দেশে পোলিও টিকার সংকট কাটাতে নতুন করে স্বস্তির খবর এসেছে। চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেকের কাছ থেকে বাংলাদেশ ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ পোলিও টিকা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার সরকারি টিকাদান কর্মসূচির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের হাতে পর্যাপ্ত টিকার মজুত রয়েছে। খুব দ্রুত পোলিও টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং এ নিয়ে আর কোনো জটিলতা থাকবে না।
টিকাদানে জনআস্থা ফেরানোই এখন প্রধান লক্ষ্য
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে টিকাদান কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। হাম টিকা নিয়ে অতীতে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা হয়ে থাকলে তা নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, হাম রোগে আক্রান্ত অনেক শিশুর পরবর্তীতে নিউমোনিয়া দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে রোগীকে ভেন্টিলেটর সহায়তা পর্যন্ত নিতে হয়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি বেসরকারি ওষুধ উদ্যোক্তার মাধ্যমে ১০টি নতুন ভেন্টিলেটর সহায়তা হিসেবে এসেছে এবং সেগুলো দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
সব টিকাদান কর্মসূচি চালু রয়েছে
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রম ইতোমধ্যে আবার শুরু হয়েছে। কোনো রোগীকেই টিকার আওতার বাইরে রাখা হবে না।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশের সব ধরনের টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যদিও সাময়িকভাবে ভিটামিন এ ক্যাপসুলের কিছু ঘাটতি রয়েছে, তবে জুন মাসের মধ্যেই পর্যাপ্ত সরবরাহ চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বছরে দুইবার আগের নিয়মেই ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এই খাতে কোনো সংকট তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

রুটিন টিকার বাইরে থাকা শিশুদের খোঁজ
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন যেসব শিশু এখনও নিয়মিত টিকা পায়নি, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত টিকার আওতায় আনার কাজ চলছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমানে সরকার সংকট মোকাবিলায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা হয়ে থাকলে তা তদন্তের বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দেশে পোলিও টিকার নতুন চালান আসায় জনস্বাস্থ্য খাতে স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম সচল রাখতে এই টিকা বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















