জাপানের বড় অ্যালুমিনিয়াম উপাদান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অল্টেমিরা হোল্ডিংস অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছে এশিয়াভিত্তিক প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান এমবিকে পার্টনার্স। জাপানের বৈদেশিক বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিরাপত্তা যাচাই শেষে সম্প্রতি এই চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
চুক্তির মোট মূল্য ঋণসহ প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ইয়েন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকার সমান। চলতি বছর জাপানে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে বাড়তি সতর্কতার মধ্যে এই অনুমোদনকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর অনুমোদন
জাপানের বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক বাণিজ্য আইন অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত খাতে বিদেশি বিনিয়োগের আগে সরকারি পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক। অল্টেমিরা আংশিকভাবে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উপাদান উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এমবিকেকে আগাম সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
২০২৩ সালে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি খাতকে জাপান “কোর ইন্ডাস্ট্রি” বা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের তালিকায় যুক্ত করে। এর পেছনে মূল কারণ ছিল প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহৃত প্রযুক্তির নিরাপত্তা এবং ব্যাটারি প্রযুক্তিতে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো।
দুই মাসেই মিলল অনুমোদন
অল্টেমিরা অধিগ্রহণের অনুমোদন পেতে এমবিকের সময় লেগেছে মাত্র দুই মাস। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত করছে যে জাপান সরকার এই চুক্তিকে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
এর ঠিক আগে জাপানের মেশিন টুল নির্মাতা মাকিনো মিলিং মেশিন অধিগ্রহণের পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয় এমবিকে। সরকার ওই চুক্তি থামানোর আহ্বান জানালে প্রতিষ্ঠানটি পরিকল্পনা বাতিল করে। ২০১৭ সালে আইন সংশোধনের পর সেটিই ছিল প্রথম ঘটনা, যেখানে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিদেশি অধিগ্রহণ বন্ধের আহ্বান জানায়।
মাকিনোর তৈরি যন্ত্রপাতি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে ব্যবহৃত হওয়ায় তথ্য ফাঁসের আশঙ্কাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখেছিল জাপানি কর্তৃপক্ষ। সেই পর্যালোচনা শেষ হতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগে।
অল্টেমিরার ব্যবসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অল্টেমিরা মূলত অ্যালুমিনিয়ামের ক্যান এবং শিল্পখাতে ব্যবহৃত বিভিন্ন অ্যালুমিনিয়াম উপাদান তৈরি করে। বছরে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি প্রায় ২০০ বিলিয়ন ইয়েন। জাপানের অ্যালুমিনিয়াম ক্যান উৎপাদন বাজারে তারা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এই খাতে শীর্ষে রয়েছে টোয়ো সেইকান।
সাবেক শোওয়া ডেনকো এবং মিতসুবিশি ম্যাটেরিয়ালসের অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসা একীভূত করে অল্টেমিরা গঠন করা হয়। ২০২২ সালে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিটি অধিগ্রহণ করে। এখন অ্যাপোলোর কাছ থেকেই অল্টেমিরা কিনছে এমবিকে।
অল্টেমিরা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে ভিয়েতনামে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং হালকা ওজনের গাড়ির চাহিদা মাথায় রেখে নতুন ধরনের অ্যালুমিনিয়াম উপাদান তৈরির উদ্যোগও রয়েছে তাদের।
জাপানে বিদেশি বিনিয়োগে বাড়তি নজর
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান সরকার অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাটারি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, আধুনিক প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে কড়া অবস্থান দেখা যাচ্ছে।
অল্টেমিরা চুক্তিতে দ্রুত অনুমোদন মিললেও মাকিনো ঘটনার পর স্পষ্ট হয়েছে, জাপান এখন প্রতিটি বড় বিদেশি বিনিয়োগকে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
জাপানে বিদেশি বিনিয়োগ ও অল্টেমিরা অধিগ্রহণ
জাপানের কৌশলগত শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে নতুন নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্যে অল্টেমিরা অধিগ্রহণে অনুমোদন পেল এমবিকে পার্টনার্স।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















