১১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
ট্রাম্পের কঠোর আশ্রয়নীতি কি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ঘিরে বিতর্ক, সমালোচনায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ নিউইয়র্কে আবাসন নির্মাণে বড় বাধা কমছে, বদলে যেতে পারে শহরের ভবিষ্যৎ ট্রাম্পের প্রতিশোধ রাজনীতি নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যের হাসি, আড়ালে তাইওয়ান-ইউক্রেন-ইরান উত্তেজনা ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ জ্বালানি সংকটে নতুন সতর্কবার্তা, জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর দেওয়ার আহ্বান ছেলের হামলায় কুমিল্লায় প্রাণ গেল বাবার

ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যের হাসি, আড়ালে তাইওয়ান-ইউক্রেন-ইরান উত্তেজনা

বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অব হেভেন’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একসঙ্গে সফর এবার বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা সামনে এলেও আড়ালে থেকে গেছে তাইওয়ান, ইউক্রেন যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইরান নিয়ে গভীর মতপার্থক্য।

চীনের ঐতিহাসিক এই মন্দির দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা, স্থিতিশীলতা ও সাম্রাজ্যিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সেই জায়গায় ট্রাম্পকে নিয়ে সফর করে শি জিনপিং একদিকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালীভাবে তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে বিশ্বের কাছে চীনের সাংস্কৃতিক প্রভাবও দেখাতে চেয়েছেন।

বাণিজ্য যুদ্ধের বিরতি ধরে রাখার চেষ্টা

The global trade war has just started | World Finance

দুই নেতার বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা। গত বছর দুই দেশের মধ্যে শুল্ক যুদ্ধ ভয়াবহ আকার নিয়েছিল। কিছু চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে নতুন বাণিজ্য কাঠামো তৈরির আলোচনা চলছে।

দুই দেশ “বাণিজ্য বোর্ড” ও “বিনিয়োগ বোর্ড” গঠনের মতো নতুন ব্যবস্থার বিষয়েও কথা বলেছে। এছাড়া চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংস, সয়াবিন ও উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।

এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে বড় বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ছিলেন। প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সহযোগিতাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে উন্নত চিপ সরবরাহ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তাইওয়ান প্রশ্নে বাড়ছে উদ্বেগ

Roar বাংলা - চীনের কাছে স্বাধীনতা হারাতে চলেছে তাইওয়ান?

তবে বৈঠকের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় ছিল তাইওয়ান। চীন আবারও স্পষ্ট করেছে, তাইওয়ান ইস্যু ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশের মধ্যে বড় সংঘাত তৈরি হতে পারে।

চীন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। ট্রাম্পও এই বিষয়ে আলোচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা তাইওয়ানের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।

যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে, তবুও ট্রাম্পের মন্তব্য অঞ্চলটিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ইউক্রেন ও ইরান নিয়ে মতপার্থক্য

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও দুই দেশের অবস্থান আলাদা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর চাপ দিচ্ছে যাতে তারা রাশিয়াকে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কমায়। কিন্তু বেইজিং এখন পর্যন্ত সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

ইরান ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা; মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-চীন

একইভাবে ইরান ইস্যুতেও যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছ থেকে আরও কঠোর অবস্থান আশা করছে। বিশেষ করে ইরানি তেল কেনা ও সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহের বিষয়টি ওয়াশিংটনের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক বার্তার কূটনীতি

এই সফরে দুই নেতা প্রকাশ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ দেখানোর চেষ্টা করেছেন। ট্রাম্প শি জিনপিংকে “দারুণ নেতা” বলে প্রশংসা করেন। অন্যদিকে শি বলেন, দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হিসেবে কাজ করা উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব অগ্রগতির চেয়ে এই সফরের রাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব বেশি। ট্রাম্প দেশে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে এই সফরকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। আর শি জিনপিং চীনের বৈশ্বিক প্রভাব ও নিজের নেতৃত্বের শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবে এটিকে ব্যবহার করছেন।

তবে বাণিজ্যিক চুক্তির হাসির আড়ালে যে বড় কৌশলগত দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে, সেটিও এই বৈঠক আবার স্পষ্ট করে দিয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের কঠোর আশ্রয়নীতি কি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে?

ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যের হাসি, আড়ালে তাইওয়ান-ইউক্রেন-ইরান উত্তেজনা

১০:০১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অব হেভেন’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একসঙ্গে সফর এবার বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা সামনে এলেও আড়ালে থেকে গেছে তাইওয়ান, ইউক্রেন যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইরান নিয়ে গভীর মতপার্থক্য।

চীনের ঐতিহাসিক এই মন্দির দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা, স্থিতিশীলতা ও সাম্রাজ্যিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সেই জায়গায় ট্রাম্পকে নিয়ে সফর করে শি জিনপিং একদিকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালীভাবে তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে বিশ্বের কাছে চীনের সাংস্কৃতিক প্রভাবও দেখাতে চেয়েছেন।

বাণিজ্য যুদ্ধের বিরতি ধরে রাখার চেষ্টা

The global trade war has just started | World Finance

দুই নেতার বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা। গত বছর দুই দেশের মধ্যে শুল্ক যুদ্ধ ভয়াবহ আকার নিয়েছিল। কিছু চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে নতুন বাণিজ্য কাঠামো তৈরির আলোচনা চলছে।

দুই দেশ “বাণিজ্য বোর্ড” ও “বিনিয়োগ বোর্ড” গঠনের মতো নতুন ব্যবস্থার বিষয়েও কথা বলেছে। এছাড়া চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংস, সয়াবিন ও উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।

এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে বড় বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ছিলেন। প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সহযোগিতাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে উন্নত চিপ সরবরাহ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তাইওয়ান প্রশ্নে বাড়ছে উদ্বেগ

Roar বাংলা - চীনের কাছে স্বাধীনতা হারাতে চলেছে তাইওয়ান?

তবে বৈঠকের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় ছিল তাইওয়ান। চীন আবারও স্পষ্ট করেছে, তাইওয়ান ইস্যু ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশের মধ্যে বড় সংঘাত তৈরি হতে পারে।

চীন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। ট্রাম্পও এই বিষয়ে আলোচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা তাইওয়ানের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।

যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে, তবুও ট্রাম্পের মন্তব্য অঞ্চলটিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ইউক্রেন ও ইরান নিয়ে মতপার্থক্য

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও দুই দেশের অবস্থান আলাদা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর চাপ দিচ্ছে যাতে তারা রাশিয়াকে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কমায়। কিন্তু বেইজিং এখন পর্যন্ত সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

ইরান ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা; মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-চীন

একইভাবে ইরান ইস্যুতেও যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছ থেকে আরও কঠোর অবস্থান আশা করছে। বিশেষ করে ইরানি তেল কেনা ও সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহের বিষয়টি ওয়াশিংটনের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক বার্তার কূটনীতি

এই সফরে দুই নেতা প্রকাশ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ দেখানোর চেষ্টা করেছেন। ট্রাম্প শি জিনপিংকে “দারুণ নেতা” বলে প্রশংসা করেন। অন্যদিকে শি বলেন, দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হিসেবে কাজ করা উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব অগ্রগতির চেয়ে এই সফরের রাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব বেশি। ট্রাম্প দেশে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে এই সফরকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। আর শি জিনপিং চীনের বৈশ্বিক প্রভাব ও নিজের নেতৃত্বের শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবে এটিকে ব্যবহার করছেন।

তবে বাণিজ্যিক চুক্তির হাসির আড়ালে যে বড় কৌশলগত দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে, সেটিও এই বৈঠক আবার স্পষ্ট করে দিয়েছে।