০২:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে ক্ষুব্ধ ইরান, যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন অচলাবস্থা স্যামসাংয়ের ধর্মঘট পরিকল্পনায় আদালতের আংশিক নিষেধাজ্ঞা, দক্ষিণ কোরিয়ায় বাড়ছে শ্রমিক-ব্যবস্থাপনা উত্তেজনা বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরে আগুন, নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে জানাল আমিরাত হরমুজ প্রণালির সংকট দীর্ঘ হলে বদলে যেতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি মস্কোতে ইউক্রেনের শত শত ড্রোন হামলা, নিহত ৩ কঙ্গো-উগান্ডায় নতুন ইবোলা আতঙ্ক, জরুরি সতর্কতা জারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চীনে বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্নে ভাটা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় বাড়ছে ভাড়া বাসা ঝোঁক পাকিস্তানকে হুমকির জবাবে কড়া বার্তা, ভারতের সেনাপ্রধানের মন্তব্যে বাড়ছে উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ধাক্কা, ধস নামল ভারতের শেয়ারবাজারে পাকিস্তানের গ্যাস ঋণ নিয়ে আইএমএফের কড়া প্রশ্ন, বাড়তে পারে জ্বালানির দাম

ভণ্ড বাবার আশ্রমে পূজার পর জোড়া খুন, মহারাষ্ট্রে চাঞ্চল্য

মহারাষ্ট্রের ধুলে জেলায় এক স্বঘোষিত ধর্মগুরুর আশ্রমে পূজার আচার শেষে এক নারী ও তার বন্ধুকে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনি অমাবস্যা উপলক্ষে বিশেষ পূজা করতে গিয়ে এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার হন তারা। পুলিশ অভিযুক্ত ভণ্ড বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যোগেশ ওরফে ভাইয়া বাপু খৈরনার নামে পরিচিত। তিনি ধুলের সাক্রি তালুকার জৈতানে গ্রামে একটি আশ্রম ও গোশালা পরিচালনা করতেন। স্থানীয় এলাকায় ধর্মীয় প্রভাব বিস্তার করে তিনি মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানের নামে নানা আচার অনুষ্ঠান করতেন।

পূজার পর শুরু সন্দেহজনক ঘটনা

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৫ বছর বয়সী জয়শ্রী রাজনিকান্ত কাকুস্তে-হিরে এবং তার বন্ধু অক্ষয় গঙ্গাধর সোনাওয়ানে। জয়শ্রী একটি বেসরকারি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পারিবারিক ও চাকরিসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের আশায় তিনি ওই বাবার আশ্রমে যান। সঙ্গে ছিলেন তার বন্ধু অক্ষয়।

নরসিংদীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১

পুলিশের দাবি, বিশেষ পূজার পর অক্ষয় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বমি করতে শুরু করেন। এরপর অভিযুক্ত জয়শ্রীকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু পথেই তিনি জয়শ্রীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে মুখ কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয় এবং ওপরে বড় পাথর চাপা দেওয়া হয় যাতে প্রমাণ নষ্ট করা যায়।

বন্ধুকেও হত্যা

রাতে আশ্রমে ফিরে এলে অক্ষয় অভিযুক্তকে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। জয়শ্রী ও অভিযুক্তের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার সন্দেহ আরও বাড়ে। পুলিশ বলছে, একপর্যায়ে অভিযুক্ত লোহার অস্ত্র দিয়ে অক্ষয়কে হত্যা করে। পরে গরুর গাড়িতে করে মরদেহ পাহাড়ঘেরা নির্জন স্থানে নিয়ে ফেলে রাখা হয়। মরদেহ গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল।

পুলিশের ধারণা, হত্যার দায় অক্ষয়ের ওপর চাপিয়ে পুরো ঘটনাকে আত্মহত্যার রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তের।

রুমাল থেকেই রহস্য উন্মোচন

Police Constable Recruitment 2022: পুলিশ কনস্টেবল সহ একাধিক পদে ১৮ হাজার  শূন্যপদে নিয়োগ করবে মহারাষ্ট্র সরকার, জানুন আবেদন পদ্ধতি - Bengali News | Maharashtra  Police Is ...

শনিবার সকালে জয়শ্রীর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া গেরুয়া রঙের একটি রুমাল তদন্তে বড় সূত্র হয়ে দাঁড়ায়। পরে কুকুর স্কোয়াডের সহায়তায় পুলিশ সরাসরি আশ্রম পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সেখান থেকেই অভিযুক্তকে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত দুই হত্যার কথাই স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে আশ্রমের পেছনের নির্জন এলাকা থেকে দ্বিতীয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মানববলির দিকও খতিয়ে দেখছে পুলিশ

ধুলে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ঘটনাটি মানববলির সঙ্গে জড়িত কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত সরাসরি এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তকারীরা সব দিক বিবেচনায় রেখে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার আড়ালে প্রতারণা চালানো ভণ্ড বাবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে ক্ষুব্ধ ইরান, যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন অচলাবস্থা

ভণ্ড বাবার আশ্রমে পূজার পর জোড়া খুন, মহারাষ্ট্রে চাঞ্চল্য

০১:১৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

মহারাষ্ট্রের ধুলে জেলায় এক স্বঘোষিত ধর্মগুরুর আশ্রমে পূজার আচার শেষে এক নারী ও তার বন্ধুকে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনি অমাবস্যা উপলক্ষে বিশেষ পূজা করতে গিয়ে এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার হন তারা। পুলিশ অভিযুক্ত ভণ্ড বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যোগেশ ওরফে ভাইয়া বাপু খৈরনার নামে পরিচিত। তিনি ধুলের সাক্রি তালুকার জৈতানে গ্রামে একটি আশ্রম ও গোশালা পরিচালনা করতেন। স্থানীয় এলাকায় ধর্মীয় প্রভাব বিস্তার করে তিনি মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানের নামে নানা আচার অনুষ্ঠান করতেন।

পূজার পর শুরু সন্দেহজনক ঘটনা

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৫ বছর বয়সী জয়শ্রী রাজনিকান্ত কাকুস্তে-হিরে এবং তার বন্ধু অক্ষয় গঙ্গাধর সোনাওয়ানে। জয়শ্রী একটি বেসরকারি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পারিবারিক ও চাকরিসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের আশায় তিনি ওই বাবার আশ্রমে যান। সঙ্গে ছিলেন তার বন্ধু অক্ষয়।

নরসিংদীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১

পুলিশের দাবি, বিশেষ পূজার পর অক্ষয় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বমি করতে শুরু করেন। এরপর অভিযুক্ত জয়শ্রীকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু পথেই তিনি জয়শ্রীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে মুখ কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয় এবং ওপরে বড় পাথর চাপা দেওয়া হয় যাতে প্রমাণ নষ্ট করা যায়।

বন্ধুকেও হত্যা

রাতে আশ্রমে ফিরে এলে অক্ষয় অভিযুক্তকে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। জয়শ্রী ও অভিযুক্তের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার সন্দেহ আরও বাড়ে। পুলিশ বলছে, একপর্যায়ে অভিযুক্ত লোহার অস্ত্র দিয়ে অক্ষয়কে হত্যা করে। পরে গরুর গাড়িতে করে মরদেহ পাহাড়ঘেরা নির্জন স্থানে নিয়ে ফেলে রাখা হয়। মরদেহ গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল।

পুলিশের ধারণা, হত্যার দায় অক্ষয়ের ওপর চাপিয়ে পুরো ঘটনাকে আত্মহত্যার রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তের।

রুমাল থেকেই রহস্য উন্মোচন

Police Constable Recruitment 2022: পুলিশ কনস্টেবল সহ একাধিক পদে ১৮ হাজার  শূন্যপদে নিয়োগ করবে মহারাষ্ট্র সরকার, জানুন আবেদন পদ্ধতি - Bengali News | Maharashtra  Police Is ...

শনিবার সকালে জয়শ্রীর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া গেরুয়া রঙের একটি রুমাল তদন্তে বড় সূত্র হয়ে দাঁড়ায়। পরে কুকুর স্কোয়াডের সহায়তায় পুলিশ সরাসরি আশ্রম পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সেখান থেকেই অভিযুক্তকে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত দুই হত্যার কথাই স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে আশ্রমের পেছনের নির্জন এলাকা থেকে দ্বিতীয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মানববলির দিকও খতিয়ে দেখছে পুলিশ

ধুলে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ঘটনাটি মানববলির সঙ্গে জড়িত কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত সরাসরি এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তকারীরা সব দিক বিবেচনায় রেখে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার আড়ালে প্রতারণা চালানো ভণ্ড বাবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।