয়ন ডলার

ট্রাম্প-শি বৈঠক ঘিরে তাইওয়ানের শঙ্কা, ‘চমক’ এড়াতে চায় তাইপে

চীন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন বৈঠককে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ান। তাইপের আশঙ্কা, এই বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে এমন কোনও সিদ্ধান্ত বা বার্তা আসতে পারে যা দ্বীপটির নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলবে। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসও দেখিয়েছে তাইওয়ান সরকার।

তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং সোমবার জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠককে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তাইপে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য—দুই ধরনের যোগাযোগই নিয়মিতভাবে বজায় রাখা হচ্ছে।

তাইওয়ান প্রশ্নে উদ্বেগ

চীন দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে। বেইজিং কখনও শক্তি প্রয়োগের পথও পুরোপুরি নাকচ করেনি। এরই মধ্যে ট্রাম্পের বেইজিং সফর এবং শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠককে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এবার বিমানবন্দরও ট্রাম্পের নামে | আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

লিন চিয়া-লুং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার আশ্বাস দিয়েছে যে তাদের তাইওয়ান নীতিতে কোনও পরিবর্তন আসছে না। তারপরও তাইপে চাইছে, এই বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে কোনও “অপ্রত্যাশিত চমক” না আসুক।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত বাণিজ্য ও মাদক পাচারের মতো বিষয়গুলোকে আলোচনায় রাখতে চাইলেও চীন বারবার তাইওয়ান প্রশ্ন সামনে আনছে।

প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে চাপ

তাইওয়ানের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি বিরোধী দল-নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট সরকার প্রস্তাবিত বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেট কমিয়ে অনুমোদন করেছে।

এর ফলে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচির কিছু অংশ বাদ পড়েছে। এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রও।

লিন চিয়া-লুং বলেন, সংসদ যেন প্রতিরক্ষা বাজেট পুনর্বিবেচনা করে এবং নিরাপত্তা নীতিকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়, সেটিই সরকার আশা করছে। তার ভাষায়, শান্তি ধরে রাখতে হলে আত্মরক্ষার সক্ষমতা দেখাতে হবে, যাতে সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকানো যায়।

Taiwan No. 3 Makes First Japan Trip Since 1972, Irking China - Bloomberg

তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাইও বলেছেন, প্রতিরক্ষা নীতিতে আন্তর্জাতিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

চীনের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত

ট্রাম্পের চীন সফরের আগেই তাইওয়ানের আশপাশে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বেইজিং। গত সপ্তাহেও চীনের সেনাবাহিনী যৌথ যুদ্ধ প্রস্তুতি টহল পরিচালনা করেছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এসব সামরিক কার্যক্রম পুরোপুরি যৌক্তিক। বেইজিংয়ের ভাষ্য, তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামী অবস্থানই তাইওয়ান প্রণালিতে অস্থিতিশীলতার মূল কারণ।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প-শি বৈঠক শুধু দুই দেশের বাণিজ্য বা কূটনীতির জন্য নয়, পুরো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে দুই পরাশক্তির অবস্থান ভবিষ্যতের উত্তেজনার দিক নির্ধারণ করতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই দুনিয়ার নিয়ন্ত্রণ কি কেবল ধনকুবেরদের হাতেই যাচ্ছে?

ট্রাম্প-শি বৈঠক ঘিরে তাইওয়ানের শঙ্কা, ‘চমক’ এড়াতে চায় তাইপে

০১:১৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

চীন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন বৈঠককে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ান। তাইপের আশঙ্কা, এই বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে এমন কোনও সিদ্ধান্ত বা বার্তা আসতে পারে যা দ্বীপটির নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলবে। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসও দেখিয়েছে তাইওয়ান সরকার।

তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং সোমবার জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠককে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তাইপে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য—দুই ধরনের যোগাযোগই নিয়মিতভাবে বজায় রাখা হচ্ছে।

তাইওয়ান প্রশ্নে উদ্বেগ

চীন দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে। বেইজিং কখনও শক্তি প্রয়োগের পথও পুরোপুরি নাকচ করেনি। এরই মধ্যে ট্রাম্পের বেইজিং সফর এবং শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠককে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এবার বিমানবন্দরও ট্রাম্পের নামে | আন্তর্জাতিক | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

লিন চিয়া-লুং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার আশ্বাস দিয়েছে যে তাদের তাইওয়ান নীতিতে কোনও পরিবর্তন আসছে না। তারপরও তাইপে চাইছে, এই বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে কোনও “অপ্রত্যাশিত চমক” না আসুক।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত বাণিজ্য ও মাদক পাচারের মতো বিষয়গুলোকে আলোচনায় রাখতে চাইলেও চীন বারবার তাইওয়ান প্রশ্ন সামনে আনছে।

প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে চাপ

তাইওয়ানের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি বিরোধী দল-নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট সরকার প্রস্তাবিত বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেট কমিয়ে অনুমোদন করেছে।

এর ফলে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচির কিছু অংশ বাদ পড়েছে। এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রও।

লিন চিয়া-লুং বলেন, সংসদ যেন প্রতিরক্ষা বাজেট পুনর্বিবেচনা করে এবং নিরাপত্তা নীতিকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়, সেটিই সরকার আশা করছে। তার ভাষায়, শান্তি ধরে রাখতে হলে আত্মরক্ষার সক্ষমতা দেখাতে হবে, যাতে সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকানো যায়।

Taiwan No. 3 Makes First Japan Trip Since 1972, Irking China - Bloomberg

তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাইও বলেছেন, প্রতিরক্ষা নীতিতে আন্তর্জাতিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

চীনের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত

ট্রাম্পের চীন সফরের আগেই তাইওয়ানের আশপাশে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বেইজিং। গত সপ্তাহেও চীনের সেনাবাহিনী যৌথ যুদ্ধ প্রস্তুতি টহল পরিচালনা করেছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এসব সামরিক কার্যক্রম পুরোপুরি যৌক্তিক। বেইজিংয়ের ভাষ্য, তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামী অবস্থানই তাইওয়ান প্রণালিতে অস্থিতিশীলতার মূল কারণ।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প-শি বৈঠক শুধু দুই দেশের বাণিজ্য বা কূটনীতির জন্য নয়, পুরো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে দুই পরাশক্তির অবস্থান ভবিষ্যতের উত্তেজনার দিক নির্ধারণ করতে পারে।