ভারতের বহুল আলোচিত নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই এবার পুনের একটি স্বনামধন্য কলেজের উদ্ভিদবিদ্যার অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা এনটিএর হয়ে প্রশ্ন প্রণয়নের কাজে যুক্ত ছিলেন এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে আগেভাগে প্রশ্ন পৌঁছে দেন।
তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযুক্ত অধ্যাপক মনীষা গুরুণাথ মন্ধারে অন্তত ৭০ থেকে ৭৫ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ রুপি নেওয়ার বিনিময়ে জীববিজ্ঞান ও রসায়নের প্রশ্ন সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রশ্নফাঁসে একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার অভিযোগ
সিবিআই জানিয়েছে, মন্ধারের সঙ্গে এই চক্রে যুক্ত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত রসায়ন অধ্যাপক পি ভি কুলকার্নি। তাকেও আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, দুজন দীর্ঘদিনের পরিচিত ছিলেন এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রশ্নফাঁসের পরিকল্পনা শুরু হয়। পরে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কোচিং ক্লাসের আয়োজন করা হয়, যেখানে পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন লিখিয়ে দেওয়া হতো।
তদন্তকারীরা বলছেন, ওই বিশেষ ক্লাসে যে প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের শেখানো হয়েছিল, তার বেশিরভাগই পরে নিট পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে যায়। শুধু প্রশ্নই নয়, সঠিক উত্তর ও বিকল্পও বলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
![]()
সৌন্দর্যকেন্দ্রের মালিকও জড়িত
এই ঘটনায় পুনের এক বিউটি স্যালনের মালিক মনীষা ওয়াঘমারেকেও গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। তদন্তে বলা হয়েছে, তিনি শিক্ষার্থীদের সংগ্রহ করে বিশেষ ক্লাসে পাঠানোর দায়িত্বে ছিলেন। তার মাধ্যমেই প্রশ্নপত্র বিভিন্ন শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সিবিআইয়ের দাবি, পুরো চক্রটি পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং আরও বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য তদন্তকারীরা দিল্লির বাইরে বিভিন্ন জায়গায়ও তদন্ত চালাতে পারেন বলে আদালতে জানিয়েছেন।
বাতিল হয়েছে নিট পরীক্ষা
চলতি বছরের ৩ মে অনুষ্ঠিত হয় নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা। এতে অংশ নেন প্রায় ২২ লাখ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থী। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর ১২ মে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেয় এনটিএ। আগামী ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত অধ্যাপক গত পাঁচ বছর ধরে এনটিএর সঙ্গে কাজ করছিলেন এবং প্রশ্নপত্র তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় তার প্রবেশাধিকার ছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জেনেছেন এবং প্রশ্ন তৈরির গোপনীয় প্রক্রিয়ায় কলেজের কোনো ভূমিকা ছিল না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















