০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ, প্রায় ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বলল মেক্সিকোর শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি সাইবার প্রতারণা দমনে কঠোর আইন, মৃত্যুদণ্ডের বিধান অনুমোদন করল মিয়ানমারের জান্তা যুক্তরাষ্ট্রের ছাতার নিচে কতটা নিরাপদ জাপানের ইয়েন? রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত অন্তত ১৭ মিয়ানমারের পাহাড়ে শুরু হয়েছে ২১ শতকের নতুন ‘গ্রেট গেম’  ও বাংলাদেশ    এআই কর্মসংস্থান, ফেডের নতুন দিকনির্দেশনা ও মূল্যস্ফীতির বৈষম্য—বিশ্ব অর্থনীতিতে তিন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন মোদির ভিডিও সরানো বিতর্ক: তিন দিনের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে মেটার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা হারানোর হুঁশিয়ারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাকরি-ঝড়, নতুন ফেড ও ‘দুই গতির’ মূল্যস্ফীতি: বিশ্ব অর্থনীতি কোন মোড়ে দাঁড়িয়ে?

জেটব্লুর নতুন লড়াই, স্পিরিটের পতনের সুযোগে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে জেটব্লু এয়ারওয়েজের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা এই এয়ারলাইন এখন স্পিরিট এয়ারলাইন্সের বন্ধ হয়ে যাওয়াকে নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল-হলিউড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে জোরালো পরিকল্পনা শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্পিরিট এয়ারলাইন্স কার্যক্রম বন্ধ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেটব্লু ঘোষণা দেয়, তারা ওই বিমানবন্দর থেকে দুই ডজনের বেশি নতুন ফ্লাইট চালু করবে। একসময় কম খরচের জনপ্রিয় এয়ারলাইন হিসেবে পরিচিত জেটব্লু এখন নিজেদের ব্যবসাকে নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টায় ব্যস্ত।

লোকসান আর ঋণের চাপ

গত কয়েক বছরে জেটব্লুর আর্থিক অবস্থা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। ২০১৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে লোকসান গুনছে। একই সময়ে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ, অথচ আয় বেড়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ। বর্তমানে তাদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮৫০ কোটি ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, জেটব্লুর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—তারা বড় এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করার মতো শক্তিশালী নয়, আবার স্পিরিটের মতো কম ভাড়ার ব্যবসায়িক মডেলেও পুরোপুরি যেতে পারছে না। ফলে মাঝামাঝি এক কঠিন অবস্থায় আটকে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যর্থ জোট আর নতুন চ্যালেঞ্জ

জেটব্লু নিজেদের শক্তিশালী করতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০২০ সালে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে তারা। পরে স্পিরিট এয়ারলাইন্সকে কিনে নেওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আদালতে আপত্তি জানালে দুটি উদ্যোগই ভেস্তে যায়।

এর পাশাপাশি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির কিছু বিমানের ইঞ্জিন সমস্যার কারণে জেটব্লুকে একাধিক উড়োজাহাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় আরও বেড়েছে।

For Struggling JetBlue, Spirit's Demise May Offer an Opportunity :: WRAL.com

নতুন কৌশলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

বর্তমানে জেটব্লু “জেটফরোয়ার্ড” নামে একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো উন্নত সেবা দেওয়া, লাভজনক রুট বাড়ানো, উচ্চ আয়ের যাত্রীদের আকৃষ্ট করা এবং আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা।

প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে কম লাভজনক কিছু ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও পিছিয়ে দিয়েছে। এছাড়া ধনী গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধাসহ নতুন ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রথম শ্রেণির আসন চালুর পরিকল্পনা করছে।

ফোর্ট লডারডেলে বড় বাজি

জেটব্লুর বর্তমান কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু এখন ফোর্ট লডারডেল। স্পিরিটের পতনের পর এই বিমানবন্দরে জেটব্লুই এখন সবচেয়ে বড় এয়ারলাইন। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা দ্বিতীয় বৃহত্তম এয়ারলাইন ডেলটার চেয়েও দ্বিগুণের বেশি।

জেটব্লুর প্রধান নির্বাহী জোয়ানা গেরাঘটি কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় বলেছেন, এই পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠানটির জন্য “এক প্রজন্মে একবার আসা সুযোগ” তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন নতুন ২৭টি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে নতুন রুটও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জেটব্লুর সেবা ও গ্রাহকভিত্তি এখনও শক্তিশালী। তবে নিউইয়র্ক ও বোস্টনের মতো বড় বাজারে ডেলটার সঙ্গে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে না। তাই দক্ষিণ ফ্লোরিডায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করেই নতুন প্রবৃদ্ধির পথ খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি।

জেটব্লুর নতুন কৌশল ও স্পিরিটের পতন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান খাতে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই সুযোগকে কতটা কাজে লাগাতে পারে দীর্ঘদিনের সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানটি।

জেটব্লুর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই ও স্পিরিটের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান খাতে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা

জেটব্লুর নতুন লড়াই, স্পিরিটের পতনের সুযোগে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

০৬:২১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে জেটব্লু এয়ারওয়েজের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা এই এয়ারলাইন এখন স্পিরিট এয়ারলাইন্সের বন্ধ হয়ে যাওয়াকে নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল-হলিউড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে জোরালো পরিকল্পনা শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্পিরিট এয়ারলাইন্স কার্যক্রম বন্ধ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেটব্লু ঘোষণা দেয়, তারা ওই বিমানবন্দর থেকে দুই ডজনের বেশি নতুন ফ্লাইট চালু করবে। একসময় কম খরচের জনপ্রিয় এয়ারলাইন হিসেবে পরিচিত জেটব্লু এখন নিজেদের ব্যবসাকে নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টায় ব্যস্ত।

লোকসান আর ঋণের চাপ

গত কয়েক বছরে জেটব্লুর আর্থিক অবস্থা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। ২০১৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে লোকসান গুনছে। একই সময়ে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ, অথচ আয় বেড়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ। বর্তমানে তাদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮৫০ কোটি ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, জেটব্লুর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—তারা বড় এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করার মতো শক্তিশালী নয়, আবার স্পিরিটের মতো কম ভাড়ার ব্যবসায়িক মডেলেও পুরোপুরি যেতে পারছে না। ফলে মাঝামাঝি এক কঠিন অবস্থায় আটকে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যর্থ জোট আর নতুন চ্যালেঞ্জ

জেটব্লু নিজেদের শক্তিশালী করতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০২০ সালে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে তারা। পরে স্পিরিট এয়ারলাইন্সকে কিনে নেওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আদালতে আপত্তি জানালে দুটি উদ্যোগই ভেস্তে যায়।

এর পাশাপাশি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির কিছু বিমানের ইঞ্জিন সমস্যার কারণে জেটব্লুকে একাধিক উড়োজাহাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় আরও বেড়েছে।

For Struggling JetBlue, Spirit's Demise May Offer an Opportunity :: WRAL.com

নতুন কৌশলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

বর্তমানে জেটব্লু “জেটফরোয়ার্ড” নামে একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো উন্নত সেবা দেওয়া, লাভজনক রুট বাড়ানো, উচ্চ আয়ের যাত্রীদের আকৃষ্ট করা এবং আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা।

প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে কম লাভজনক কিছু ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও পিছিয়ে দিয়েছে। এছাড়া ধনী গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধাসহ নতুন ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রথম শ্রেণির আসন চালুর পরিকল্পনা করছে।

ফোর্ট লডারডেলে বড় বাজি

জেটব্লুর বর্তমান কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু এখন ফোর্ট লডারডেল। স্পিরিটের পতনের পর এই বিমানবন্দরে জেটব্লুই এখন সবচেয়ে বড় এয়ারলাইন। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা দ্বিতীয় বৃহত্তম এয়ারলাইন ডেলটার চেয়েও দ্বিগুণের বেশি।

জেটব্লুর প্রধান নির্বাহী জোয়ানা গেরাঘটি কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় বলেছেন, এই পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠানটির জন্য “এক প্রজন্মে একবার আসা সুযোগ” তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন নতুন ২৭টি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে নতুন রুটও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জেটব্লুর সেবা ও গ্রাহকভিত্তি এখনও শক্তিশালী। তবে নিউইয়র্ক ও বোস্টনের মতো বড় বাজারে ডেলটার সঙ্গে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে না। তাই দক্ষিণ ফ্লোরিডায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করেই নতুন প্রবৃদ্ধির পথ খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি।

জেটব্লুর নতুন কৌশল ও স্পিরিটের পতন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান খাতে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই সুযোগকে কতটা কাজে লাগাতে পারে দীর্ঘদিনের সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানটি।

জেটব্লুর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই ও স্পিরিটের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান খাতে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।