ডায়াবেটিস আর স্থূলতা ঠেকাতে এতদিন ধরে মানুষকে বলা হয়েছে কম খেতে, লোভ সামলাতে আর প্রিয় খাবার থেকে দূরে থাকতে। কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, সমস্যার মূল হয়তো অতিরিক্ত আনন্দে নয়, বরং খাবার ঠিকমতো উপভোগ না করার মধ্যেই লুকিয়ে আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবারকে আনন্দের সঙ্গে খেতে পারলে মানুষ কম খেয়েও বেশি তৃপ্ত থাকতে পারে।
বিশ্বজুড়ে স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ওজন কমানোর ওষুধের ব্যবহারও। এতদিন ধারণা ছিল, সুস্বাদু ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ মানুষকে বেশি খেতে বাধ্য করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মানুষের মস্তিষ্কে খাবার নিয়ে কাজ করা আনন্দ ও তৃপ্তির প্রক্রিয়া আসলে আরও জটিল।
স্বাদ থেকে স্বাস্থ্যকর জীবনে ফেরা
খাদ্যাভ্যাস ও মস্তিষ্ক নিয়ে কাজ করা গবেষক ডানা স্মল নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এই ধারণাকে গুরুত্ব দেন। প্রিডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর তিনি প্রচলিত কড়া ডায়েটের পথে না গিয়ে এমন খাবার বেছে নেন যেগুলো স্বাস্থ্যকর হলেও খেতে আনন্দ লাগে। তিনি মিষ্টি ও পাকা ফল, মশলাযুক্ত সবজি, মুরগি বা টোফু দিয়ে তৈরি খাবারকে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখেন।
তার মতে, মানুষ যখন সত্যিকারের উপভোগ করে খায়, তখন অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। ধীরে ধীরে তিনি ওজন কমাতে সক্ষম হন এবং প্রিডায়াবেটিস থেকেও বেরিয়ে আসেন। গবেষণায় তিনি দেখানোর চেষ্টা করেছেন, আনন্দ নিয়ে খাওয়া সবসময় অতিরিক্ত খাওয়ার কারণ নয়।
![]()
অতিরিক্ত খাওয়ার আসল কারণ কী
অনেক গবেষক মনে করেন, অতিরিক্ত চিনি ও সহজ শর্করা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দেয়। এই ওঠানামার কারণেই মানুষ বারবার ক্ষুধা অনুভব করে এবং বেশি খায়। অর্থাৎ শুধু স্বাদ নয়, শরীরের ভেতরের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়াও বড় ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত খাবার সবসময় সবচেয়ে সুস্বাদু হয় না। বরং সেগুলোর উপাদান এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে শরীর দ্রুত আরও খাবার চায়। তাই আনন্দের সঙ্গে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
শিশুদের খাবারের অভ্যাস নিয়েও উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের কাছে ফল ও সবজিকে আকর্ষণীয় করে তোলা জরুরি। কারণ বিজ্ঞাপন ও বাজারজাতকরণের কারণে শিশুরা প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। স্বাস্থ্যকর খাবারকে আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরতে না পারলে ভবিষ্যতে খাদ্যাভ্যাস বদলানো কঠিন হয়ে যায়।
মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার নতুন ধারণা
খাবার ধীরে ধীরে এবং মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাসকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পদ্ধতিতে খাবারের গন্ধ, স্বাদ ও অনুভূতির দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়। এতে মানুষ দ্রুত পেট ভরে যাওয়ার সংকেত বুঝতে পারে এবং কম খাবারেই তৃপ্তি অনুভব করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবন মানেই শুধু নিয়ম আর বঞ্চনা নয়। আনন্দ, সামাজিকতা এবং তৃপ্তিও সুস্থ থাকার বড় অংশ হতে পারে। তাই খাবারের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে নতুনভাবে দেখার সময় এসেছে।
স্বাস্থ্যকর খাবারকে আনন্দের সঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস ডায়াবেটিস ও স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















