মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব এবার সরাসরি পড়ল ভারতের শেয়ারবাজারে। সোমবার লেনদেন শুরুর পর থেকেই বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে দেশটির প্রধান সূচকগুলো। একই সঙ্গে রুপির মানও ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
সোমবার সকালে মুম্বাইয়ের বাজার খোলার পর নিফটি সূচক প্রায় ১ শতাংশের বেশি কমে যায়। একইভাবে সেনসেক্সেও বড় পতন দেখা যায়। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চাপে বাজার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন।
বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
তেলের দাম বাড়ায় রুপির রেকর্ড পতন
বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছে, যা দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। তেলের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব সরাসরি পড়ে ভারতীয় মুদ্রাবাজারে। রুপির মান ডলারের বিপরীতে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয় এবং রুপির দর দুর্বল হয়ে পড়ে।
সব খাতে বিক্রির চাপ
শুধু বড় কোম্পানি নয়, মাঝারি ও ছোট মূলধনের শেয়ারেও ব্যাপক বিক্রির চাপ দেখা গেছে। বাজারের প্রায় সব খাতেই দরপতন হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। আঞ্চলিক বাজারগুলোতেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সামনের দিনগুলোতে বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকলে ভারতসহ এশিয়ার অর্থনীতিগুলো বাড়তি চাপে পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















