ভারতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার কমে যাচ্ছে—এমন ধারণাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। নেদারল্যান্ডস সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে ওঠা প্রশ্নের জবাবে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটি এখনো একটি শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রেখেই অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করা হয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম বিষয়ক সচিব সিবি জর্জ এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতের পরিস্থিতি নিয়ে যেসব প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তার পেছনে অনেক সময় বাস্তবতা সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাব কাজ করে।
মোদির সফর ঘিরে বিতর্ক

নরেন্দ্র মোদির পাঁচ দেশের সফরের দ্বিতীয় গন্তব্য ছিল নেদারল্যান্ডস। সফরের সময় ডাচ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়।
তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানান, দুই নেতার আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা অন্য কোনো আলোচনায় এ বিষয়টি সরাসরি তোলা হয়নি। বরং বৈঠকে দুই দেশ কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
নতুন সহযোগিতার দিক
বৈঠকের পর ভারত ও নেদারল্যান্ডস অভিবাসন, জাহাজ পরিবহন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করতে একাধিক সমঝোতার পথও খুলে গেছে।
ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা
সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে সমালোচনার জবাবে সিবি জর্জ ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ ধর্মের জন্ম এই ভূখণ্ডে, আর খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামও বহু শতাব্দী ধরে ভারতে বিকশিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের খুব কম দেশেই ইহুদি জনগোষ্ঠী এত দীর্ঘ সময় নিরাপদে বসবাস করেছে। এটিই ভারতের বিশেষ সৌন্দর্য।
গণতন্ত্র ও অর্থনীতির প্রসঙ্গ
ভারতের সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনে বিপুল ভোটার উপস্থিতির কথাও তুলে ধরা হয়। সিবি জর্জ দাবি করেন, ৯০ শতাংশের বেশি মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এখনো শক্তিশালী।
তিনি বলেন, ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতির একটি, আর এই অগ্রগতি গণতান্ত্রিক নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করেই অর্জিত হয়েছে।
সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির উদাহরণ টেনে তিনি আরও দাবি করেন, স্বাধীনতার সময় ভারতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর হার ছিল ১১ শতাংশ, যা এখন ২০ শতাংশের বেশি। তার মতে, এটিই দেখায় যে ভারতের সংখ্যালঘুরা টিকে আছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















