০২:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা বিমানের ওয়েবসাইটে ‘অনটাইম’, বাস্তবে ২২ ঘণ্টা বিলম্ব: সিলেট-জেদ্দা ফ্লাইটে ৮ শতাধিক যাত্রীর দুর্ভোগ বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অভিযোগ, বিষয়টি আমলে নেওয়ার আহ্বান আজহারির ঢাকা ক্লাবের ১৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেইন লাউঞ্জ ঝুঁকিতে, জরুরি প্রকৌশল মূল্যায়নের তাগিদ ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ডিএমপি ব্যাংক এশিয়ার অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ, বেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রতিবন্ধী সেবার অধিকার সংকুচিত হওয়ার শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সিদ্ধান্ত বদলের আহ্বান খেলনা গাড়ির চাকার হুইলচেয়ারে নতুন জীবন পেল আহত বিড়ালছানা জেলাটো কাবেরীর পানি নিয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু, কর্ণাটকের বিরুদ্ধে আদেশ অমান্যের অভিযোগ এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ মাঝআকাশে ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেল কেন? বর্ষার আকাশে টার্বুলেন্সের ঝুঁকি ব্যাখ্যা

ইবোলা আতঙ্কে কঙ্গো-উগান্ডা, বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

আফ্রিকার দুই দেশ কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া নতুন ইবোলা সংক্রমণকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ল্যাব পরীক্ষায় নয়জনের শরীরে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই সংক্রমণ এখনো মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে কঙ্গোর সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

নতুন ধরনের ভাইরাসে উদ্বেগ

এই সংক্রমণের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাস। এর বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এ কারণেই পরিস্থিতিকে “অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক” হিসেবে বর্ণনা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের অন্তত তিনটি স্বাস্থ্য অঞ্চলে শতাধিক সন্দেহভাজন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। শনিবার পর্যন্ত সেখানে ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে আটজনের শরীরে পরীক্ষায় ভাইরাস নিশ্চিত হয়েছে।

পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমাতেও নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানী কিনশাসায়ও একজন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে, যিনি ইতুরি অঞ্চল থেকে ফিরেছিলেন।

WHO declares Ebola outbreak in Congo and Uganda a global health emergency |  PBS News

উগান্ডাতেও মিলেছে সংক্রমণ

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় দুইজন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্তরা কঙ্গো থেকে এসেছিলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

সীমান্ত বন্ধ নয়, নজরদারিতে জোর

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেশগুলোকে সীমান্ত বন্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছে। কারণ সীমান্ত বন্ধ করলে মানুষ অনিয়ন্ত্রিত পথে যাতায়াত করতে পারে, যা সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এর পরিবর্তে সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আক্রান্তদের দ্রুত আলাদা রাখা এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি বা সন্দেহভাজনদের ২১ দিন পর্যন্ত ভ্রমণ না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ইবোলা কতটা ভয়ংকর

ইবোলা একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। এতে সাধারণত জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল, দূষিত বস্তু বা মৃতদেহের সংস্পর্শ থেকে এই ভাইরাস ছড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কঙ্গোর ঘন জঙ্গল অঞ্চল ইবোলা ভাইরাসের প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে বহু বছর ধরে পরিচিত। ১৯৭৬ সালে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর দেশটিতে এটি নিয়ে বহুবার ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এবারের প্রাদুর্ভাব দেশটির ১৭তম ইবোলা সংক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা

ইবোলা আতঙ্কে কঙ্গো-উগান্ডা, বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

০৮:২৮:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

আফ্রিকার দুই দেশ কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া নতুন ইবোলা সংক্রমণকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ল্যাব পরীক্ষায় নয়জনের শরীরে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই সংক্রমণ এখনো মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে কঙ্গোর সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

নতুন ধরনের ভাইরাসে উদ্বেগ

এই সংক্রমণের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাস। এর বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এ কারণেই পরিস্থিতিকে “অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক” হিসেবে বর্ণনা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের অন্তত তিনটি স্বাস্থ্য অঞ্চলে শতাধিক সন্দেহভাজন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। শনিবার পর্যন্ত সেখানে ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে আটজনের শরীরে পরীক্ষায় ভাইরাস নিশ্চিত হয়েছে।

পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমাতেও নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানী কিনশাসায়ও একজন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে, যিনি ইতুরি অঞ্চল থেকে ফিরেছিলেন।

WHO declares Ebola outbreak in Congo and Uganda a global health emergency |  PBS News

উগান্ডাতেও মিলেছে সংক্রমণ

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় দুইজন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্তরা কঙ্গো থেকে এসেছিলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

সীমান্ত বন্ধ নয়, নজরদারিতে জোর

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেশগুলোকে সীমান্ত বন্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছে। কারণ সীমান্ত বন্ধ করলে মানুষ অনিয়ন্ত্রিত পথে যাতায়াত করতে পারে, যা সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এর পরিবর্তে সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আক্রান্তদের দ্রুত আলাদা রাখা এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি বা সন্দেহভাজনদের ২১ দিন পর্যন্ত ভ্রমণ না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ইবোলা কতটা ভয়ংকর

ইবোলা একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। এতে সাধারণত জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল, দূষিত বস্তু বা মৃতদেহের সংস্পর্শ থেকে এই ভাইরাস ছড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কঙ্গোর ঘন জঙ্গল অঞ্চল ইবোলা ভাইরাসের প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে বহু বছর ধরে পরিচিত। ১৯৭৬ সালে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর দেশটিতে এটি নিয়ে বহুবার ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এবারের প্রাদুর্ভাব দেশটির ১৭তম ইবোলা সংক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।