০৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ জ্বালানি সংকটে নতুন সতর্কবার্তা, জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর দেওয়ার আহ্বান ছেলের হামলায় কুমিল্লায় প্রাণ গেল বাবার সিলেটে রবিবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না, জরুরি মেরামতে ভোগান্তির শঙ্কা কুয়াকাটার সৈকতে বিরল অলিভ রিডলি কচ্ছপ উদ্ধার, বাড়ছে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবি ইসরায়েলের নতুন হামলায় আবারও উত্তপ্ত দক্ষিণ লেবানন কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত আরও দুইজন পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতীয় সেনাপ্রধানের, “ভূগোলের অংশ থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে”

চীনা মালিকানায় গেল ১২০ বছরের জার্মান টেক্সটাইল যন্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান

চীনের কমদামি যন্ত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া জার্মানির ১২০ বছরের পুরোনো টেক্সটাইল যন্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেয়ার অ্যান্ড সি এবার চীনা প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে গেছে। ইউরোপীয় শিল্পখাতে চীনা কোম্পানির বাড়তে থাকা প্রভাবের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে এই অধিগ্রহণকে দেখা হচ্ছে।

জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আল্বস্টাডে অবস্থিত মেয়ার অ্যান্ড সি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জন্য ব্যবহৃত সার্কুলার নিটিং মেশিন তৈরি করে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি যন্ত্র দিয়ে এইচঅ্যান্ডএম, ইউনিকলো ও ডেকাথলনের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের পোশাক উৎপাদন হয়। কোম্পানির ৮০ হাজারের বেশি যন্ত্র বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গত বছর দেউলিয়া ঘোষণার পর প্রতিষ্ঠানটি তাদের ২০০-এর বেশি কর্মীর প্রায় সবাইকে ছাঁটাই করে। পরে চলতি বছরের এপ্রিলে চীনের হুইশিং মেশিনারি প্রতিষ্ঠানটি মেয়ার অ্যান্ড সি অধিগ্রহণ করে। অধিগ্রহণের অর্থমূল্য প্রকাশ করা হয়নি।

চীনা প্রতিযোগিতার চাপ

দেউলিয়া আবেদনে মেয়ার অ্যান্ড সি উল্লেখ করে, চীনের রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাওয়া নির্মাতারা কমদামে টেক্সটাইল যন্ত্র বাজারে ছাড়ায় ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়ে। ইউরোপে তৈরি যন্ত্র সাধারণত চীনা যন্ত্রের তুলনায় অন্তত ২০ শতাংশ বেশি দামী।

প্রতিষ্ঠানটির সার্কুলার নিটিং মেশিন প্রতি মিনিটে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি সেলাই করতে সক্ষম, যা ঘণ্টায় প্রায় ৩৮০টি টি-শার্ট তৈরির সমান। কলার, মোজা, টুপি ও ম্যাট্রেসসহ নানা ধরনের পণ্যের কাপড় তৈরিতে এসব যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।

শুধু চীনা প্রতিযোগিতাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতিও কোম্পানিটির সংকট বাড়িয়ে তোলে। একই সময়ে টেক্সটাইল যন্ত্রের বড় আমদানিকারক তুরস্কেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বাজার দুর্বল হয়ে পড়ে।

জার্মানিতেই থাকবে উৎপাদন

অধিগ্রহণের পর হুইশিং জার্মানির আল্বস্টাড কারখানার পাশাপাশি চেক প্রজাতন্ত্র ও চীনের জিনতানে থাকা সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জার্মানিতেই রাখা হবে। পাশাপাশি ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের ধীরে ধীরে পুনর্নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রযুক্তি হস্তান্তরের চেয়ে বাজার সম্প্রসারণ ও উল্লম্ব সমন্বয়ের অংশ হওয়ায় জার্মান কর্তৃপক্ষও অধিগ্রহণে আপত্তি করেনি।

আগেও ঘটেছে একই ধারা

টেক্সটাইল খাতের বিশ্লেষক আন্তন শুমান বলেন, চীনা মালিকানায় গেলেও অনেক জার্মান প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে। তিনি ২০০৫ সালে জার্মান শিল্প সেলাইযন্ত্র নির্মাতা ডুরকপ অ্যাডলারের অধিগ্রহণের উদাহরণ তুলে ধরেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি জার্মানিতেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং লাভজনক অবস্থানে রয়েছে।

২০২৩ সালে জার্মানির আরেক পুরোনো সার্কুলার নিটিং প্রতিষ্ঠান টেরোটও ইতালীয়-চীনা গ্রুপের হাতে যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী ও ব্র্যান্ড উভয়ই টিকে রয়েছে।

ইউরোপীয় শিল্পের বাড়তি চাপ

জার্মান মেশিনারি ও ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর থেকে ইউরোপের টেক্সটাইল যন্ত্রশিল্প কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। পোশাকের অর্ডার কমে যাওয়া, ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শিল্পখাতকে চাপে ফেলেছে।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, চীনা নির্মাতারা সরকারি সহায়তা, জ্বালানি সুবিধা ও অবকাঠামোগত সমর্থনের কারণে দ্রুত বাজার দখল করছে। তবে ইউরোপীয় যন্ত্র এখনও দীর্ঘস্থায়ী, প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী হিসেবে পরিচিত।

বিকল্প বাজার ও বিশেষায়িত উৎপাদনের মাধ্যমে ইউরোপীয় নির্মাতাদের টিকে থাকার পরামর্শও দিয়েছেন শিল্পবিশ্লেষকেরা।

চীনা মালিকানায় গেল ১২০ বছরের জার্মান টেক্সটাইল যন্ত্র নির্মাতা মেয়ার অ্যান্ড সি। কমদামি চীনা প্রতিযোগিতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মুখে দেউলিয়া হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি নতুন মালিকানায় যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা

চীনা মালিকানায় গেল ১২০ বছরের জার্মান টেক্সটাইল যন্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান

০৭:৫৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

চীনের কমদামি যন্ত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া জার্মানির ১২০ বছরের পুরোনো টেক্সটাইল যন্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেয়ার অ্যান্ড সি এবার চীনা প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে গেছে। ইউরোপীয় শিল্পখাতে চীনা কোম্পানির বাড়তে থাকা প্রভাবের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে এই অধিগ্রহণকে দেখা হচ্ছে।

জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আল্বস্টাডে অবস্থিত মেয়ার অ্যান্ড সি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জন্য ব্যবহৃত সার্কুলার নিটিং মেশিন তৈরি করে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি যন্ত্র দিয়ে এইচঅ্যান্ডএম, ইউনিকলো ও ডেকাথলনের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের পোশাক উৎপাদন হয়। কোম্পানির ৮০ হাজারের বেশি যন্ত্র বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গত বছর দেউলিয়া ঘোষণার পর প্রতিষ্ঠানটি তাদের ২০০-এর বেশি কর্মীর প্রায় সবাইকে ছাঁটাই করে। পরে চলতি বছরের এপ্রিলে চীনের হুইশিং মেশিনারি প্রতিষ্ঠানটি মেয়ার অ্যান্ড সি অধিগ্রহণ করে। অধিগ্রহণের অর্থমূল্য প্রকাশ করা হয়নি।

চীনা প্রতিযোগিতার চাপ

দেউলিয়া আবেদনে মেয়ার অ্যান্ড সি উল্লেখ করে, চীনের রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাওয়া নির্মাতারা কমদামে টেক্সটাইল যন্ত্র বাজারে ছাড়ায় ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়ে। ইউরোপে তৈরি যন্ত্র সাধারণত চীনা যন্ত্রের তুলনায় অন্তত ২০ শতাংশ বেশি দামী।

প্রতিষ্ঠানটির সার্কুলার নিটিং মেশিন প্রতি মিনিটে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি সেলাই করতে সক্ষম, যা ঘণ্টায় প্রায় ৩৮০টি টি-শার্ট তৈরির সমান। কলার, মোজা, টুপি ও ম্যাট্রেসসহ নানা ধরনের পণ্যের কাপড় তৈরিতে এসব যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।

শুধু চীনা প্রতিযোগিতাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতিও কোম্পানিটির সংকট বাড়িয়ে তোলে। একই সময়ে টেক্সটাইল যন্ত্রের বড় আমদানিকারক তুরস্কেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বাজার দুর্বল হয়ে পড়ে।

জার্মানিতেই থাকবে উৎপাদন

অধিগ্রহণের পর হুইশিং জার্মানির আল্বস্টাড কারখানার পাশাপাশি চেক প্রজাতন্ত্র ও চীনের জিনতানে থাকা সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জার্মানিতেই রাখা হবে। পাশাপাশি ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের ধীরে ধীরে পুনর্নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রযুক্তি হস্তান্তরের চেয়ে বাজার সম্প্রসারণ ও উল্লম্ব সমন্বয়ের অংশ হওয়ায় জার্মান কর্তৃপক্ষও অধিগ্রহণে আপত্তি করেনি।

আগেও ঘটেছে একই ধারা

টেক্সটাইল খাতের বিশ্লেষক আন্তন শুমান বলেন, চীনা মালিকানায় গেলেও অনেক জার্মান প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে। তিনি ২০০৫ সালে জার্মান শিল্প সেলাইযন্ত্র নির্মাতা ডুরকপ অ্যাডলারের অধিগ্রহণের উদাহরণ তুলে ধরেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি জার্মানিতেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং লাভজনক অবস্থানে রয়েছে।

২০২৩ সালে জার্মানির আরেক পুরোনো সার্কুলার নিটিং প্রতিষ্ঠান টেরোটও ইতালীয়-চীনা গ্রুপের হাতে যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী ও ব্র্যান্ড উভয়ই টিকে রয়েছে।

ইউরোপীয় শিল্পের বাড়তি চাপ

জার্মান মেশিনারি ও ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর থেকে ইউরোপের টেক্সটাইল যন্ত্রশিল্প কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। পোশাকের অর্ডার কমে যাওয়া, ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শিল্পখাতকে চাপে ফেলেছে।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, চীনা নির্মাতারা সরকারি সহায়তা, জ্বালানি সুবিধা ও অবকাঠামোগত সমর্থনের কারণে দ্রুত বাজার দখল করছে। তবে ইউরোপীয় যন্ত্র এখনও দীর্ঘস্থায়ী, প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী হিসেবে পরিচিত।

বিকল্প বাজার ও বিশেষায়িত উৎপাদনের মাধ্যমে ইউরোপীয় নির্মাতাদের টিকে থাকার পরামর্শও দিয়েছেন শিল্পবিশ্লেষকেরা।

চীনা মালিকানায় গেল ১২০ বছরের জার্মান টেক্সটাইল যন্ত্র নির্মাতা মেয়ার অ্যান্ড সি। কমদামি চীনা প্রতিযোগিতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মুখে দেউলিয়া হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি নতুন মালিকানায় যাচ্ছে।