দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের অত্যন্ত দুর্গম দ্বীপপুঞ্জ ট্রিস্টান দা কুনহায় সন্দেহজনক হান্টাভাইরাস আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে জরুরি চিকিৎসাসহায়তা দিতে বিশেষ সামরিক অভিযান চালিয়েছে ব্রিটেন। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, রয়্যাল এয়ার ফোর্সের সহায়তায় সামরিক প্যারাট্রুপার ও চিকিৎসক দল ওই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এমভি হন্ডিয়াস নামের একটি প্রমোদতরী জাহাজ সম্প্রতি দ্বীপপুঞ্জটি সফর করেছিল। সেই জাহাজে হান্টাভাইরাসের প্রাণঘাতী সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনা সামনে আসে। পরে জাহাজ থেকে নেমে ট্রিস্টান দা কুনহায় অবস্থান করা এক ব্রিটিশ নাগরিকের শরীরে হান্টাভাইরাসের সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত হয়।
দুর্গম দ্বীপে সামরিক সহায়তা
ব্রিটিশ সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ছয়জন প্যারাট্রুপার ও দুইজন সামরিক চিকিৎসককে নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে সেখানে পৌঁছায়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা।
সরকার জানায়, দ্বীপটিতে অক্সিজেনের মজুত “সংকটজনক পর্যায়ে” পৌঁছেছিল। সে কারণে আকাশপথে জরুরি অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী নামিয়ে দেওয়া হয়।
ব্রিটেনের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নস এই অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নাগরিকদের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
হান্টাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ
হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এ রোগের জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। চিকিৎসকেরা মূলত সহায়ক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করেন, যার মধ্যে অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কিন্তু ট্রিস্টান দা কুনহার মতো বিচ্ছিন্ন এলাকায় এমন চিকিৎসাসুবিধা অত্যন্ত সীমিত। প্রায় ২২১ জন বাসিন্দার এই দ্বীপপুঞ্জে মাত্র দুইজন চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন।
ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা এই দ্বীপে কোনো বিমানবন্দর নেই। সাধারণত কেবল জাহাজের মাধ্যমেই সেখানে পৌঁছানো যায়।
ব্রিটিশ সরকার বলেছে, রোগীর কাছে সময়মতো চিকিৎসাসহায়তা পৌঁছে দিতে আকাশপথে প্যারাট্রুপার নামানোই ছিল একমাত্র কার্যকর উপায়।
হাজার মাইলের অভিযাত্রা
সামরিক দলটি প্রথমে ইংল্যান্ডের একটি ঘাঁটি থেকে চার হাজার মাইলের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে অ্যাসেনশন দ্বীপে পৌঁছায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এমভি হন্ডিয়াস জাহাজটিও আগে সেখানে থেমেছিল। পরে সেখান থেকে আরও প্রায় দুই হাজার মাইল ভ্রমণ করে তারা ট্রিস্টান দা কুনহায় যায়।
এদিকে প্রমোদতরী জাহাজে থাকা অন্য ব্রিটিশ যাত্রীদেরও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তারা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর পর চার্টার্ড ফ্লাইটে ব্রিটেনে ফিরছিলেন। এখন পর্যন্ত তাদের কারও শরীরে উপসর্গ দেখা যায়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের ৪৫ দিনের জন্য বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।
দক্ষিণ আটলান্টিকের এই বিরল সামরিক চিকিৎসা অভিযান আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক সামরিক সহায়তার এই উদাহরণ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
দক্ষিণ আটলান্টিকে সন্দেহজনক হান্টাভাইরাস রোগীর জন্য জরুরি সামরিক চিকিৎসা অভিযান চালিয়েছে ব্রিটেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















