০২:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা বিমানের ওয়েবসাইটে ‘অনটাইম’, বাস্তবে ২২ ঘণ্টা বিলম্ব: সিলেট-জেদ্দা ফ্লাইটে ৮ শতাধিক যাত্রীর দুর্ভোগ বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অভিযোগ, বিষয়টি আমলে নেওয়ার আহ্বান আজহারির ঢাকা ক্লাবের ১৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেইন লাউঞ্জ ঝুঁকিতে, জরুরি প্রকৌশল মূল্যায়নের তাগিদ ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ডিএমপি ব্যাংক এশিয়ার অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ, বেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রতিবন্ধী সেবার অধিকার সংকুচিত হওয়ার শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সিদ্ধান্ত বদলের আহ্বান খেলনা গাড়ির চাকার হুইলচেয়ারে নতুন জীবন পেল আহত বিড়ালছানা জেলাটো কাবেরীর পানি নিয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু, কর্ণাটকের বিরুদ্ধে আদেশ অমান্যের অভিযোগ এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ মাঝআকাশে ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেল কেন? বর্ষার আকাশে টার্বুলেন্সের ঝুঁকি ব্যাখ্যা

জাপানে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি

জাপানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। জনসংখ্যা কমে যাওয়া, শ্রমঘাটতি এবং শিল্পখাতে দক্ষ কর্মীর সংকট মোকাবিলায় বিদেশিদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে দেশগুলোর। তবে একই সময়ে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত কঠোর করা এবং বিদেশিদের ওপর নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে। ফলে শ্রমবাজারে বিদেশিদের গুরুত্ব বাড়লেও তাদের জন্য বাস্তবতা আরও জটিল হয়ে উঠছে।

জাপানে বর্তমানে উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিদেশি কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মিয়ানমার থেকে আসা কর্মীরা দেশটির শ্রমঘাটতি পূরণে বড় অবদান রাখছেন। গ্রামীণ এলাকায় স্থানীয় কর্মীর সংকট বাড়ায় বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরতা আরও বেড়েছে।

বিদেশি শ্রমিক নিয়ে নতুন বাস্তবতা

জাপানের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে দক্ষ কর্মী আনার উদ্যোগ বাড়িয়েছে। বিমান পরিবহন, জাহাজ নির্মাণ এবং পরিচর্যা খাতে বিদেশি কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু হয়েছে। তবে বিদেশিদের জন্য ভাষা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণব্যবস্থা এখনও সীমিত। নতুন কর্মদক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে স্বীকৃত ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় বিদেশি কর্মীদের অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন।

এদিকে বিদেশি কর্মীদের ধরে রাখাও জাপানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কর্মী শহরমুখী হচ্ছেন বা বেশি আয়ের সুযোগে অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন। ফলে গ্রামীণ কোম্পানিগুলো নতুন করে কর্মী সংকটে পড়ছে।

কঠোর হচ্ছে নাগরিকত্ব ও বসবাসের নিয়ম

জাপান সরকার সম্প্রতি নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত আরও কঠোর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় বসবাসের প্রমাণ এবং কর সংক্রান্ত নথি জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেও ভাষাজ্ঞান ও সামাজিক সংযুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার চিন্তা চলছে।

অভিবাসন বিলেও নতুন কিছু প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে আগাম যাচাই প্রক্রিয়া এবং আবাসন নবায়ন ফি বৃদ্ধি। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে “সুশৃঙ্খল সহাবস্থান” নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বিদেশিদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।

Indonesian workers in the Japanese city of Utsunomiya participate in an online Japanese course. (Photo by Eugene Lang)

এশিয়া ও ইউরোপে নতুন অভিবাসন প্রবণতা

শুধু জাপান নয়, এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও অভিবাসন নিয়ে নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মালয়েশিয়া বিদেশি নির্বাহীদের জন্য ন্যূনতম বেতনসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিঙ্গাপুর ভ্রমণের আগেই “অবাঞ্ছিত” ব্যক্তিদের ঠেকাতে নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। অন্যদিকে জার্মানিতে স্বাস্থ্যখাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের নার্সদের জন্য চাহিদা বেড়েছে।

এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছাকাছি অবস্থান ও সহজ প্রবেশব্যবস্থার কারণে সার্বিয়া এখন অনেক চীনা আশ্রয়প্রার্থীর কাছে নতুন গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দক্ষিণ এশীয় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি, জনসংখ্যা সংকট এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে অভিবাসন এখন বড় নীতিগত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে বিদেশি শ্রমিক ছাড়া অর্থনীতি সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের কারণে বিভিন্ন সরকার অভিবাসন নিয়ন্ত্রণেও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে অভিবাসন নীতি আরও গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক আলোচনায় পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি

জাপানসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশিদের চাহিদা বাড়ছে, তবে একই সঙ্গে কঠোর হচ্ছে অভিবাসন ও নাগরিকত্ব নীতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা

জাপানে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি

০৯:১৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

জাপানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। জনসংখ্যা কমে যাওয়া, শ্রমঘাটতি এবং শিল্পখাতে দক্ষ কর্মীর সংকট মোকাবিলায় বিদেশিদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে দেশগুলোর। তবে একই সময়ে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত কঠোর করা এবং বিদেশিদের ওপর নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে। ফলে শ্রমবাজারে বিদেশিদের গুরুত্ব বাড়লেও তাদের জন্য বাস্তবতা আরও জটিল হয়ে উঠছে।

জাপানে বর্তমানে উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিদেশি কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মিয়ানমার থেকে আসা কর্মীরা দেশটির শ্রমঘাটতি পূরণে বড় অবদান রাখছেন। গ্রামীণ এলাকায় স্থানীয় কর্মীর সংকট বাড়ায় বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরতা আরও বেড়েছে।

বিদেশি শ্রমিক নিয়ে নতুন বাস্তবতা

জাপানের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে দক্ষ কর্মী আনার উদ্যোগ বাড়িয়েছে। বিমান পরিবহন, জাহাজ নির্মাণ এবং পরিচর্যা খাতে বিদেশি কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু হয়েছে। তবে বিদেশিদের জন্য ভাষা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণব্যবস্থা এখনও সীমিত। নতুন কর্মদক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে স্বীকৃত ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় বিদেশি কর্মীদের অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন।

এদিকে বিদেশি কর্মীদের ধরে রাখাও জাপানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কর্মী শহরমুখী হচ্ছেন বা বেশি আয়ের সুযোগে অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন। ফলে গ্রামীণ কোম্পানিগুলো নতুন করে কর্মী সংকটে পড়ছে।

কঠোর হচ্ছে নাগরিকত্ব ও বসবাসের নিয়ম

জাপান সরকার সম্প্রতি নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত আরও কঠোর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় বসবাসের প্রমাণ এবং কর সংক্রান্ত নথি জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেও ভাষাজ্ঞান ও সামাজিক সংযুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার চিন্তা চলছে।

অভিবাসন বিলেও নতুন কিছু প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে আগাম যাচাই প্রক্রিয়া এবং আবাসন নবায়ন ফি বৃদ্ধি। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে “সুশৃঙ্খল সহাবস্থান” নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বিদেশিদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।

Indonesian workers in the Japanese city of Utsunomiya participate in an online Japanese course. (Photo by Eugene Lang)

এশিয়া ও ইউরোপে নতুন অভিবাসন প্রবণতা

শুধু জাপান নয়, এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও অভিবাসন নিয়ে নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মালয়েশিয়া বিদেশি নির্বাহীদের জন্য ন্যূনতম বেতনসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিঙ্গাপুর ভ্রমণের আগেই “অবাঞ্ছিত” ব্যক্তিদের ঠেকাতে নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। অন্যদিকে জার্মানিতে স্বাস্থ্যখাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের নার্সদের জন্য চাহিদা বেড়েছে।

এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছাকাছি অবস্থান ও সহজ প্রবেশব্যবস্থার কারণে সার্বিয়া এখন অনেক চীনা আশ্রয়প্রার্থীর কাছে নতুন গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দক্ষিণ এশীয় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি, জনসংখ্যা সংকট এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে অভিবাসন এখন বড় নীতিগত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে বিদেশি শ্রমিক ছাড়া অর্থনীতি সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের কারণে বিভিন্ন সরকার অভিবাসন নিয়ন্ত্রণেও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে অভিবাসন নীতি আরও গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক আলোচনায় পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি

জাপানসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশিদের চাহিদা বাড়ছে, তবে একই সঙ্গে কঠোর হচ্ছে অভিবাসন ও নাগরিকত্ব নীতি।