দেশে গণতান্ত্রিক মিডিয়া কাঠামো গড়ে তুলতে মিডিয়া কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন সম্পাদক পরিষদের নেতারা। রোববার সচিবালয়ে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সম্মেলন কক্ষে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে দেশের বিদ্যমান গণমাধ্যম পরিস্থিতি, সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট আইন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
গণমাধ্যম আইন পর্যালোচনার উদ্যোগ
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির। তিনি বলেন, বর্তমান গণমাধ্যম আইন ও বিধিবিধানের বিভিন্ন অগণতান্ত্রিক দিক নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অনেক বিষয় পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
তিনি জানান, একটি গণতান্ত্রিক মিডিয়া ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব অংশীজনকে নিয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি জুনজুড়ে কাজ করবে এবং জুলাইয়ে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নতুন গণতান্ত্রিক গণমাধ্যম আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে উদ্বেগ
দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম জানান, বৈঠকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার একটি তালিকা প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২৮২ জন সাংবাদিক বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি রয়েছেন। এর মধ্যে ৯৪ জনকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের মামলা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং সরকারের ভাবমূর্তির জন্যও ভালো নয়। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং তথ্য উপদেষ্টাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন বলেও জানান তিনি।

গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরানোর আহ্বান
বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিষয়টিও উঠে আসে। নুরুল কবির বলেন, এসব অপতথ্য সমাজের সব স্তরের মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনআস্থা পুনর্গঠনে সরকার ও সম্পাদকদের যৌথভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকার যতদিন গণতান্ত্রিক আচরণ করবে, ততদিন সম্পাদকরাও তাদের সঙ্গে ইতিবাচক সংলাপে যুক্ত থাকবেন।
প্রেস কাউন্সিল শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত
বৈঠকে প্রেস কাউন্সিলকে আরও স্বাধীন, কার্যকর ও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, পত্রিকার বকেয়া বিজ্ঞাপন বিল পরিশোধ, সংবাদপত্র ঘোষণাপত্রের শর্ত হালনাগাদ, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং সংবাদপত্র শিল্পের বিভিন্ন সংকট ও সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
সম্পাদক পরিষদের নেতারা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম তিন মাসে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজকর্মে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টা সাংবাদিকদের মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়ন করেন এবং সম্পাদক পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে একটি দলীয় ছবিতেও অংশ নেন।
বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবির, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, মাহফুজ আনাম, মতিউর রহমান, মতিউর রহমান চৌধুরী, শামসুল হক জাহিদ, এএমএম বাহাউদ্দিন, রুশো মাহমুদ ও মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধান উপদেষ্টার তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানও বৈঠকে অংশ নেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















