ইন্দোনেশিয়াজুড়ে পরিচালিত সরকারি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বিপুল সংখ্যক শিশুর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়েছে। দেশটির সরকার পরিচালিত বিনামূল্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় চলতি বছরের শুরু থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় ৪৮ লাখ শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা গেছে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিশুদের প্রায় ২২ শতাংশের রক্তচাপ বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬ লাখ ৬৩ হাজার শিশুর শরীরে উচ্চ রক্তচাপের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, শিশুদের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এর পেছনে বড় কারণ হতে পারে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা
ইন্দোনেশিয়ার সরকারি যোগাযোগ সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ কোদারি জানিয়েছেন, এত অল্প বয়সে শিশুদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ দেখা যাওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তার মতে, এই প্রবণতা ভবিষ্যতে হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলকে চূড়ান্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে না। যেসব শিশুর রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে, তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।

শিশুদের রক্তচাপ মাপা কেন জটিল
শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৩ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে রক্তচাপের মান অনেকটা প্রাপ্তবয়স্কদের মতো বিবেচনা করা যায়। তবে ১৩ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। কারণ শারীরিক সক্রিয়তা, মানসিক অবস্থা কিংবা আগে থেকে থাকা শারীরিক সমস্যার কারণে রক্তচাপের মাত্রা ওঠানামা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শিশুদের নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক এলাকায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিশুদের জন্য উপযোগী রক্তচাপ মাপার কাফ সহজলভ্য নয়।
অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রভাব
চিকিৎসকদের ধারণা, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, সংরক্ষণকারী রাসায়নিকযুক্ত খাদ্য এবং পর্যাপ্ত পানি না খাওয়ার প্রবণতা শিশুদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তারা বলছেন, শিশুদের খাদ্যতালিকায় শিল্পকারখানায় তৈরি অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার বাড়ানো জরুরি।
একজন অভিভাবক জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তিনি নিজের সন্তানের খাবার নিয়ে আরও সচেতন হয়েছেন। তিনি এখন ফাস্ট ফুড এড়িয়ে ঘরে তৈরি খাবারের ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন, যাতে খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুষ্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়লেও বাস্তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এখনও বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। শিশুদের সুস্থ রাখতে পরিবার, স্কুল এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলেও তারা মত দিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















