পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে দুর্দান্ত জয় পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সর্বশেষ টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বড় উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের একাধিক ক্রিকেটারের। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই টাইগারদের দাপট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনেও উজ্জ্বল ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
মিরপুর টেস্টে ১০৪ রানের দাপুটে জয়ের পর সবচেয়ে বড় অগ্রগতি এসেছে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর র্যাঙ্কিংয়ে। প্রথম ইনিংসে অসাধারণ শতক এবং দ্বিতীয় ইনিংসেও দারুণ ব্যাটিং করে তিনি একসঙ্গে ১৬ ধাপ এগিয়ে গেছেন। তার নেতৃত্ব ও ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।

ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে আলোচনায় এসেছেন মোমিনুল হকও। দুই ইনিংসেই ফিফটি তুলে নিয়ে তিনি আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। নতুন র্যাঙ্কিংয়ে তিনি উঠে এসেছেন ৩৫ নম্বরে। অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমও আগের অবস্থানের চেয়ে উন্নতি করেছেন, যা বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে।
বোলিং বিভাগে বাংলাদেশের বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর বোলিং করে তিনি পাকিস্তানের ব্যাটারদের চাপে রাখেন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে টেস্ট বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে তিনি এখন ১৩ নম্বরে উঠে এসেছেন।
নাহিদ রানার দুর্দান্ত উত্থান

তরুণ পেসার নাহিদ রানাও এই টেস্টের অন্যতম বড় আবিষ্কার। ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ একাই ভেঙে দেন তিনি। গতি ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মুগ্ধ করেন ক্রিকেটভক্তদের। তার এই পারফরম্যান্সে নতুন র্যাঙ্কিংয়ে বড় উন্নতি হয়েছে এবং এখন তিনি অবস্থান করছেন ৬৪ নম্বরে।
সিলেটে সিরিজ জয়ের অপেক্ষা
দুই ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ১৭ মে সিলেটে। মিরপুরে আত্মবিশ্বাসী জয়ের পর বাংলাদেশ দল এখন সিরিজ জয়ের স্বপ্নে বিভোর। পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ জয়ের সুযোগ সামনে থাকায় দলের মধ্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস কাজ করছে।
এর আগে পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে আরেকটি জয় এলে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই সিরিজ জয়ের নতুন কীর্তি গড়বে টাইগাররা। ক্রিকেটভক্তরাও এখন তাকিয়ে আছেন সিলেট টেস্টের দিকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















