বিশেষ অভিযান পরিচালনায় এবার জেটচালিত স্যুট ও সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সিঙ্গাপুর পুলিশ। জলদস্যু দমন, জিম্মি পরিস্থিতি মোকাবিলা কিংবা ভবনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সশস্ত্র হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। নতুন এই উদ্যোগকে ভবিষ্যতের পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের ব্রানি আঞ্চলিক ঘাঁটিতে এক প্রদর্শনীতে জেটচালিত ম্যানপ্যাক পরে বিশেষ টাস্ক স্কোয়াড্রনের সদস্যদের মহড়া দেখানো হয়। এতে দেখা যায়, কর্মকর্তারা আকাশপথে দ্রুতগতিতে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে অভিযানে অংশ নিতে সক্ষম হচ্ছেন।
তিন মিনিট উড়তে পারবে জেট স্যুট
এই জেটচালিত স্যুট তৈরি করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের এই স্যুট একটানা প্রায় তিন মিনিট পর্যন্ত উড়তে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৩৭ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সন্ত্রাসী বা জলদস্যুদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালানো সহজ হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশের সরাসরি উপস্থিতি বাড়বে।
ড্রোন দেবে কভার ফায়ার
জেট স্যুটের পাশাপাশি অস্ত্রসজ্জিত ড্রোনও ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে পুলিশ। এই ড্রোনগুলো অভিযানের সময় কর্মকর্তাদের কভার দিতে পারবে। পাশাপাশি ভবনের ফাঁদযুক্ত প্রবেশপথ শনাক্ত করা কিংবা বিপজ্জনক স্থানে আগে থেকেই নজরদারির কাজেও ব্যবহার করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবনের ভেতরে অভিযান চালানোর সময় ড্রোনের মাধ্যমে আগাম তথ্য পাওয়া গেলে হতাহতের ঝুঁকি কমে আসবে। এছাড়া সংকীর্ণ বা মানুষের পক্ষে প্রবেশ কঠিন এমন জায়গায়ও ড্রোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
বাড়ছে নিরাপত্তা হুমকি

সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে. শানমুগাম বলেছেন, আধুনিক প্রযুক্তি এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ, সহিংস হামলা ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় পুলিশকেও আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
তার ভাষায়, নতুন প্রযুক্তি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বাড়াবে এবং অভিযানে কৌশলগত সুবিধা দেবে। বিশেষ করে জলপথে অভিযানের সময় এটি বড় সহায়ক হবে।
কঠোর নিয়মে হবে ব্যবহার
পুলিশ জানিয়েছে, জেট স্যুট ও সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহারের আগে কয়েক মাস ধরে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হবে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে কঠোর আইনি নীতিমালা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্পষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে।
সিঙ্গাপুর পুলিশ এর আগেও বিভিন্ন অভিযানে ড্রোন ব্যবহার করেছে। অপরাধী শনাক্ত, জনসমাগম পর্যবেক্ষণ এবং তাপ শনাক্তকারী সেন্সরের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনায় ড্রোন ইতোমধ্যে কার্যকর প্রমাণ হয়েছে।
নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে সিঙ্গাপুরের বিশেষ পুলিশি অভিযান আরও দ্রুত, ঝুঁকিমুক্ত এবং আধুনিক হয়ে উঠবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















