২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি। পাঁচ বছর পর সেই সিদ্ধান্তই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় মূল্য হয়ে দাঁড়াল। লুইজিয়ানার রিপাবলিকান প্রাইমারিতে পরাজিত হয়ে কার্যত সেনেট থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে তাকে।
শনিবারের নির্বাচনে ক্যাসিডি রানঅফে জায়গা করতে ব্যর্থ হন। ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী জুলিয়া লেটলো এগিয়ে থেকে জুনের রানঅফে প্রবেশ করেছেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন রাজ্যের ট্রেজারার জন ফ্লেমিং। প্রায় সব ভোট গণনা শেষে লেটলো পান ৪৫ শতাংশ ভোট, ফ্লেমিং ২৮ শতাংশ এবং ক্যাসিডি ২৪ শতাংশ ভোটে পিছিয়ে পড়েন।
ট্রাম্পের প্রতিশোধের রাজনীতি
ক্যাসিডির এই পরাজয়কে অনেকেই ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিশোধের বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। ২০২১ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বিচারে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন মাত্র সাতজন রিপাবলিকান সিনেটর। তাদের মধ্যে ক্যাসিডিই প্রথম, যিনি প্রাইমারি নির্বাচনে পরাজিত হলেন।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ক্যাসিডির পরাজয় উদযাপন করে লেখেন, তার “অবিশ্বস্ততা” এখন রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হওয়াই স্বাভাবিক পরিণতি।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্যাসিডির হার শুধু একটি প্রাইমারি পরাজয় নয়; এটি রিপাবলিকান পার্টিতে ট্রাম্পের প্রভাব কতটা গভীর, তারও স্পষ্ট বার্তা।
লেটলোর উত্থান
৪৫ বছর বয়সী জুলিয়া লেটলো ২০২১ সালে বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসে আসেন। তার স্বামী লুক লেটলো নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ নেওয়ার আগেই মারা যান। এরপর সেই আসনেই জয়ী হন জুলিয়া।
পুরো প্রচারণাজুড়ে তিনি ট্রাম্পের সমর্থনকে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে বারবার তুলে ধরা হয়, তিনিই একমাত্র প্রার্থী যিনি ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক সমর্থন পেয়েছেন।
অন্যদিকে জন ফ্লেমিং নিজেকে আরও রক্ষণশীল প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবেও কাজ করেছিলেন।
অর্থ ও প্রচারণায় এগিয়েও হার
অর্থের দিক থেকে ক্যাসিডি অনেক এগিয়ে ছিলেন। তার প্রচারণা ও সমর্থিত সুপার প্যাক মিলিয়ে ২ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করা হয়, যা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্মিলিত ব্যয়ের চেয়েও বেশি।
তবু ভোটারদের বড় অংশ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। বিশেষ করে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার ভোট নিয়ে রিপাবলিকান ভোটারদের ক্ষোভ এখনও রয়েছে বলে নির্বাচনী প্রচারণায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ক্যাসিডি অবশ্য নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তিনি ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা তার রয়েছে এবং লুইজিয়ানার জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করাতে ভূমিকা রেখেছেন।
নতুন নির্বাচনী ব্যবস্থাও আলোচনায়
এবারের নির্বাচন ছিল লুইজিয়ানার নতুন প্রাইমারি ব্যবস্থার অধীনে প্রথম বড় ভোট। আগে সব প্রার্থী একই ব্যালটে অংশ নিতেন। এখন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের জন্য আলাদা প্রাইমারি হচ্ছে।
ক্যাসিডি অভিযোগ করেন, অনেক ভোটার নতুন নিয়ম বুঝতে না পেরে ভোট দিতে সমস্যায় পড়েছেন। যদিও রাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ভোটারদের সচেতন করতে পর্যাপ্ত প্রচারণা চালানো হয়েছে।
ট্রাম্পবিরোধীদের সংকট
ক্যাসিডির পরাজয় রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানের ঝুঁকিও আবার সামনে নিয়ে এসেছে। এর আগে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য লিজ চেনিও ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানের কারণে প্রাইমারিতে হেরে যান।
বর্তমানে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দেওয়া রিপাবলিকান সিনেটরদের মধ্যে কেবল লিসা মারকাওস্কি ও সুসান কলিন্স সেনেটে রয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রিপাবলিকান রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব এখনও এতটাই শক্তিশালী যে, তার বিরোধিতা করা অনেক নেতার জন্য রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
ট্রাম্পবিরোধী ভোটের কারণে বিল ক্যাসিডির প্রাইমারি পরাজয় রিপাবলিকান রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাবকে আবারও সামনে এনেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















