১০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
শীতল যুদ্ধ থেকে ওয়াটারগেট: বদলে যাওয়া আমেরিকার দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই হোয়াইট হাউসে ইউএফসি আয়োজন ঘিরে বিতর্ক, ট্রাম্পকে নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ট্রাম্পবিরোধী ভোটের মূল্য চুকালেন ক্যাসিডি, লুইজিয়ানার প্রাইমারিতে বড় ধাক্কা জেফ্রি এপস্টেইন রহস্য: ক্ষমতা, অর্থ আর যৌন অপরাধের জাল ঘিরে নতুন বিস্ফোরক তথ্য ট্রাম্পবিরোধী ভোটের মূল্য দিলেন রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি ইতিহাসের নীরবতা, উত্তরাধিকার আর তরুণ লেখকের সাহস অভিনেত্রীদের স্বপ্ন আর মধ্যবিত্ত জীবনের গল্প নিয়েই এগোতে চান অশ্বিনী আইয়ার তিওয়ারি জাপানে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি তামিলনাড়ুতে বিজয়ের উত্থান, নতুন করে আলোচনায় শ্রীলঙ্কার জাতিগত রাজনীতি ভারতে রুপির চাপে রুপা আমদানিতে কড়াকড়ি, বাড়ল নিয়ন্ত্রণ

ট্রাম্পবিরোধী ভোটের মূল্য দিলেন রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের অভিশংসন বিচারে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি। পাঁচ বছর পর সেই সিদ্ধান্তই তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াল। লুইজিয়ানার রিপাবলিকান প্রাইমারিতে পরাজিত হয়ে কার্যত সিনেট ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন তিনি।

লুইজিয়ানার নির্বাচনে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী জুলিয়া লেটলো এগিয়ে থেকে রানঅফে জায়গা করে নেন। প্রায় সব ভোট গণনা শেষে লেটলো পান ৪৫ শতাংশ ভোট, রাজ্যের ট্রেজারার জন ফ্লেমিং পান ২৮ শতাংশ এবং ক্যাসিডি পিছিয়ে পড়েন ২৪ শতাংশ ভোট নিয়ে। ফলে তিনি দ্বিতীয় ধাপের লড়াইয়ে উঠতেই পারেননি।

ট্রাম্পের প্রতিশোধের রাজনীতি

২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলার পর ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন সাতজন রিপাবলিকান সিনেটর। সেই সময় থেকেই ট্রাম্প তার বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। ক্যাসিডির পরাজয়কে সেই প্রতিশোধের রাজনীতির বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজের সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ক্যাসিডির রাজনৈতিক জীবন এখন “শেষ”। তিনি আরও বলেন, যিনি তাকে নির্বাচিত হতে সাহায্য করেছিলেন, তার প্রতিই ক্যাসিডি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন।

এর আগে ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানের কারণে রিপাবলিকান নেত্রী লিজ চেনিও প্রাইমারিতে হেরে যান। ক্যাসিডির হার সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Takeaways from Sen. Bill Cassidy's defeat in Louisiana Senate primary  election | CNN Politics

লেটলোর উত্থান

৪৫ বছর বয়সী জুলিয়া লেটলো ২০২১ সালে বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসে আসেন। তার স্বামী লুক লেটলো নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ নেওয়ার আগেই মারা যান। পরে সেই আসনে জয়ী হন জুলিয়া।

প্রচারণায় তিনি বারবার ট্রাম্পের সমর্থনের বিষয়টি সামনে আনেন। একই সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের বরাদ্দ কমিটিতে নিজের কাজ এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তার প্রচারণার মূল বার্তা ছিল— ট্রাম্পের বিশ্বস্ত মিত্র হওয়া।

অন্যদিকে জন ফ্লেমিং নিজেকে আরও রক্ষণশীল প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে তিনি হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবেও কাজ করেছিলেন।

ক্যাসিডির ব্যর্থ কৌশল

বিল ক্যাসিডি প্রচারণায় আর্থিকভাবে শক্ত অবস্থানে ছিলেন। তার প্রচারণা এবং সমর্থিত সুপার প্যাক মিলিয়ে ২ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি বিজ্ঞাপনে ব্যয় করা হয়। কিন্তু এত ব্যয়ও ভোটারদের মন ফেরাতে পারেনি।

ক্যাসিডি নিজেকে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প তার লেখা বা আলোচনায় অংশ নেওয়া কয়েকটি বিল আইনে পরিণত করেছেন। তবে ভোটারদের বড় অংশ তার অভিশংসন বিচারের ভোট ভুলতে পারেননি।

লেটলোও প্রচারণায় বারবার সেই প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তার ভাষায়, রিপাবলিকান ভোটাররা এখনও সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ এবং মনে করেন ক্যাসিডি তাদের বিশ্বাস ভেঙেছেন।

রিপাবলিকান রাজনীতিতে বার্তা

ক্যাসিডির পরাজয় রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ট্রাম্পের প্রভাব কতটা শক্তিশালী, সেটিও আবার সামনে এনে দিয়েছে। যারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে রাজনীতি থেকে সরে গেছেন বা নির্বাচনে হেরেছেন।

বর্তমানে সেই সাত রিপাবলিকান সিনেটরের মধ্যে মাত্র কয়েকজন এখনও সিনেটে রয়েছেন। আর প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেওয়া বেশিরভাগ রিপাবলিকানও ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

শীতল যুদ্ধ থেকে ওয়াটারগেট: বদলে যাওয়া আমেরিকার দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই

ট্রাম্পবিরোধী ভোটের মূল্য দিলেন রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি

০৯:২৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের অভিশংসন বিচারে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি। পাঁচ বছর পর সেই সিদ্ধান্তই তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াল। লুইজিয়ানার রিপাবলিকান প্রাইমারিতে পরাজিত হয়ে কার্যত সিনেট ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন তিনি।

লুইজিয়ানার নির্বাচনে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী জুলিয়া লেটলো এগিয়ে থেকে রানঅফে জায়গা করে নেন। প্রায় সব ভোট গণনা শেষে লেটলো পান ৪৫ শতাংশ ভোট, রাজ্যের ট্রেজারার জন ফ্লেমিং পান ২৮ শতাংশ এবং ক্যাসিডি পিছিয়ে পড়েন ২৪ শতাংশ ভোট নিয়ে। ফলে তিনি দ্বিতীয় ধাপের লড়াইয়ে উঠতেই পারেননি।

ট্রাম্পের প্রতিশোধের রাজনীতি

২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলার পর ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন সাতজন রিপাবলিকান সিনেটর। সেই সময় থেকেই ট্রাম্প তার বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। ক্যাসিডির পরাজয়কে সেই প্রতিশোধের রাজনীতির বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজের সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ক্যাসিডির রাজনৈতিক জীবন এখন “শেষ”। তিনি আরও বলেন, যিনি তাকে নির্বাচিত হতে সাহায্য করেছিলেন, তার প্রতিই ক্যাসিডি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন।

এর আগে ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানের কারণে রিপাবলিকান নেত্রী লিজ চেনিও প্রাইমারিতে হেরে যান। ক্যাসিডির হার সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Takeaways from Sen. Bill Cassidy's defeat in Louisiana Senate primary  election | CNN Politics

লেটলোর উত্থান

৪৫ বছর বয়সী জুলিয়া লেটলো ২০২১ সালে বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসে আসেন। তার স্বামী লুক লেটলো নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ নেওয়ার আগেই মারা যান। পরে সেই আসনে জয়ী হন জুলিয়া।

প্রচারণায় তিনি বারবার ট্রাম্পের সমর্থনের বিষয়টি সামনে আনেন। একই সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের বরাদ্দ কমিটিতে নিজের কাজ এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তার প্রচারণার মূল বার্তা ছিল— ট্রাম্পের বিশ্বস্ত মিত্র হওয়া।

অন্যদিকে জন ফ্লেমিং নিজেকে আরও রক্ষণশীল প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে তিনি হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবেও কাজ করেছিলেন।

ক্যাসিডির ব্যর্থ কৌশল

বিল ক্যাসিডি প্রচারণায় আর্থিকভাবে শক্ত অবস্থানে ছিলেন। তার প্রচারণা এবং সমর্থিত সুপার প্যাক মিলিয়ে ২ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি বিজ্ঞাপনে ব্যয় করা হয়। কিন্তু এত ব্যয়ও ভোটারদের মন ফেরাতে পারেনি।

ক্যাসিডি নিজেকে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প তার লেখা বা আলোচনায় অংশ নেওয়া কয়েকটি বিল আইনে পরিণত করেছেন। তবে ভোটারদের বড় অংশ তার অভিশংসন বিচারের ভোট ভুলতে পারেননি।

লেটলোও প্রচারণায় বারবার সেই প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তার ভাষায়, রিপাবলিকান ভোটাররা এখনও সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ এবং মনে করেন ক্যাসিডি তাদের বিশ্বাস ভেঙেছেন।

রিপাবলিকান রাজনীতিতে বার্তা

ক্যাসিডির পরাজয় রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ট্রাম্পের প্রভাব কতটা শক্তিশালী, সেটিও আবার সামনে এনে দিয়েছে। যারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে রাজনীতি থেকে সরে গেছেন বা নির্বাচনে হেরেছেন।

বর্তমানে সেই সাত রিপাবলিকান সিনেটরের মধ্যে মাত্র কয়েকজন এখনও সিনেটে রয়েছেন। আর প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেওয়া বেশিরভাগ রিপাবলিকানও ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।