রুপির ওপর চাপ কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষায় এবার রুপা আমদানিতে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে ভারত সরকার। দেশীয় ব্যবহারের জন্য রুপা আমদানিকে ‘নিয়ন্ত্রিত’ শ্রেণিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে রুপা আমদানির আগে সরকারের অনুমোদন নিতে হবে।
সম্প্রতি স্বর্ণ ও রুপার আমদানি দ্রুত বাড়তে থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয় ভারতের অর্থনৈতিক মহলে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে দিল্লি।
শুল্ক বাড়ানোর পর নতুন সিদ্ধান্ত
গত সপ্তাহেই স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে প্লাটিনামের শুল্কও বাড়ানো হয়েছে। সরকারের দাবি, বিলাসপণ্য ও বিনিয়োগভিত্তিক এসব ধাতুর অতিরিক্ত আমদানি দেশের চলতি হিসাব ঘাটতি বাড়াচ্ছে।
এর পরদিনই রপ্তানিমুখী বিশেষ প্রকল্পের আওতায় স্বর্ণ আমদানির পরিমাণ ১০০ কেজিতে সীমাবদ্ধ করা হয়। এবার সেই ধারাবাহিকতায় রুপা আমদানির ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হলো।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ রুপার বার যদি দেশীয় বাজারে ব্যবহারের জন্য আনা হয়, তাহলে তা নিয়ন্ত্রিত আমদানির আওতায় পড়বে। তবে গয়না তৈরির জন্য আমদানি করা রুপা এবং মূল্য সংযোজনভিত্তিক রপ্তানির ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানও কিছু শর্তে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে, যদি সেই পণ্য দেশীয় বাজারে বিক্রি না করা হয়।

রুপা ও স্বর্ণ আমদানিতে বড় উল্লম্ফন
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতে রুপা আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০৫ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫০ শতাংশ বেশি। পরিমাণের হিসেবে আমদানি বেড়েছে ৪২ শতাংশ, মোট ৭ হাজার ৩৩৪ টনে পৌঁছেছে।
এই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম প্রায় ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে স্বর্ণ আমদানিও ২৪ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৭ হাজার ১৯৮ কোটি ডলারে পৌঁছায়। যদিও স্বর্ণ আমদানির পরিমাণ সামান্য কমেছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দামের উল্লম্ফনের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে।
এপ্রিল মাসেও এই প্রবণতা অব্যাহত ছিল। এক বছরের ব্যবধানে স্বর্ণ আমদানি বেড়েছে ৮১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং রুপা আমদানি বেড়েছে ১৫৭ শতাংশ।
রুপির ওপর বাড়ছে চাপ
ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকায় আমদানি ব্যয় আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে মূল্যবান ধাতুর বাড়তি আমদানি রুপির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, স্বর্ণ ও রুপা সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলোর বড় অংশই ভোগ ও বিনিয়োগনির্ভর। ফলে এসব আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বেরিয়ে যাচ্ছে।
তাদের মতে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা মূলত জ্বালানি, সার, শিল্পের কাঁচামাল, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি আমদানির মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় হওয়া উচিত।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর গত ১০ সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে মূল্যবান ধাতুর আমদানি নিয়ন্ত্রণকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সরকার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















