যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই রিপাবলিকান শিবিরে বাড়ছে অস্বস্তি। দলটির অনেক নেতার মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন নির্বাচনী কৌশলের চেয়ে নিজের প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এতে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রস্তুতি যেমন দুর্বল হচ্ছে, তেমনি দলে বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বিদেশে অজনপ্রিয় যুদ্ধের মতো বড় ইস্যুগুলো সামনে থাকলেও রিপাবলিকানদের এখনো স্পষ্ট কোনো জনমুখী বার্তা নেই। বরং ট্রাম্পের মূল মনোযোগ নিজের বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে শাস্তি দেওয়া এবং দলীয় ভিন্নমত দমন করা।

দুই নেতাকে ঘিরে বড় সংঘাত
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন লুইজিয়ানার সিনেটর বিল ক্যাসিডি এবং কেন্টাকির কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি। রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হলেও একটি জায়গায় তারা একই সমস্যায় পড়েছেন—ট্রাম্পের বিরাগভাজন হওয়া।
বিল ক্যাসিডির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ক্ষোভ শুরু হয় ২০২১ সালে। ক্যাপিটলে হামলার পর ট্রাম্পের অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন তিনি। তখন ক্যাসিডি বলেছিলেন, ওই হামলা ছিল রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং এতে ট্রাম্পের ভূমিকা ছিল উসকানিমূলক। এরপর থেকে তিনি নানা উপায়ে ট্রাম্পের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করেন। এমনকি টিকা বিরোধী অবস্থানের সমালোচক হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্পপন্থী রবার্ট কেনেডি জুনিয়রের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার পক্ষেও ভোট দেন।
তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে নতুন প্রার্থীকে সমর্থন দেন। ফলে এখন লুইজিয়ানায় কঠিন লড়াইয়ের মুখে ক্যাসিডি।
ম্যাসির অবস্থান আরও ভিন্ন
থমাস ম্যাসি নিজেকে সবসময় স্বাধীনচেতা রিপাবলিকান হিসেবে তুলে ধরেছেন। বাজেট ঘাটতি বাড়ায় দলীয় বিলের বিরোধিতা করেছেন, আবার ইরানের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া সামরিক পদক্ষেপ ঠেকানোর চেষ্টাও করেছেন।
কিন্তু ট্রাম্প সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছেন জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের দাবিতে ম্যাসির ভূমিকার কারণে। এপস্টেইন ছিলেন ট্রাম্পের পুরোনো পরিচিত। এ ঘটনায় ম্যাসিকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করেন ট্রাম্প এবং তার বিরুদ্ধে নতুন প্রার্থীকে সমর্থন দেন।
কেন্টাকির নির্বাচনী প্রচারে এখন কোটি কোটি ডলার খরচ হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল কংগ্রেস প্রাইমারিগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
দলীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগ
রিপাবলিকানদের ভেতরেই এখন প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প কি নিজের ব্যক্তিগত প্রতিশোধে দলীয় অর্থ এবং শক্তি নষ্ট করছেন? অনেক কৌশলবিদের মতে, এই অর্থ মূল নির্বাচনে দোদুল্যমান আসনগুলোতে ব্যবহার করা হলে দল উপকৃত হতো।
কিছু জরিপে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ ভোটাররা দ্রব্যমূল্য ও অর্থনীতি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে এখন ব্যক্তিগত শত্রুতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা স্থান পাচ্ছে।
সামনের নির্বাচনে প্রভাবের শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলকে আবার সাধারণ ভোটারের ইস্যুতে ফিরিয়ে আনা। যদি ট্রাম্পের প্রতিশোধমূলক রাজনীতি আরও তীব্র হয়, তাহলে নির্বাচনের আগে দলীয় ঐক্য আরও দুর্বল হতে পারে।
বিশেষ করে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ক্যাসিডির মতো নেতাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তারা যদি রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হন, তাহলে নির্বাচনের আগেই দল ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















