বিদেশ ভ্রমণ কমানোর জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানের পর দেশটির ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই আহ্বানের প্রভাব পড়তে পারে গ্রীষ্মকালীন বিদেশ সফরের বুকিংয়ে। এমনিতেই মূল্যস্ফীতি ও বাড়তি বিমান ভাড়ার কারণে বিদেশ ভ্রমণের আগ্রহ কমছিল, তার ওপর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
ভারতে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়টিকে বিদেশ ভ্রমণের অন্যতম ব্যস্ত মৌসুম ধরা হয়। স্কুল ছুটির সময় ধনী ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বেড়াতে যান। তবে এবার সেই চিত্র বদলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিদেশ সফরের খোঁজ কমছে

ভারতের বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে বিদেশ সফর নিয়ে মানুষের আগ্রহ ইতোমধ্যেই ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। বাড়তি জীবনযাত্রার খরচ, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং বিমান টিকিটের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বিদেশ সফর পিছিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছেন।
পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তার কারণে তার বক্তব্য সাধারণ মানুষের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। ফলে অনেক পরিবার এ বছর বিদেশ না গিয়ে আগামী বছরের জন্য পরিকল্পনা করতে পারে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিও ভারতের পর্যটন শিল্পে চাপ তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমান ভাড়া ও বিদেশ ভ্রমণের সামগ্রিক ব্যয়ের ওপর।
মোদি সম্প্রতি জনগণকে এক বছরের জন্য জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্বর্ণালংকার কেনা কমানোর কথাও বলেন, যাতে দেশের আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

শেয়ারবাজারেও ধাক্কা
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ভারতের ভ্রমণ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরে পতন দেখা গেছে। অনলাইন ট্রাভেল বুকিং ও ছুটি পরিকল্পনাসংক্রান্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রি বেড়ে যায়। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, বিদেশ ভ্রমণের চাহিদা কমে গেলে এই খাতের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দেশীয় পর্যটনে জোর বাড়তে পারে
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির কারণে এখন দেশীয় পর্যটন বাড়ানোর ওপর চাপ বাড়বে। তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ পর্যটনে লাভের পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন।
একই সঙ্গে শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সরকারের কাছে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে আরও উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তুলেছে। তাদের মতে, বিদেশ সফরে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় কমাতে হলে ভারতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।
![]()
দীর্ঘমেয়াদে আশাবাদ
সব উদ্বেগের মধ্যেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি স্থায়ী সংকট নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে এলে এবং অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা হালকা হলে বিদেশ ভ্রমণের বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
ভারতের পর্যটন শিল্প বর্তমানে দেশটির অন্যতম বড় অর্থনৈতিক খাত। লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িত এই খাত আগামী দশকে আরও বড় আকার ধারণ করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















