বাড়ির ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে অনেকেই এখন ঘরের গাছের ওপর ভরসা করেন। শোভাবর্ধনের পাশাপাশি এসব গাছকে “প্রাকৃতিক বায়ু পরিশোধক” হিসেবেও প্রচার করা হয়। কিন্তু বাস্তবে গাছ কতটা কার্যকরভাবে বাতাসের দূষণ কমাতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরের বাতাসে থাকা অনেক ক্ষতিকর রাসায়নিক মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। পরিষ্কারক দ্রব্য, রং, বার্নিশ বা মোমজাতীয় পণ্যে থাকা বেনজিন ও টলুইনের মতো রাসায়নিক ত্বক, চোখ ও স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে। এমনকি কিছু উপাদান ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়। আসবাবপত্র ও কার্পেট থেকেও ধীরে ধীরে ফরমালডিহাইড নামে ক্ষতিকর গ্যাস বের হতে পারে।
বিশেষ করে শিশুদের জন্য এই ঝুঁকি বেশি, কারণ তারা দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকে এবং তাদের ফুসফুস তুলনামূলক সংবেদনশীল।

গাছ কীভাবে বাতাসে কাজ করে
বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই জানেন, গাছ শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় বাতাসের গঠন পরিবর্তন করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ছাড়ে। তবে বাতাসের দূষণ কমানোর ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা গুরুত্ব পায় গত শতকের আশির দশকে।
সে সময় এক পরীক্ষায় কিছু গাছকে দূষিত বাতাসের মধ্যে রেখে দেখা যায়, তারা ফরমালডিহাইডের মতো উপাদান শোষণ করতে পারে। পরে আরও গবেষণায় জানা যায়, কিছু গাছের পাতার গঠন এমন যে দূষিত কণা সহজেই আটকে যায়। আবার কিছু গাছ পাতার সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক ভেতরে টেনে নেয়।
কিছু উদ্ভিদ এমন এনজাইমও তৈরি করে, যা বেনজিন বা ফরমালডিহাইডের মতো উপাদান ভেঙে ফেলতে সক্ষম। গবেষকেরা আরও দেখেছেন, কিছু গাছ এই দূষিত উপাদান মাটিতে পাঠিয়ে দেয়, যেখানে অণুজীব সেগুলো ভেঙে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে।
বাস্তব জীবনে সীমাবদ্ধতা
![]()
তবে গবেষণাগারে যেসব ফল পাওয়া গেছে, বাস্তব ঘরোয়া পরিবেশে সেই ফল মিলছে না। বেশিরভাগ সফল পরীক্ষা হয়েছে ছোট ও বদ্ধ কক্ষে, যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে গাছ রাখা হয়েছিল।
অন্যদিকে শহরের ঘরে সাধারণত যেসব গাছ রাখা হয়, সেগুলো মূলত সৌন্দর্য ও সহজ পরিচর্যার জন্য জনপ্রিয়। এসব গাছের পাতার গঠন এমন যে বাতাসের দূষিত উপাদান খুব বেশি ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না।
ফলে সাধারণ ঘরের পরিবেশে কয়েকটি টবের গাছ দিয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বাতাস পরিষ্কার করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন গবেষকেরা।
আধুনিক যন্ত্রই বেশি কার্যকর
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরের বাতাস পরিষ্কার করতে আধুনিক বায়ু পরিশোধক যন্ত্র অনেক বেশি কার্যকর এবং রক্ষণাবেক্ষণেও সহজ। বিশেষ ধরনের সবুজ দেয়াল বা ঘন উদ্ভিদভিত্তিক বায়ুপ্রবাহ ব্যবস্থা কিছুটা উন্নতি আনতে পারলেও তার প্রভাব সীমিত।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাছের অন্য উপকারিতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এগুলো মানসিক প্রশান্তি দেয়, ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায় এবং মানুষের মন ভালো রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু শুধুমাত্র বাতাস বিশুদ্ধ করার জন্য গাছের ওপর নির্ভর করা বাস্তবসম্মত নয়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















