ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে লেবার পার্টির ভেতরে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলটির ভেতর থেকেই তার পদত্যাগ দাবি জোরালো হচ্ছে। একের পর এক মন্ত্রী ও এমপি প্রকাশ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান জানানোয় স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন শিশু সুরক্ষা ও নারী নির্যাতনবিষয়ক মন্ত্রী জেস ফিলিপস পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি সরকারের “বিপর্যয়কর ভুল” এবং সিদ্ধান্তহীনতার সমালোচনা করেন। তার আগে মিয়াট্টা ফাহনবুলেহ ও অ্যালেক্স ডেভিস-জোন্সও মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন।
দলের ভেতরে ক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল, অর্থনৈতিক চাপ এবং সরকারের নীতিগত দুর্বলতা। অনেক এমপি মনে করছেন, স্টারমার জনগণের আস্থা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং দলকে নতুন নেতৃত্বের দিকে যেতে হবে।
দলীয় বিদ্রোহ বাড়ছে
লেবার পার্টির অন্তত ৮৫ জন এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। এই সংখ্যা নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় সীমার চেয়েও বেশি। যদিও এখনো কোনো একক প্রার্থীর পক্ষে সবাই একজোট হননি, তবু পরিস্থিতিকে স্টারমারের জন্য বড় রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নাম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে। তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তিনি সংসদে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামতে পারেন।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংকেও সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্টারমারের ঘনিষ্ঠরা অভিযোগ তুলেছেন, স্ট্রিটিংপন্থী এমপিরাই বিদ্রোহকে উসকে দিচ্ছেন।
স্টারমারের অবস্থান
চাপের মুখেও স্টারমার এখনই সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন এবং এখনো আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা শুরু হয়নি। তার মতে, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ক্যাবিনেটের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্য প্রকাশ্যে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংকটের সময় ব্রিটেনের স্থিতিশীল নেতৃত্ব দরকার। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন প্যাট ম্যাকফ্যাডেন ও ড্যারেন জোনসও।
অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে আর্থিক বাজারেও পড়েছে। ব্রিটিশ সরকারের ঋণ গ্রহণ ব্যয় বেড়েছে এবং বন্ড মার্কেটে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্ব পরিবর্তনের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। স্টারমার মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল রাখা এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমার আপাতত টিকে থাকার চেষ্টা করলেও দলীয় চাপ যদি আরও বাড়ে, তাহলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















