১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হতে মনোনীত দেশটির শীর্ষ ব্যাংকার দুর্বল ইয়েনেই জাপানের বহুজাতিক সংস্থার বড় লাভ, বাড়ছে মুনাফার পূর্বাভাস গ্রামে কর্মসংস্থানে বড় ধস, এক মাসেই কাজের দিন কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ দিল্লিতে ‘চাল কেলেঙ্কারি’ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত, আম আদমি পার্টির অভিযোগে বিজেপির পাল্টা দুর্নীতির তোপ সীমানা পুনর্নির্ধারণে ‘ন্যায্যতা’ নেই, এটি প্রতারণা: তামিলনাড়ু কংগ্রেস দীর্ঘ কোভিডের যন্ত্রণাদায়ক সত্য: চিকিৎসার পথ কি শরীরের বাইরে, মস্তিষ্কের ভেতরেও? রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও সিইসির বৈঠক আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝলকানিতে চোখ ফেরাচ্ছে শিশুরা, ‘এটা বুদ্ধিমান নয়, বরং ভয়ংকর’ সাধারণ ফিট প্রাপ্তবয়স্কদের দৌড়ের সক্ষমতা কতটা? কিশোর অ্যাথলেটদের দৌড়ে রেকর্ডের বন্যা, বদলে যাচ্ছে ট্র্যাকের পুরোনো হিসাব

অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে হলিউডের জোয়ার, বিশ্ব চলচ্চিত্রের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে কুইন্সল্যান্ড

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের গোল্ড কোস্ট এখন দ্রুতই পরিণত হচ্ছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাণের অন্যতম বড় কেন্দ্রে। একসময় যেখানে স্থানীয় শিল্পীদের হলিউড, কানাডা বা যুক্তরাজ্যে কাজের খোঁজে যেতে হতো, সেখানে এখন বড় বাজেটের আন্তর্জাতিক প্রযোজনাগুলোই ছুটে আসছে গোল্ড কোস্টে। সরকারি প্রণোদনা, দক্ষ কর্মী, আধুনিক স্টুডিও এবং বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক লোকেশন—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক চলচ্চিত্র শিল্পের আকর্ষণের কেন্দ্র।

২০১৫ সালে “পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান: ডেড মেন টেল নো টেলস” সিনেমার শুটিং ছিল এই পরিবর্তনের বড় মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। প্রায় ৭৯৪ মিলিয়ন ডলার আয় করা এই হলিউড চলচ্চিত্রের বড় অংশের শুটিং হয় কুইন্সল্যান্ডে। সেই সময় স্টান্ট পারফর্মার কলিন হ্যান্ডলি এতে অংশ নিয়ে দেখেছিলেন কীভাবে গোল্ড কোস্টের চলচ্চিত্র শিল্প নতুন দিগন্তে প্রবেশ করছে।

এরপর থেকে একের পর এক আন্তর্জাতিক প্রযোজনা সেখানে কাজ শুরু করে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় কুইন্সল্যান্ডে রেকর্ডসংখ্যক আন্তর্জাতিক শুটিং হয়। রাজ্য সরকারের “প্রোডাকশন অ্যাট্রাকশন স্ট্র্যাটেজি” বিদেশি প্রযোজকদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো গোল্ড কোস্টকে বেছে নিতে শুরু করে।

বড় বাজেটের প্রযোজনার কেন্দ্র

বর্তমানে গোল্ড কোস্টে নিয়মিত ৫০ মিলিয়ন থেকে ১০০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারেরও বেশি বাজেটের প্রজেক্ট নির্মিত হচ্ছে। “মর্টাল কমব্যাট টু” এবং “গান্ডাম”–এর মতো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের বড় অংশের কাজও এখানে হয়েছে। শুধু “গান্ডাম” চলচ্চিত্রই স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রায় ১১০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই শিল্পের প্রসারে কর্মসংস্থানও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পোস্ট-প্রোডাকশন, সেট নির্মাণ, আলো, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসসহ বিভিন্ন খাতে সারাবছর কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় শিল্পীরা বলছেন, আগে কাজের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো, এখন উল্টো পর্যাপ্ত কর্মী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গোল্ড কোস্টে স্থায়ী হচ্ছেন নির্মাতারা

খ্যাতিমান পরিচালক বাজ লুহরম্যান তার স্টুডিও “বাজমার্ক”–এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে গোল্ড কোস্টে স্থানান্তর করেছেন। তার চলচ্চিত্র “এলভিস” পুরোপুরি গোল্ড কোস্টে নির্মিত প্রথম বড় হলিউড প্রযোজনা হিসেবে আলোচনায় আসে।

শুধু পরিচালক নয়, অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস এবং ডিজিটাল প্রোডাকশন কোম্পানিগুলোও সেখানে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ছে। নতুন স্টুডিও, সাউন্ড স্টেজ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো গড়ে ওঠায় গোল্ড কোস্ট এখন পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

প্রাকৃতিক লোকেশন ও সরকারি সহায়তা

গোল্ড কোস্টের বড় শক্তি এর বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ। সমুদ্রসৈকত, রেইনফরেস্ট, পাহাড়ি এলাকা ও জলাশয়—সবকিছুই অল্প দূরত্বের মধ্যে থাকায় নির্মাতারা সহজেই বিভিন্ন ধরনের দৃশ্য ধারণ করতে পারছেন। “অ্যানাকোন্ডা” চলচ্চিত্রের জন্য এখানকার বন ও জলপ্রপাতকে অ্যামাজন রেইনফরেস্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার ও অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার যৌথভাবে বিভিন্ন কর ছাড় ও নগদ সহায়তা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বড় বাজেটের চলচ্চিত্রের জন্য ৩০ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনাও রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের তুলনায় কম খরচে মানসম্মত কাজ সম্ভব হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক আশাবাদ

তবে এই সাফল্যের মধ্যেও কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে নির্মিত চলচ্চিত্রের ওপর সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের আলোচনা শিল্পে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও কুইন্সল্যান্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত এর কোনো বাস্তব প্রভাব দেখা যায়নি।

স্থানীয় প্রযোজকরা মনে করছেন, শুধু হলিউডনির্ভর না থেকে অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব গল্প ও আঞ্চলিক যৌথ প্রযোজনার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন আইনের মাধ্যমে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে স্থানীয় কনটেন্টে বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক করায় অস্ট্রেলীয় চলচ্চিত্র শিল্প আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

গোল্ড কোস্ট এখন শুধু বিদেশি চলচ্চিত্রের শুটিং স্পট নয়, বরং নিজস্ব দক্ষতা, প্রযুক্তি ও সৃজনশীল শক্তি নিয়ে বৈশ্বিক চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম প্রতিযোগী কেন্দ্র হয়ে ওঠার পথে এগোচ্ছে।

গোল্ড কোস্টে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাণের উত্থান

অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে সরকারি প্রণোদনা ও আন্তর্জাতিক প্রযোজনার ঢলে চলচ্চিত্র শিল্পের দ্রুত বিস্তার।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভারতের বিরল মাটির চুম্বক শিল্প, বড় প্রশ্ন সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে

অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে হলিউডের জোয়ার, বিশ্ব চলচ্চিত্রের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে কুইন্সল্যান্ড

০৭:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের গোল্ড কোস্ট এখন দ্রুতই পরিণত হচ্ছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাণের অন্যতম বড় কেন্দ্রে। একসময় যেখানে স্থানীয় শিল্পীদের হলিউড, কানাডা বা যুক্তরাজ্যে কাজের খোঁজে যেতে হতো, সেখানে এখন বড় বাজেটের আন্তর্জাতিক প্রযোজনাগুলোই ছুটে আসছে গোল্ড কোস্টে। সরকারি প্রণোদনা, দক্ষ কর্মী, আধুনিক স্টুডিও এবং বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক লোকেশন—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক চলচ্চিত্র শিল্পের আকর্ষণের কেন্দ্র।

২০১৫ সালে “পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান: ডেড মেন টেল নো টেলস” সিনেমার শুটিং ছিল এই পরিবর্তনের বড় মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। প্রায় ৭৯৪ মিলিয়ন ডলার আয় করা এই হলিউড চলচ্চিত্রের বড় অংশের শুটিং হয় কুইন্সল্যান্ডে। সেই সময় স্টান্ট পারফর্মার কলিন হ্যান্ডলি এতে অংশ নিয়ে দেখেছিলেন কীভাবে গোল্ড কোস্টের চলচ্চিত্র শিল্প নতুন দিগন্তে প্রবেশ করছে।

এরপর থেকে একের পর এক আন্তর্জাতিক প্রযোজনা সেখানে কাজ শুরু করে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় কুইন্সল্যান্ডে রেকর্ডসংখ্যক আন্তর্জাতিক শুটিং হয়। রাজ্য সরকারের “প্রোডাকশন অ্যাট্রাকশন স্ট্র্যাটেজি” বিদেশি প্রযোজকদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো গোল্ড কোস্টকে বেছে নিতে শুরু করে।

বড় বাজেটের প্রযোজনার কেন্দ্র

বর্তমানে গোল্ড কোস্টে নিয়মিত ৫০ মিলিয়ন থেকে ১০০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারেরও বেশি বাজেটের প্রজেক্ট নির্মিত হচ্ছে। “মর্টাল কমব্যাট টু” এবং “গান্ডাম”–এর মতো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের বড় অংশের কাজও এখানে হয়েছে। শুধু “গান্ডাম” চলচ্চিত্রই স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রায় ১১০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই শিল্পের প্রসারে কর্মসংস্থানও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পোস্ট-প্রোডাকশন, সেট নির্মাণ, আলো, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসসহ বিভিন্ন খাতে সারাবছর কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় শিল্পীরা বলছেন, আগে কাজের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো, এখন উল্টো পর্যাপ্ত কর্মী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গোল্ড কোস্টে স্থায়ী হচ্ছেন নির্মাতারা

খ্যাতিমান পরিচালক বাজ লুহরম্যান তার স্টুডিও “বাজমার্ক”–এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে গোল্ড কোস্টে স্থানান্তর করেছেন। তার চলচ্চিত্র “এলভিস” পুরোপুরি গোল্ড কোস্টে নির্মিত প্রথম বড় হলিউড প্রযোজনা হিসেবে আলোচনায় আসে।

শুধু পরিচালক নয়, অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস এবং ডিজিটাল প্রোডাকশন কোম্পানিগুলোও সেখানে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ছে। নতুন স্টুডিও, সাউন্ড স্টেজ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো গড়ে ওঠায় গোল্ড কোস্ট এখন পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

প্রাকৃতিক লোকেশন ও সরকারি সহায়তা

গোল্ড কোস্টের বড় শক্তি এর বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ। সমুদ্রসৈকত, রেইনফরেস্ট, পাহাড়ি এলাকা ও জলাশয়—সবকিছুই অল্প দূরত্বের মধ্যে থাকায় নির্মাতারা সহজেই বিভিন্ন ধরনের দৃশ্য ধারণ করতে পারছেন। “অ্যানাকোন্ডা” চলচ্চিত্রের জন্য এখানকার বন ও জলপ্রপাতকে অ্যামাজন রেইনফরেস্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার ও অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার যৌথভাবে বিভিন্ন কর ছাড় ও নগদ সহায়তা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বড় বাজেটের চলচ্চিত্রের জন্য ৩০ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনাও রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের তুলনায় কম খরচে মানসম্মত কাজ সম্ভব হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক আশাবাদ

তবে এই সাফল্যের মধ্যেও কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে নির্মিত চলচ্চিত্রের ওপর সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের আলোচনা শিল্পে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও কুইন্সল্যান্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত এর কোনো বাস্তব প্রভাব দেখা যায়নি।

স্থানীয় প্রযোজকরা মনে করছেন, শুধু হলিউডনির্ভর না থেকে অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব গল্প ও আঞ্চলিক যৌথ প্রযোজনার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন আইনের মাধ্যমে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে স্থানীয় কনটেন্টে বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক করায় অস্ট্রেলীয় চলচ্চিত্র শিল্প আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

গোল্ড কোস্ট এখন শুধু বিদেশি চলচ্চিত্রের শুটিং স্পট নয়, বরং নিজস্ব দক্ষতা, প্রযুক্তি ও সৃজনশীল শক্তি নিয়ে বৈশ্বিক চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম প্রতিযোগী কেন্দ্র হয়ে ওঠার পথে এগোচ্ছে।

গোল্ড কোস্টে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাণের উত্থান

অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে সরকারি প্রণোদনা ও আন্তর্জাতিক প্রযোজনার ঢলে চলচ্চিত্র শিল্পের দ্রুত বিস্তার।