ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালির কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখতে নতুন উৎসের দিকে ঝুঁকছে জাপান। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো আজারবাইজান থেকে অপরিশোধিত তেলের চালান পৌঁছেছে দেশটিতে।
মঙ্গলবার জাপানের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এনিওস জানিয়েছে, প্রায় ৪৫ হাজার কিলোলিটার অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি ট্যাংকার ইয়োকোহামায় তাদের শোধনাগারে পৌঁছেছে। কোম্পানির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, মধ্য এশিয়ার দেশ আজারবাইজান থেকে এই প্রথম জাপানে তেলের চালান এলো।
হরমুজ সংকটের প্রভাব
জাপানের শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে জাপান বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ জোরদার করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানির প্রধান পথ। এই রুটে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় জাপানের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিকল্প উৎসে জাপানের কৌশল
আজারবাইজানের চালানের আগে এপ্রিলের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি করে জাপান। এছাড়া চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়া থেকেও তেলের চালান গ্রহণ করা হয়েছে।
![]()
বিশ্লেষকদের মতে, জাপান এখন একক অঞ্চল বা রুটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়ায় দেশটি নতুন অংশীদার খুঁজছে।
এনিওস জানিয়েছে, জাপানে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা শিল্প মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চালিয়ে যাবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
জাপান বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সম্পদ সীমিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার ও সমুদ্রপথের স্থিতিশীলতার ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আজারবাইজান থেকে তেল আমদানি শুধু নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইঙ্গিত নয়, বরং জাপানের জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশলেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে মধ্য এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে জাপানের জ্বালানি সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে।
জাপানে প্রথমবার আজারবাইজানের তেল পৌঁছানোকে হরমুজ সংকট মোকাবিলায় টোকিওর বিকল্প জ্বালানি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















