রুপির ওপর চাপ কমানো এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার রুপার আমদানিতে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে ভারত সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধিকাংশ ধরনের রুপা আমদানিকে সীমিত তালিকায় নেওয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে আগের মতো সহজে রুপা আমদানি করা যাবে না।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে সঙ্গে সঙ্গেই। এতে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে রুপার সরবরাহ কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে বাজারে রুপার দামও বাড়তে পারে।
রুপার বাজারে নতুন চাপ
ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় রুপা ব্যবহারকারী দেশ। দেশটির মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। নতুন নির্দেশনায় ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ বিশুদ্ধ রুপার বার এবং অন্যান্য আধা-প্রস্তুত রুপার পণ্যের আমদানি সীমিত করা হয়েছে।
গত অর্থবছরে ভারতের মোট রুপা আমদানির ৯০ শতাংশের বেশি ছিল এই দুই শ্রেণির পণ্য। ফলে নতুন সিদ্ধান্ত সরাসরি বাজারে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে দেশীয় বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হবে এবং রুপা প্রিমিয়ামে বিক্রি শুরু হতে পারে। আগে আমদানি শুল্ক বাড়ানোর পর রুপা কিছুটা ছাড়ে বিক্রি হচ্ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি উল্টো দিকে যেতে পারে।
রুপির চাপ কমাতে সরকারের উদ্যোগ
সম্প্রতি ভারত সরকার স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশ থেকে মূল্যবান ধাতু আমদানি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ হ্রাস করা।
উচ্চ জ্বালানি দামের কারণে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় বেড়েছে। তার ওপর স্বর্ণ ও রুপার বিপুল আমদানি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছিল। তাই সরকার এখন কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে।
রেকর্ড আমদানির পর নতুন সিদ্ধান্ত

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত রুপা আমদানিতে রেকর্ড ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। আগের বছর এই ব্যয় ছিল ৪৮০ কোটি ডলার। শুধু এপ্রিল মাসেই রুপা আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ কোটি ১০ লাখ ডলারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক বছরে রুপার চাহিদা মূলত বিনিয়োগমুখী ছিল। অলংকার বা ঐতিহ্যগত ব্যবহার ছাড়িয়ে এখন অনেকেই রুপাকে বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। ফলে রুপাভিত্তিক তহবিলে বিনিয়োগও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
শিল্প খাতে সীমিত সুযোগ থাকতে পারে
ব্যবসায়ী মহলের ধারণা, সরকার পুরোপুরি রুপা আমদানি বন্ধ করতে চায় না। শিল্প খাতের প্রয়োজন মেটাতে সীমিত আমদানির সুযোগ রাখা হতে পারে। কারণ সৌরশক্তি, ইলেকট্রনিকস এবং বিভিন্ন উৎপাদন শিল্পে রুপার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও চীন থেকে রুপা আমদানি করে থাকে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




















