০৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ইউরোপযাত্রা: স্থিতিশীলতার পরীক্ষায় দেশীয় নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রশ্ন জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ, প্রায় ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বলল মেক্সিকোর শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি সাইবার প্রতারণা দমনে কঠোর আইন, মৃত্যুদণ্ডের বিধান অনুমোদন করল মিয়ানমারের জান্তা যুক্তরাষ্ট্রের ছাতার নিচে কতটা নিরাপদ জাপানের ইয়েন? রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত অন্তত ১৭ মিয়ানমারের পাহাড়ে শুরু হয়েছে ২১ শতকের নতুন ‘গ্রেট গেম’  ও বাংলাদেশ    এআই কর্মসংস্থান, ফেডের নতুন দিকনির্দেশনা ও মূল্যস্ফীতির বৈষম্য—বিশ্ব অর্থনীতিতে তিন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন মোদির ভিডিও সরানো বিতর্ক: তিন দিনের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে মেটার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা হারানোর হুঁশিয়ারি

ইরান যুদ্ধের উত্তাপে প্রাকৃতিক রাবারের দামে উল্লম্ফন, সুবিধায় এশিয়ার উৎপাদকরা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক প্রাকৃতিক রাবার বাজারে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সিনথেটিক রাবারের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, আর সেই সুযোগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক রাবারের দাম পৌঁছে গেছে প্রায় নয় বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে। এতে সুবিধা পাচ্ছে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো এশিয়ার বড় রাবার উৎপাদক দেশগুলো।

থাইল্যান্ডের বৃহত্তম রাবার উৎপাদক প্রতিষ্ঠান শ্রী ট্রাং অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রির প্রধান নির্বাহী ভিরাসিথ সিনচারেওনকুল জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে সরবরাহ ঝুঁকির আশঙ্কায় টায়ার নির্মাতা ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন অতিরিক্ত মজুত গড়ে তুলছে। সাধারণত যেখানে এক থেকে দুই মাসের রাবার মজুত রাখা হতো, এখন অনেক ক্রেতা তিন মাস পর্যন্ত মজুত রাখার পরিকল্পনা করছে।

সিনথেটিক রাবারের বদলে প্রাকৃতিক রাবারের দিকে ঝোঁক

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণে পেট্রোলিয়ামভিত্তিক সিনথেটিক রাবারের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক রাবারের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে টায়ার ও গ্লাভস উৎপাদনে প্রাকৃতিক রাবার আংশিক বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, টিএসআর২০ গ্রেডের রাবারের ফিউচার মূল্য ৭ মে প্রতি কেজিতে ২ দশমিক ২২ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। চলতি বছরের শুরু থেকেই এই দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বিশ্ববাজারে থাইল্যান্ডের আধিপত্য

ব্যাংক অব আয়ুধিয়ার গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের মোট প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদনের ৩৪ শতাংশ এসেছে থাইল্যান্ড থেকে। এর পরেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, আইভরি কোস্ট ও ভিয়েতনাম। ওই বছর বিশ্বে মোট রাবার উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ মেট্রিক টন।

শ্রী ট্রাং অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি রাবার গাছের চাষ থেকে শুরু করে গ্লাভসের মতো চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে কাজ করে। ২০২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল ১১ হাজার ৩৪০ কোটি বাত। তবে একই বছরে কোম্পানিটি লোকসানে পড়ে। তারপরও বর্তমান মূল্য পরিস্থিতি ধরে থাকলে মুনাফায় ফেরার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

Middle East war lifts natural rubber as firms shift from pricier synthetics  - CHOSUNBIZ

চীনের চাহিদা এখনও শক্তিশালী

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক রাবার ভোক্তা দেশ চীন। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক মোট চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশই এসেছে দেশটি থেকে। চীনের বিশাল টায়ার শিল্প এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার সম্প্রসারণ এর বড় কারণ। মিশেলিন, গুডইয়ার, ব্রিজস্টোনের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পাশাপাশি স্থানীয় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোও দ্রুত উৎপাদন বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য উচ্চমানের টায়ার উৎপাদনে উন্নত মানের প্রাকৃতিক রাবারের চাহিদা আরও বাড়বে। কারণ বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির অতিরিক্ত ওজন ও উচ্চ গতির কারণে টায়ারে বেশি টর্ক ও ক্ষয় সহ্য করার সক্ষমতা প্রয়োজন হয়।

বাড়তে পারে টায়ারের দাম

রাবারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি ভোক্তাপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা। থাইল্যান্ডে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনাকারী একটি জাপানি টায়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্চ থেকেই তারা বাড়তি রাবার মূল্যের চাপ পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে টায়ারের খুচরা মূল্য বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে প্রতি কেজি রাবারের দাম ২ ডলারের ওপরে থাকাকে “স্বাস্থ্যকর” বলে মনে করছে শ্রী ট্রাং অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি। প্রতিষ্ঠানটি এ বছর বিক্রয় পরিমাণ ১৪ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ১৬ লাখ টনে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে প্রাকৃতিক রাবারের বাজারে বড় উত্থান, এশিয়ার উৎপাদকরা পাচ্ছে নতুন সুযোগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ইউরোপযাত্রা: স্থিতিশীলতার পরীক্ষায় দেশীয় নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রশ্ন

ইরান যুদ্ধের উত্তাপে প্রাকৃতিক রাবারের দামে উল্লম্ফন, সুবিধায় এশিয়ার উৎপাদকরা

০৫:৩৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক প্রাকৃতিক রাবার বাজারে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সিনথেটিক রাবারের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, আর সেই সুযোগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক রাবারের দাম পৌঁছে গেছে প্রায় নয় বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে। এতে সুবিধা পাচ্ছে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো এশিয়ার বড় রাবার উৎপাদক দেশগুলো।

থাইল্যান্ডের বৃহত্তম রাবার উৎপাদক প্রতিষ্ঠান শ্রী ট্রাং অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রির প্রধান নির্বাহী ভিরাসিথ সিনচারেওনকুল জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে সরবরাহ ঝুঁকির আশঙ্কায় টায়ার নির্মাতা ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন অতিরিক্ত মজুত গড়ে তুলছে। সাধারণত যেখানে এক থেকে দুই মাসের রাবার মজুত রাখা হতো, এখন অনেক ক্রেতা তিন মাস পর্যন্ত মজুত রাখার পরিকল্পনা করছে।

সিনথেটিক রাবারের বদলে প্রাকৃতিক রাবারের দিকে ঝোঁক

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণে পেট্রোলিয়ামভিত্তিক সিনথেটিক রাবারের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক রাবারের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে টায়ার ও গ্লাভস উৎপাদনে প্রাকৃতিক রাবার আংশিক বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, টিএসআর২০ গ্রেডের রাবারের ফিউচার মূল্য ৭ মে প্রতি কেজিতে ২ দশমিক ২২ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। চলতি বছরের শুরু থেকেই এই দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বিশ্ববাজারে থাইল্যান্ডের আধিপত্য

ব্যাংক অব আয়ুধিয়ার গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের মোট প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদনের ৩৪ শতাংশ এসেছে থাইল্যান্ড থেকে। এর পরেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, আইভরি কোস্ট ও ভিয়েতনাম। ওই বছর বিশ্বে মোট রাবার উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ মেট্রিক টন।

শ্রী ট্রাং অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি রাবার গাছের চাষ থেকে শুরু করে গ্লাভসের মতো চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে কাজ করে। ২০২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল ১১ হাজার ৩৪০ কোটি বাত। তবে একই বছরে কোম্পানিটি লোকসানে পড়ে। তারপরও বর্তমান মূল্য পরিস্থিতি ধরে থাকলে মুনাফায় ফেরার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

Middle East war lifts natural rubber as firms shift from pricier synthetics  - CHOSUNBIZ

চীনের চাহিদা এখনও শক্তিশালী

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক রাবার ভোক্তা দেশ চীন। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক মোট চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশই এসেছে দেশটি থেকে। চীনের বিশাল টায়ার শিল্প এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার সম্প্রসারণ এর বড় কারণ। মিশেলিন, গুডইয়ার, ব্রিজস্টোনের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পাশাপাশি স্থানীয় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোও দ্রুত উৎপাদন বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য উচ্চমানের টায়ার উৎপাদনে উন্নত মানের প্রাকৃতিক রাবারের চাহিদা আরও বাড়বে। কারণ বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির অতিরিক্ত ওজন ও উচ্চ গতির কারণে টায়ারে বেশি টর্ক ও ক্ষয় সহ্য করার সক্ষমতা প্রয়োজন হয়।

বাড়তে পারে টায়ারের দাম

রাবারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি ভোক্তাপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা। থাইল্যান্ডে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনাকারী একটি জাপানি টায়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্চ থেকেই তারা বাড়তি রাবার মূল্যের চাপ পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে টায়ারের খুচরা মূল্য বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে প্রতি কেজি রাবারের দাম ২ ডলারের ওপরে থাকাকে “স্বাস্থ্যকর” বলে মনে করছে শ্রী ট্রাং অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি। প্রতিষ্ঠানটি এ বছর বিক্রয় পরিমাণ ১৪ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ১৬ লাখ টনে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে প্রাকৃতিক রাবারের বাজারে বড় উত্থান, এশিয়ার উৎপাদকরা পাচ্ছে নতুন সুযোগ।