০২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা বিমানের ওয়েবসাইটে ‘অনটাইম’, বাস্তবে ২২ ঘণ্টা বিলম্ব: সিলেট-জেদ্দা ফ্লাইটে ৮ শতাধিক যাত্রীর দুর্ভোগ বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অভিযোগ, বিষয়টি আমলে নেওয়ার আহ্বান আজহারির ঢাকা ক্লাবের ১৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেইন লাউঞ্জ ঝুঁকিতে, জরুরি প্রকৌশল মূল্যায়নের তাগিদ ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ডিএমপি ব্যাংক এশিয়ার অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ, বেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রতিবন্ধী সেবার অধিকার সংকুচিত হওয়ার শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সিদ্ধান্ত বদলের আহ্বান খেলনা গাড়ির চাকার হুইলচেয়ারে নতুন জীবন পেল আহত বিড়ালছানা জেলাটো কাবেরীর পানি নিয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু, কর্ণাটকের বিরুদ্ধে আদেশ অমান্যের অভিযোগ এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ মাঝআকাশে ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেল কেন? বর্ষার আকাশে টার্বুলেন্সের ঝুঁকি ব্যাখ্যা

সীমান্ত কড়াকড়িতে হাজার কোটি ডলারের ব্যবসা, নজরদারি প্রযুক্তিতে ঝুঁকছে বিশ্ব

অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কঠোর অবস্থান এখন নতুন এক বিশাল ব্যবসার জন্ম দিয়েছে। সীমান্ত নজরদারি, আটক কেন্দ্র পরিচালনা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং বহিষ্কার কার্যক্রম ঘিরে দ্রুত বাড়ছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে সীমান্ত নিরাপত্তা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের ফলে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা শিল্পে শুরু হয়েছে নতুন প্রতিযোগিতা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফিনিক্সে অনুষ্ঠিত সীমান্ত নিরাপত্তা প্রদর্শনীতে ভবিষ্যতের সীমান্ত ব্যবস্থার এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে ছিল নজরদারি টাওয়ার, আকাশে উড়ন্ত ড্রোন, সীমান্ত পাহারার রোবট কুকুর এবং দূর থেকে নড়াচড়া শনাক্ত করতে সক্ষম তাপ শনাক্তকারী ক্যামেরা। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্ত আরও শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থার বিস্তার

AI can enhance border security but won't close workforce gap, lawmakers say  - Nextgov/FCW

আগে সীমান্ত পাহারায় মূলত মানবশক্তি, গাড়ি ও রেডিও ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা হতো। এখন সেই ব্যবস্থার জায়গায় দ্রুত আসছে ডিজিটাল নজরদারি নেটওয়ার্ক। ড্রোন, রাডার ও তাপ শনাক্তকারী ক্যামেরার মাধ্যমে বিশাল এলাকাকে একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, এতে সীমান্তরক্ষীদের ঝুঁকি কমছে এবং তারা আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজে সময় দিতে পারছেন। মরুভূমি বা দুর্গম উপকূলে সরাসরি টহল দেওয়ার বদলে এখন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেই নজরদারি চালানো সম্ভব হচ্ছে।

যুদ্ধ প্রযুক্তি এখন সীমান্তে

বর্তমানে সীমান্তে ব্যবহৃত অনেক প্রযুক্তিই মূলত যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য তৈরি হয়েছিল। ড্রোন নির্মাতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে মার্কিন সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থার বড় বড় চুক্তি পেয়েছে। ইউরোপের সীমান্তেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হয়েছে।

অভিবাসীদের শনাক্ত ও নজরদারির জন্য উন্নত তথ্য বিশ্লেষণ সফটওয়্যারও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচল, যোগাযোগ ও অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

Where Trump's deportations are sending migrants | PBS News

আটক কেন্দ্রেও বাড়ছে ব্যবসা

অভিবাসীদের আটকের ব্যবস্থাও এখন বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আটক কেন্দ্রের শয্যাসংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আরও নতুন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও চলছে।

এই খাতের সঙ্গে জড়িত বেসরকারি কারাগার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল লাভ করছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলে জানা গেছে।

বহিষ্কার কার্যক্রমে নতুন লাভের সুযোগ

অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমও এখন লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বহিষ্কার ফ্লাইটের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর ফলে বিশেষ কিছু এয়ারলাইনসের আয় দ্রুত বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর অভিবাসন নীতিকে অনেক রাজনৈতিক নেতা ভোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখছেন। ফলে আগামী বছরগুলোতেও সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ খাতে ব্যয় আরও বাড়তে পারে। আর সেই সুযোগে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা খাতের কোম্পানিগুলোও তাদের ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

State Dept: Trump's Third Countries for Immigrants Have Awful Human Rights  Records

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা

সীমান্ত কড়াকড়িতে হাজার কোটি ডলারের ব্যবসা, নজরদারি প্রযুক্তিতে ঝুঁকছে বিশ্ব

১০:৩৭:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কঠোর অবস্থান এখন নতুন এক বিশাল ব্যবসার জন্ম দিয়েছে। সীমান্ত নজরদারি, আটক কেন্দ্র পরিচালনা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং বহিষ্কার কার্যক্রম ঘিরে দ্রুত বাড়ছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে সীমান্ত নিরাপত্তা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের ফলে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা শিল্পে শুরু হয়েছে নতুন প্রতিযোগিতা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফিনিক্সে অনুষ্ঠিত সীমান্ত নিরাপত্তা প্রদর্শনীতে ভবিষ্যতের সীমান্ত ব্যবস্থার এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে ছিল নজরদারি টাওয়ার, আকাশে উড়ন্ত ড্রোন, সীমান্ত পাহারার রোবট কুকুর এবং দূর থেকে নড়াচড়া শনাক্ত করতে সক্ষম তাপ শনাক্তকারী ক্যামেরা। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্ত আরও শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থার বিস্তার

AI can enhance border security but won't close workforce gap, lawmakers say  - Nextgov/FCW

আগে সীমান্ত পাহারায় মূলত মানবশক্তি, গাড়ি ও রেডিও ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা হতো। এখন সেই ব্যবস্থার জায়গায় দ্রুত আসছে ডিজিটাল নজরদারি নেটওয়ার্ক। ড্রোন, রাডার ও তাপ শনাক্তকারী ক্যামেরার মাধ্যমে বিশাল এলাকাকে একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, এতে সীমান্তরক্ষীদের ঝুঁকি কমছে এবং তারা আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজে সময় দিতে পারছেন। মরুভূমি বা দুর্গম উপকূলে সরাসরি টহল দেওয়ার বদলে এখন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেই নজরদারি চালানো সম্ভব হচ্ছে।

যুদ্ধ প্রযুক্তি এখন সীমান্তে

বর্তমানে সীমান্তে ব্যবহৃত অনেক প্রযুক্তিই মূলত যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য তৈরি হয়েছিল। ড্রোন নির্মাতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে মার্কিন সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থার বড় বড় চুক্তি পেয়েছে। ইউরোপের সীমান্তেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হয়েছে।

অভিবাসীদের শনাক্ত ও নজরদারির জন্য উন্নত তথ্য বিশ্লেষণ সফটওয়্যারও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচল, যোগাযোগ ও অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

Where Trump's deportations are sending migrants | PBS News

আটক কেন্দ্রেও বাড়ছে ব্যবসা

অভিবাসীদের আটকের ব্যবস্থাও এখন বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আটক কেন্দ্রের শয্যাসংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আরও নতুন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও চলছে।

এই খাতের সঙ্গে জড়িত বেসরকারি কারাগার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল লাভ করছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলে জানা গেছে।

বহিষ্কার কার্যক্রমে নতুন লাভের সুযোগ

অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমও এখন লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বহিষ্কার ফ্লাইটের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর ফলে বিশেষ কিছু এয়ারলাইনসের আয় দ্রুত বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর অভিবাসন নীতিকে অনেক রাজনৈতিক নেতা ভোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখছেন। ফলে আগামী বছরগুলোতেও সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ খাতে ব্যয় আরও বাড়তে পারে। আর সেই সুযোগে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা খাতের কোম্পানিগুলোও তাদের ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

State Dept: Trump's Third Countries for Immigrants Have Awful Human Rights  Records