ভারতের মুম্বাইয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, বিষাক্ত তরমুজ খাওয়ার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসার পর ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।
মৃতদের মধ্যে ছিলেন একই পরিবারের চারজন সদস্য। অসুস্থ হওয়ার পর দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কাউকেই বাঁচানো যায়নি। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন কীভাবে প্রাণঘাতী রাসায়নিক তাদের শরীরে প্রবেশ করল।
অসুস্থ হওয়ার পর দ্রুত অবনতি
পরিবারটির সদস্যরা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও অসুস্থতায় আক্রান্ত হন। চিকিৎসকেরা জানান, সবচেয়ে কম বয়সী সদস্যের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। তাকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআরও দেওয়া হয়েছিল। পরে অন্য সদস্যদেরও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবাই মারা যান।
ঘটনার পরপরই পুলিশ পরিবারের খাওয়া সব ধরনের খাবার জব্দ করে। বিশেষ করে তরমুজের খোসা ও অবশিষ্ট অংশ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কারণ অসুস্থ হওয়ার আগে পরিবারের সবাই সর্বশেষ তরমুজই খেয়েছিলেন।
তদন্তে মিলল ভয়ংকর রাসায়নিক
ফরেনসিক পরীক্ষায় পরে উঠে আসে নতুন তথ্য। তদন্তকারীরা জানান, মৃতদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ এবং পাকস্থলীর নমুনায় জিঙ্ক ফসফাইড নামের অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একই রাসায়নিক তরমুজের নমুনাতেও শনাক্ত হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পরীক্ষার জন্য পাঠানো অন্য খাবারে এই রাসায়নিক পাওয়া যায়নি। ফলে তরমুজকে ঘিরেই তদন্তের মূল কেন্দ্র তৈরি হয়েছে।
![]()
ইঁদুর মারার বিষ নিয়ে নতুন প্রশ্ন
যে ভবনে পরিবারটি বসবাস করত সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ইঁদুরের উপদ্রব ছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয় অনেক পরিবার ইঁদুর তাড়াতে বিষ, আঠা ও বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঁদুর মারার কিছু বিষে জিঙ্ক ফসফাইড ব্যবহার করা হয়, যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এখন তদন্তকারীরা খুঁজে দেখছেন, দুর্ঘটনাবশত নাকি অন্য কোনোভাবে এই রাসায়নিক তরমুজে পৌঁছেছিল।
পোস্টমর্টেম ও পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















