ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, পাকিস্তানকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার পরিণতি শুধু সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে পুরো অঞ্চলের জন্য বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
রোববার এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতের সামরিক নেতৃত্বের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাব দেয়। সেখানে বলা হয়, ভারতের নেতৃত্ব এখনো পাকিস্তানের বাস্তবতা মেনে নিতে পারেনি এবং কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও ইতিহাস থেকে সঠিক শিক্ষা নেয়নি।
উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের সেনাপ্রধান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন যা দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। ওই বক্তব্যে পাকিস্তানের অস্তিত্ব ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এর জবাবে ইসলামাবাদ বলেছে, পাকিস্তান শুধু দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রই নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতেও একটি প্রভাবশালী পারমাণবিক শক্তি। পাকিস্তানকে ভূগোল বা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার হুমকি বাস্তবতা বিবর্জিত এবং তা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের শামিল বলেও মন্তব্য করা হয়।
পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সতর্কতা
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দায়িত্বশীল পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো সাধারণত সংযম ও কৌশলগত পরিপক্বতার পরিচয় দেয়। তারা আধিপত্যবাদী ভাষা বা কোনো রাষ্ট্রকে নিশ্চিহ্ন করার মতো বক্তব্য ব্যবহার করে না।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ভারতের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানের পেছনে আত্মবিশ্বাসের চেয়ে হতাশাই বেশি কাজ করছে। তাদের মতে, পাকিস্তানের ক্ষতি করার বিভিন্ন প্রচেষ্টা সফল না হওয়ায় দিল্লি আরও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করছে।

সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতেও পাল্টা অভিযোগ
বিবৃতিতে ভারতকেও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করা হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারত বহুদিন ধরেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা, গোপন অভিযান ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণায় জড়িত।
একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়াকে নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, আরেকটি বড় যুদ্ধ পুরো অঞ্চলের জন্য ধ্বংসাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে। তাই পারস্পরিক সহাবস্থান ও সংলাপের পথই একমাত্র সমাধান বলে মনে করছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক পর্যায় থেকে ধারাবাহিক কড়া বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি শুধু দক্ষিণ এশিয়াই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















