দেশের শিল্প খাতের সবচেয়ে বড় সংকট এখন জ্বালানি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। তিনি বলেছেন, কর বা আয়কর নিয়ে আলোচনা থাকলেও শিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে জ্বালানি খাতের অস্থিরতা।
তিনি জানান, জ্বালানির ঘাটতির কারণে উৎপাদন ও শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন প্রতি বছর কমছে, যা শিল্প খাতের জন্য নতুন চাপ তৈরি করছে। একই সময়ে গ্যাস আমদানির সক্ষমতাও সীমিত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
গ্যাস সংকট বাড়ছে
আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, দেশে বর্তমানে গ্যাস আমদানির জন্য মাত্র দুটি এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। নতুন টার্মিনাল স্থাপন করতে গেলেও তা চালু হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে স্বল্পমেয়াদে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
তার মতে, এ সংকট দীর্ঘমেয়াদে শিল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসনির্ভর শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

নিজস্ব কয়লা ব্যবহারের প্রস্তাব
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় দেশের নিজস্ব কয়লা সম্পদ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। বড়পুকুরিয়ার কয়লা রিজার্ভকে কাজে লাগিয়ে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানান।
তার দাবি, দেশের বিদ্যমান কয়লা মজুত ব্যবহার করে আগামী ৩০ বছর পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখা সহজ হবে এবং শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার তাগিদ
তিনি আরও বলেন, শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে এখনই কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। নিজস্ব সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারের সুস্পষ্ট নীতিমালা ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিসিআই সভাপতি।
জ্বালানি সংকট ও গ্যাস ঘাটতিতে চাপে দেশের শিল্প খাত। নিজস্ব কয়লা উত্তোলনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন পারভেজ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















