আমেরিকায় আবারও মুদিপণ্যের দামের ধাক্কা দেখা দিতে শুরু করেছে। কয়েক মাস আগেও ডিমের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ভোগান্তিতে পড়েছিল সাধারণ মানুষ। এবার সেই জায়গায় উঠে এসেছে টমেটো। দেশটিতে টমেটোর দাম এক বছরে প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে, যা নতুন করে খাদ্য মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টমেটো নয়, জ্বালানি ব্যয়, সার ও পরিবহন খরচ বাড়তে থাকায় আগামী মাসগুলোতে আরও অনেক খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে।
টমেটো কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
আমেরিকান খাবারে টমেটো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বার্গার, পিৎজা, কেচাপ থেকে শুরু করে নানা প্রক্রিয়াজাত খাবারে এটি ব্যবহার হয়। আলুর পর দেশটিতে সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় টমেটো। ফলে এই একটি পণ্যের দাম বাড়া পুরো খাদ্যবাজারে প্রভাব ফেলছে।
মূল কারণগুলোর একটি হলো মেক্সিকো থেকে আমদানি করা টমেটোর ওপর নতুন শুল্ক। আমেরিকায় আমদানিকৃত টমেটোর প্রায় ৯০ শতাংশই আসে মেক্সিকো থেকে। ২০২৫ সালে সাবেক বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করে নতুন করে ১৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু শুল্ক নয়, জ্বালানি সংকটও খাদ্যদাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত সারের বড় অংশই প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই গ্যাস ও জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে। ফলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
কৃষকদের জন্য আরেকটি বড় ব্যয় হলো ট্রাক্টর ও কৃষিযন্ত্র চালানোর ডিজেল। বর্তমানে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি কৃষি উৎপাদনকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলছে। যদিও অনেক কৃষক এ মৌসুমে আগেই বীজ ও অন্যান্য উপকরণ কিনে ফেলেছেন, তবুও আগামী মৌসুমে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিবহন ও প্যাকেজিংয়ে চাপ
খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার বড় একটি কারণ হয়ে উঠেছে পরিবহন খরচ। আমেরিকায় ফল ও সবজির ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ট্রাকে করে পরিবহন করা হয়। ডিজেলের দাম বাড়ায় দোকানে পণ্য পৌঁছানো এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের মতো ঠান্ডা পরিবেশে পরিবহনযোগ্য খাবারের খরচ আরও বেড়েছে।
পাশাপাশি প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের দামও বেড়েছে। কারণ প্লাস্টিক উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল তেলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শুধু খাবার নয়, শ্যাম্পু ও গৃহস্থালি পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে।
ভোক্তাদের উদ্বেগ বাড়ছে
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ফল ও সবজির দাম বছরে ৬ শতাংশ বেড়েছে। যদিও দুধ ও ডিমের দাম আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে, তবুও করোনা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় আমেরিকায় খাদ্যদ্রব্যের দাম এখন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি।
রাজনৈতিকভাবেও বিষয়টি বড় চাপ তৈরি করছে। কারণ বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ায়। প্রশাসন বিভিন্ন খাদ্যপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও সার উৎপাদনকারীদের দোষারোপ করলেও ভোক্তাদের অনেকেই তা সহজভাবে নিচ্ছেন না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















