বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব এবার সরাসরি পৌঁছে গেছে সবজি ও ফলের বাজারে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষক, পাইকার, পরিবেশক থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা—সবাই বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সবজি ও ফল কিনতে এখন আগের চেয়ে বেশি খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম খাদ্য বিতরণকেন্দ্রগুলোর একটি নিউইয়র্কের হান্টস পয়েন্ট বাজারে এখন এই সংকট সবচেয়ে স্পষ্ট। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ট্রাকে করে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে সবজি আনা হচ্ছে। ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় একই রুটে পণ্য পরিবহনের খরচ গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বেড়ে গেছে। ফলে বাজারে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে।
পরিবহন ব্যয়ের ধাক্কা
খাদ্য পরিবেশকরা বলছেন, জ্বালানি এমন একটি উপাদান যা পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে জড়িয়ে আছে। খামার থেকে গুদাম, গুদাম থেকে দোকান—সব জায়গাতেই ডিজেল বা জ্বালানি লাগে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়ে।
অনেক ব্যবসায়ী এখন বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ সরাসরি ক্রেতার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ অ্যাভোকাডো, লেবু কিংবা কলার প্রতিটি বাক্সে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ যোগ করছেন। তবে সবাই তা করতে পারছেন না। কারণ দাম বাড়ালে বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে যেসব পণ্য মানুষ তুলনামূলক কম দামে কিনতে অভ্যস্ত, সেগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা আরও সতর্ক।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় নতুন সংকট
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এর পর থেকেই তেল ও ডিজেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সেই ধাক্কা এখন খাদ্য খাতেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফল ও সবজি সবচেয়ে আগে এই সংকটের আঘাত পায়। কারণ এসব পণ্য দ্রুত পরিবহন করতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাও প্রয়োজন হয়। এতে খরচ আরও বেড়ে যায়।
উদাহরণ হিসেবে অ্যাসপারাগাসের কথা বলা হচ্ছে। আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ কমে গেছে, আবার বিমান ও ট্রাক পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় একই পরিমাণ অ্যাসপারাগাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
কৃষকদের টিকে থাকার লড়াই
শুধু ব্যবসায়ী নন, কৃষকরাও চাপে রয়েছেন। পরিবহন খরচের পাশাপাশি সার ও উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। অনেক কৃষক এখন নতুন দামে চুক্তি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে ফসল উৎপাদন করেও লাভ থাকবে না।
কৃষকদের আশঙ্কা, যদি জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় আরও বাড়ে, তাহলে ছোট ও মাঝারি খামারগুলোর জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ উৎপাদনের পর পণ্য বাজারে পাঠাতেই বড় অংশের আয় খরচ হয়ে যাচ্ছে।
সামনের দিন নিয়ে উদ্বেগ
খাদ্য খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে যে সামনে আরও মূল্যবৃদ্ধি আসতে পারে। পরিবহন ব্যয়ের সঙ্গে প্যাকেজিং ও সারের খরচও বাড়ছে। ফলে বাজারে ফল ও সবজির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে অনেক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ব্যয় নিজেরা বহন করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা সম্ভব হচ্ছে না। তাই শেষ পর্যন্ত বাড়তি খরচ সাধারণ ক্রেতাদেরই বহন করতে হতে পারে।
জ্বালানির দাম বাড়ায় বিশ্ববাজারে ফল ও সবজির দাম বাড়ছে, চাপে কৃষক-ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















