১০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
শীতল যুদ্ধ থেকে ওয়াটারগেট: বদলে যাওয়া আমেরিকার দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই হোয়াইট হাউসে ইউএফসি আয়োজন ঘিরে বিতর্ক, ট্রাম্পকে নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ট্রাম্পবিরোধী ভোটের মূল্য চুকালেন ক্যাসিডি, লুইজিয়ানার প্রাইমারিতে বড় ধাক্কা জেফ্রি এপস্টেইন রহস্য: ক্ষমতা, অর্থ আর যৌন অপরাধের জাল ঘিরে নতুন বিস্ফোরক তথ্য ট্রাম্পবিরোধী ভোটের মূল্য দিলেন রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি ইতিহাসের নীরবতা, উত্তরাধিকার আর তরুণ লেখকের সাহস অভিনেত্রীদের স্বপ্ন আর মধ্যবিত্ত জীবনের গল্প নিয়েই এগোতে চান অশ্বিনী আইয়ার তিওয়ারি জাপানে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি তামিলনাড়ুতে বিজয়ের উত্থান, নতুন করে আলোচনায় শ্রীলঙ্কার জাতিগত রাজনীতি ভারতে রুপির চাপে রুপা আমদানিতে কড়াকড়ি, বাড়ল নিয়ন্ত্রণ

ইতিহাসের নীরবতা, উত্তরাধিকার আর তরুণ লেখকের সাহস

বিশ্বসাহিত্যে মাঝে মধ্যেই এমন কিছু তরুণ লেখকের আবির্ভাব ঘটে, যাঁরা বয়সের তুলনায় অস্বাভাবিক পরিপক্বতা নিয়ে হাজির হন। তাঁদের কাজ দেখে বিস্ময় জাগে—এত অল্প বয়সে কেউ কীভাবে ইতিহাস, পারিবারিক স্মৃতি, সহিংসতা, অপরাধবোধ আর রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মতো জটিল বিষয়কে এত গভীরভাবে ধরতে পারে? সুইস লেখক নেলিও বিয়েডারমান সেই বিরল ব্যতিক্রমদের একজন। মাত্র ২২ বছর বয়সে তাঁর উপন্যাস ‘লাজার’ ইউরোপীয় সাহিত্যজগতে আলোড়ন তুলেছে। কিন্তু এই সাফল্যের ভেতরে আরও গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি লুকিয়ে আছে, তা হলো—একটি পরিবারের নীরব ইতিহাসকে পুনর্গঠনের চেষ্টা।

আধুনিক পৃথিবীতে পারিবারিক ইতিহাস নিয়ে লেখালেখি নতুন কিছু নয়। কিন্তু বিয়েডারমানের কাজের বিশেষত্ব হলো, তিনি তাঁর উত্তরাধিকারকে মহিমান্বিত করেন না; বরং তার অন্ধকার দিকগুলোকেও সামনে আনেন। তাঁর পরিবার ছিল হাঙ্গেরির অভিজাত শ্রেণির অংশ। যুদ্ধ, নাৎসি সহযোগিতা, কমিউনিস্ট দমন-পীড়ন, সম্পত্তি হারানো, নির্বাসন—সব মিলিয়ে এক শতকের রাজনৈতিক উথালপাথাল সেই পরিবারের জীবনকে ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু তিনি শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস লেখেননি; তিনি দেখিয়েছেন, বড় ঐতিহাসিক বিপর্যয় শেষ পর্যন্ত গিয়ে পরিবারগুলোর ভেতরেই জমা হয়।

এই জায়গাটাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইতিহাস সাধারণত রাষ্ট্র, যুদ্ধ বা নেতাদের কেন্দ্র করে লেখা হয়। অথচ ব্যক্তিগত স্মৃতি, পারিবারিক গোপনতা কিংবা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অপরাধবোধ প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়। বিয়েডারমান সেই আড়ালটাকেই সাহিত্যের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শৈশবে দাদীর মুখে শোনা গল্পগুলো প্রথমে রূপকথার মতো মনে হলেও বড় হতে হতে তিনি বুঝেছেন, সেই গল্পের ফাঁকে ফাঁকে ভয়ঙ্কর অন্ধকার লুকিয়ে আছে। আত্মহত্যা, যুদ্ধকালীন সংশ্লিষ্টতা, রাজনৈতিক নিষ্ঠুরতা—সবকিছুই ছিল সেই নীরবতার অংশ।

আজকের প্রজন্মকে প্রায়ই অভিযুক্ত করা হয় যে তারা সংক্ষিপ্ত মনোযোগের যুগে বাস করে, গভীরতা বা ধৈর্যের অভাবে ভোগে। সামাজিক মাধ্যমের দ্রুতগতির সংস্কৃতি তরুণদের দীর্ঘ ও জটিল বয়ান থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে—এমন অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু বিয়েডারমানের সাহিত্যিক পথ সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। তিনি যখন ১৬ বছর বয়সে এই উপন্যাস লেখা শুরু করেন, তখনও জানতেন না তিনি আদৌ লেখক হতে পারবেন কি না। বছরের পর বছর ধরে খসড়া লিখে ফেলে দেওয়া, আবার শুরু করা, বারবার ব্যর্থ হওয়া—এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তিনি এগিয়েছেন।

Lázár | Book by Nelio Biedermann, Jamie Bulloch | Official Publisher Page |  Simon & Schuster Canada

এখানে তাঁর অভিজ্ঞতা শুধু সাহিত্যিক অনুপ্রেরণা নয়, বরং সৃজনশীল শ্রমের বাস্তব পাঠ। প্রতিভা নিয়ে রোমান্টিক ধারণা আমাদের সংস্কৃতিতে প্রবল। আমরা চূড়ান্ত সাফল্য দেখি, কিন্তু তার পেছনের অসমাপ্ত খসড়া, আত্মসংশয় আর ক্লান্তিকর পুনর্লিখন দেখি না। বিয়েডারমানের বক্তব্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে মূল্যবান, তা হলো ধারাবাহিকতার প্রতি তাঁর আস্থা। তিনি মনে করিয়ে দেন, বড় কাজ একদিনে তৈরি হয় না; প্রতিদিনের ছোট ছোট প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ রচনায় পরিণত হয়।

তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আত্মসচেতনতা। অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক প্রশংসা পাওয়া অনেক লেখকই আত্মমুগ্ধতার ফাঁদে পড়ে যান। কিন্তু বিয়েডারমান সেই প্রলোভন থেকে দূরে থাকতে চান। তাঁকে থমাস মানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, প্রকাশকরা তাঁর বই নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন—এই প্রশংসাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা বিপজ্জনক। কারণ অতিরিক্ত প্রশংসা যেমন লেখাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তেমনি তীব্র সমালোচনাও পারে। এই ভারসাম্য রক্ষা করার মানসিকতা একজন লেখকের দীর্ঘ পথচলার জন্য জরুরি।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় সম্ভবত এই যে, তিনি নিজের পারিবারিক ইতিহাসকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেননি। বরং তিনি স্বীকার করেছেন, তাঁর পূর্বপুরুষদের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যুদ্ধকালীন অপরাধে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে—এই সম্ভাবনাকেও তিনি সাহিত্যে জায়গা দিয়েছেন। এমন সততা আজকের জাতীয়তাবাদী ও আত্মগৌরবময় রাজনৈতিক আবহে বিরল। বহু সমাজ এখনো নিজেদের অতীতকে শুধুই গৌরবের গল্প হিসেবে দেখতে চায়। কিন্তু প্রকৃত সাহিত্য সেখানে প্রশ্ন তোলে, অস্বস্তি তৈরি করে, নীরবতার ভেতরে চাপা পড়ে থাকা সত্যকে সামনে আনে।

এই কারণেই বিয়েডারমানের উত্থান শুধু একজন প্রতিভাবান তরুণ লেখকের সাফল্যের গল্প নয়। এটি একই সঙ্গে স্মৃতি, ইতিহাস ও পরিচয়ের জটিল সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রজন্মের এক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক হস্তক্ষেপ। তাঁর কাজ মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাস কেবল অতীত নয়; তা পরিবার, ভাষা, নীরবতা এবং উত্তরাধিকার হয়ে বর্তমানের ভেতরেও বেঁচে থাকে। আর সাহিত্যের কাজ হলো সেই অদৃশ্য উপস্থিতিকে দৃশ্যমান করে তোলা।

জনপ্রিয় সংবাদ

শীতল যুদ্ধ থেকে ওয়াটারগেট: বদলে যাওয়া আমেরিকার দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই

ইতিহাসের নীরবতা, উত্তরাধিকার আর তরুণ লেখকের সাহস

০৯:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

বিশ্বসাহিত্যে মাঝে মধ্যেই এমন কিছু তরুণ লেখকের আবির্ভাব ঘটে, যাঁরা বয়সের তুলনায় অস্বাভাবিক পরিপক্বতা নিয়ে হাজির হন। তাঁদের কাজ দেখে বিস্ময় জাগে—এত অল্প বয়সে কেউ কীভাবে ইতিহাস, পারিবারিক স্মৃতি, সহিংসতা, অপরাধবোধ আর রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মতো জটিল বিষয়কে এত গভীরভাবে ধরতে পারে? সুইস লেখক নেলিও বিয়েডারমান সেই বিরল ব্যতিক্রমদের একজন। মাত্র ২২ বছর বয়সে তাঁর উপন্যাস ‘লাজার’ ইউরোপীয় সাহিত্যজগতে আলোড়ন তুলেছে। কিন্তু এই সাফল্যের ভেতরে আরও গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি লুকিয়ে আছে, তা হলো—একটি পরিবারের নীরব ইতিহাসকে পুনর্গঠনের চেষ্টা।

আধুনিক পৃথিবীতে পারিবারিক ইতিহাস নিয়ে লেখালেখি নতুন কিছু নয়। কিন্তু বিয়েডারমানের কাজের বিশেষত্ব হলো, তিনি তাঁর উত্তরাধিকারকে মহিমান্বিত করেন না; বরং তার অন্ধকার দিকগুলোকেও সামনে আনেন। তাঁর পরিবার ছিল হাঙ্গেরির অভিজাত শ্রেণির অংশ। যুদ্ধ, নাৎসি সহযোগিতা, কমিউনিস্ট দমন-পীড়ন, সম্পত্তি হারানো, নির্বাসন—সব মিলিয়ে এক শতকের রাজনৈতিক উথালপাথাল সেই পরিবারের জীবনকে ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু তিনি শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস লেখেননি; তিনি দেখিয়েছেন, বড় ঐতিহাসিক বিপর্যয় শেষ পর্যন্ত গিয়ে পরিবারগুলোর ভেতরেই জমা হয়।

এই জায়গাটাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইতিহাস সাধারণত রাষ্ট্র, যুদ্ধ বা নেতাদের কেন্দ্র করে লেখা হয়। অথচ ব্যক্তিগত স্মৃতি, পারিবারিক গোপনতা কিংবা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অপরাধবোধ প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়। বিয়েডারমান সেই আড়ালটাকেই সাহিত্যের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শৈশবে দাদীর মুখে শোনা গল্পগুলো প্রথমে রূপকথার মতো মনে হলেও বড় হতে হতে তিনি বুঝেছেন, সেই গল্পের ফাঁকে ফাঁকে ভয়ঙ্কর অন্ধকার লুকিয়ে আছে। আত্মহত্যা, যুদ্ধকালীন সংশ্লিষ্টতা, রাজনৈতিক নিষ্ঠুরতা—সবকিছুই ছিল সেই নীরবতার অংশ।

আজকের প্রজন্মকে প্রায়ই অভিযুক্ত করা হয় যে তারা সংক্ষিপ্ত মনোযোগের যুগে বাস করে, গভীরতা বা ধৈর্যের অভাবে ভোগে। সামাজিক মাধ্যমের দ্রুতগতির সংস্কৃতি তরুণদের দীর্ঘ ও জটিল বয়ান থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে—এমন অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু বিয়েডারমানের সাহিত্যিক পথ সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। তিনি যখন ১৬ বছর বয়সে এই উপন্যাস লেখা শুরু করেন, তখনও জানতেন না তিনি আদৌ লেখক হতে পারবেন কি না। বছরের পর বছর ধরে খসড়া লিখে ফেলে দেওয়া, আবার শুরু করা, বারবার ব্যর্থ হওয়া—এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তিনি এগিয়েছেন।

Lázár | Book by Nelio Biedermann, Jamie Bulloch | Official Publisher Page |  Simon & Schuster Canada

এখানে তাঁর অভিজ্ঞতা শুধু সাহিত্যিক অনুপ্রেরণা নয়, বরং সৃজনশীল শ্রমের বাস্তব পাঠ। প্রতিভা নিয়ে রোমান্টিক ধারণা আমাদের সংস্কৃতিতে প্রবল। আমরা চূড়ান্ত সাফল্য দেখি, কিন্তু তার পেছনের অসমাপ্ত খসড়া, আত্মসংশয় আর ক্লান্তিকর পুনর্লিখন দেখি না। বিয়েডারমানের বক্তব্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে মূল্যবান, তা হলো ধারাবাহিকতার প্রতি তাঁর আস্থা। তিনি মনে করিয়ে দেন, বড় কাজ একদিনে তৈরি হয় না; প্রতিদিনের ছোট ছোট প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ রচনায় পরিণত হয়।

তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আত্মসচেতনতা। অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক প্রশংসা পাওয়া অনেক লেখকই আত্মমুগ্ধতার ফাঁদে পড়ে যান। কিন্তু বিয়েডারমান সেই প্রলোভন থেকে দূরে থাকতে চান। তাঁকে থমাস মানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, প্রকাশকরা তাঁর বই নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন—এই প্রশংসাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা বিপজ্জনক। কারণ অতিরিক্ত প্রশংসা যেমন লেখাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তেমনি তীব্র সমালোচনাও পারে। এই ভারসাম্য রক্ষা করার মানসিকতা একজন লেখকের দীর্ঘ পথচলার জন্য জরুরি।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় সম্ভবত এই যে, তিনি নিজের পারিবারিক ইতিহাসকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেননি। বরং তিনি স্বীকার করেছেন, তাঁর পূর্বপুরুষদের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যুদ্ধকালীন অপরাধে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে—এই সম্ভাবনাকেও তিনি সাহিত্যে জায়গা দিয়েছেন। এমন সততা আজকের জাতীয়তাবাদী ও আত্মগৌরবময় রাজনৈতিক আবহে বিরল। বহু সমাজ এখনো নিজেদের অতীতকে শুধুই গৌরবের গল্প হিসেবে দেখতে চায়। কিন্তু প্রকৃত সাহিত্য সেখানে প্রশ্ন তোলে, অস্বস্তি তৈরি করে, নীরবতার ভেতরে চাপা পড়ে থাকা সত্যকে সামনে আনে।

এই কারণেই বিয়েডারমানের উত্থান শুধু একজন প্রতিভাবান তরুণ লেখকের সাফল্যের গল্প নয়। এটি একই সঙ্গে স্মৃতি, ইতিহাস ও পরিচয়ের জটিল সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রজন্মের এক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক হস্তক্ষেপ। তাঁর কাজ মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাস কেবল অতীত নয়; তা পরিবার, ভাষা, নীরবতা এবং উত্তরাধিকার হয়ে বর্তমানের ভেতরেও বেঁচে থাকে। আর সাহিত্যের কাজ হলো সেই অদৃশ্য উপস্থিতিকে দৃশ্যমান করে তোলা।