০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা বিমানের ওয়েবসাইটে ‘অনটাইম’, বাস্তবে ২২ ঘণ্টা বিলম্ব: সিলেট-জেদ্দা ফ্লাইটে ৮ শতাধিক যাত্রীর দুর্ভোগ বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অভিযোগ, বিষয়টি আমলে নেওয়ার আহ্বান আজহারির ঢাকা ক্লাবের ১৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেইন লাউঞ্জ ঝুঁকিতে, জরুরি প্রকৌশল মূল্যায়নের তাগিদ ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ডিএমপি ব্যাংক এশিয়ার অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ, বেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রতিবন্ধী সেবার অধিকার সংকুচিত হওয়ার শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সিদ্ধান্ত বদলের আহ্বান খেলনা গাড়ির চাকার হুইলচেয়ারে নতুন জীবন পেল আহত বিড়ালছানা জেলাটো কাবেরীর পানি নিয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু, কর্ণাটকের বিরুদ্ধে আদেশ অমান্যের অভিযোগ এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ মাঝআকাশে ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেল কেন? বর্ষার আকাশে টার্বুলেন্সের ঝুঁকি ব্যাখ্যা

ধারে ভোজশালা বিতর্কে নতুন মোড়, আদালতের রায়ের পর বদলে যাচ্ছে ঐতিহাসিক কমপ্লেক্সের চেহারা

মধ্যপ্রদেশের ধার শহরের বহু পুরনো ভোজশালা-কমাল মওলা মসজিদ কমপ্লেক্স ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। উচ্চ আদালতের রায়ের একদিনের মধ্যেই সেখানে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা গেছে। যেখানে শুক্রবার হাজারো মুসল্লি নামাজ আদায় করেছিলেন, শনিবার সেই একই স্থানে দেখা গেছে হিন্দু ধর্মীয় আচার, ফুলের মালা এবং পূজার আয়োজন।

ঐতিহাসিক এই স্থাপনাকে ঘিরে বহু বছর ধরে হিন্দু ও মুসলিম দুই পক্ষের দাবি চলছিল। হিন্দুদের দাবি, এটি দেবী সরস্বতীর মন্দির ভোজশালা। অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায় এটিকে কমাল মওলা মসজিদ হিসেবে দেখে আসছে।

আদালতের রায়ে বদলে গেল পরিস্থিতি

মধ্যপ্রদেশ উচ্চ আদালত তাদের সাম্প্রতিক রায়ে বলেছে, স্থাপনাটির ধর্মীয় চরিত্র ভোজশালা বা দেবী বাগদেবীর মন্দির হিসেবেই বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগকে পুরো কমপ্লেক্সের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে সেখানে মুসলিমদের নামাজ পড়ার অনুমতি থাকবে না। এর বদলে জেলা প্রশাসনকে বিকল্প জমি দেওয়ার বিষয় বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দুই হাজার তিন সালের একটি ব্যবস্থার অধীনে মঙ্গলবার হিন্দুরা পূজা এবং শুক্রবার মুসলিমরা নামাজ আদায় করতেন।

Bhojshala dispute: Hindu outfit cites ASI report claiming temple preceded  mosque | India News - The Times of India

কমপ্লেক্সজুড়ে পূজা ও ধর্মীয় আয়োজন

শনিবার সকাল থেকেই কমপ্লেক্সের ভেতরে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়। পাথরের স্তম্ভে ঝুলছিল গাঁদা ফুলের মালা। অনেকে খালি পায়ে ভেতরে ঢুকে পূজা দেন, ফুল ছড়ান এবং ছবি তোলেন। সেখানে হনুমান চালিশা পাঠ এবং মা বাগদেবীর আরাধনাও করা হয়।

একটি কক্ষে ‘ওঁ’ চিহ্ন তৈরি করে ফুল সাজানো হয়েছিল। হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি, ওই জায়গাতেই একসময় দেবী সরস্বতীর মূর্তি ছিল।

রায়কে ঘিরে উচ্ছ্বাস ও নতুন দাবি

মামলার এক আবেদনকারী কুলদীপ তিওয়ারি আদালতের রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এখন তাদের দাবি ব্রিটিশ জাদুঘরে থাকা সরস্বতীর সেই পুরনো মূর্তি ভারতে ফিরিয়ে আনা হোক।

কিছু হিন্দু সংগঠন ইতোমধ্যে কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা মুসলিম আমলের বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে দেওয়ার দাবিও তুলেছে। তাদের বক্তব্য, পুরো এলাকা “পুরনো রূপে” ফিরিয়ে আনতে হবে।

মুসলিম পক্ষের উদ্বেগ বাড়ছে

অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কমাল মওলা দরগাহের খাদেম পরিবারগুলোর সদস্যরা বলছেন, শত শত বছর ধরে এখানে নামাজ আদায় হয়ে আসছে।

মাওলানা কমাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুল সামাদ বলেছেন, তারা আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার দাবি, নামাজ আদায়ের জন্য তাদের আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই, কারণ এটি দীর্ঘদিনের ধর্মীয় চর্চার অংশ।

স্থানীয় কাজি ওয়াকার সিদ্দিকীও বলেছেন, কমপ্লেক্সের ভেতরে মেহরাব, ওজুখানা ও কবরসহ বিভিন্ন ইসলামিক নিদর্শন রয়েছে। সেগুলোর সুরক্ষা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

ধারে বাড়ছে উত্তেজনা

রায়ের পর ধার শহরের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে উদ্বেগের পরিবেশ দেখা গেছে। অনেক দোকানপাট বন্ধ ছিল। রাস্তায় টহল বাড়িয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বলছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের পরিবার এখানে নামাজ পড়ে এসেছে। এখন ভবিষ্যতে সেই সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে তারা শঙ্কায় আছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা

ধারে ভোজশালা বিতর্কে নতুন মোড়, আদালতের রায়ের পর বদলে যাচ্ছে ঐতিহাসিক কমপ্লেক্সের চেহারা

০৮:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

মধ্যপ্রদেশের ধার শহরের বহু পুরনো ভোজশালা-কমাল মওলা মসজিদ কমপ্লেক্স ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। উচ্চ আদালতের রায়ের একদিনের মধ্যেই সেখানে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা গেছে। যেখানে শুক্রবার হাজারো মুসল্লি নামাজ আদায় করেছিলেন, শনিবার সেই একই স্থানে দেখা গেছে হিন্দু ধর্মীয় আচার, ফুলের মালা এবং পূজার আয়োজন।

ঐতিহাসিক এই স্থাপনাকে ঘিরে বহু বছর ধরে হিন্দু ও মুসলিম দুই পক্ষের দাবি চলছিল। হিন্দুদের দাবি, এটি দেবী সরস্বতীর মন্দির ভোজশালা। অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায় এটিকে কমাল মওলা মসজিদ হিসেবে দেখে আসছে।

আদালতের রায়ে বদলে গেল পরিস্থিতি

মধ্যপ্রদেশ উচ্চ আদালত তাদের সাম্প্রতিক রায়ে বলেছে, স্থাপনাটির ধর্মীয় চরিত্র ভোজশালা বা দেবী বাগদেবীর মন্দির হিসেবেই বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগকে পুরো কমপ্লেক্সের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে সেখানে মুসলিমদের নামাজ পড়ার অনুমতি থাকবে না। এর বদলে জেলা প্রশাসনকে বিকল্প জমি দেওয়ার বিষয় বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দুই হাজার তিন সালের একটি ব্যবস্থার অধীনে মঙ্গলবার হিন্দুরা পূজা এবং শুক্রবার মুসলিমরা নামাজ আদায় করতেন।

Bhojshala dispute: Hindu outfit cites ASI report claiming temple preceded  mosque | India News - The Times of India

কমপ্লেক্সজুড়ে পূজা ও ধর্মীয় আয়োজন

শনিবার সকাল থেকেই কমপ্লেক্সের ভেতরে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়। পাথরের স্তম্ভে ঝুলছিল গাঁদা ফুলের মালা। অনেকে খালি পায়ে ভেতরে ঢুকে পূজা দেন, ফুল ছড়ান এবং ছবি তোলেন। সেখানে হনুমান চালিশা পাঠ এবং মা বাগদেবীর আরাধনাও করা হয়।

একটি কক্ষে ‘ওঁ’ চিহ্ন তৈরি করে ফুল সাজানো হয়েছিল। হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি, ওই জায়গাতেই একসময় দেবী সরস্বতীর মূর্তি ছিল।

রায়কে ঘিরে উচ্ছ্বাস ও নতুন দাবি

মামলার এক আবেদনকারী কুলদীপ তিওয়ারি আদালতের রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এখন তাদের দাবি ব্রিটিশ জাদুঘরে থাকা সরস্বতীর সেই পুরনো মূর্তি ভারতে ফিরিয়ে আনা হোক।

কিছু হিন্দু সংগঠন ইতোমধ্যে কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা মুসলিম আমলের বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে দেওয়ার দাবিও তুলেছে। তাদের বক্তব্য, পুরো এলাকা “পুরনো রূপে” ফিরিয়ে আনতে হবে।

মুসলিম পক্ষের উদ্বেগ বাড়ছে

অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কমাল মওলা দরগাহের খাদেম পরিবারগুলোর সদস্যরা বলছেন, শত শত বছর ধরে এখানে নামাজ আদায় হয়ে আসছে।

মাওলানা কমাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুল সামাদ বলেছেন, তারা আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার দাবি, নামাজ আদায়ের জন্য তাদের আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই, কারণ এটি দীর্ঘদিনের ধর্মীয় চর্চার অংশ।

স্থানীয় কাজি ওয়াকার সিদ্দিকীও বলেছেন, কমপ্লেক্সের ভেতরে মেহরাব, ওজুখানা ও কবরসহ বিভিন্ন ইসলামিক নিদর্শন রয়েছে। সেগুলোর সুরক্ষা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

ধারে বাড়ছে উত্তেজনা

রায়ের পর ধার শহরের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে উদ্বেগের পরিবেশ দেখা গেছে। অনেক দোকানপাট বন্ধ ছিল। রাস্তায় টহল বাড়িয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বলছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের পরিবার এখানে নামাজ পড়ে এসেছে। এখন ভবিষ্যতে সেই সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে তারা শঙ্কায় আছেন।