মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বাড়ছে যুদ্ধের উত্তাপ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে সৌদি আরবও তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। পরিস্থিতি ঘিরে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দ্রুত শান্তি চুক্তিতে রাজি হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দ্রুত সমাধানে না এলে ইরানের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পরপরই ইরানের সামরিক কর্মকর্তারাও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে পাল্টা জবাব হবে আরও কঠিন ও অপ্রত্যাশিত।
পারমাণবিক কেন্দ্রে আগুন

আমিরাতের আবুধাবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরের অংশে থাকা একটি বিদ্যুৎ জেনারেটরে ড্রোন আঘাত হানে। এতে সেখানে আগুন লাগে। তবে বিকিরণ বা তেজস্ক্রিয়তার কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
কর্তৃপক্ষ বলছে, হামলার উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এটি দেশের নিরাপত্তার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আরও দুটি ড্রোন ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো সচল রয়েছে এবং জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু আছে।
সৌদি আকাশসীমায় ড্রোন
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরাকের আকাশপথ হয়ে আসা তিনটি ড্রোন তাদের আকাশসীমায় ঢোকার পর তা ধ্বংস করা হয়েছে। দেশটি বলেছে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিয়াদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব উপযুক্ত সময় ও স্থানে দেওয়া হবে।

উত্তেজনার কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালি
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরেও উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ইরান আগেই জানিয়েছিল, প্রণালির চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থা আনা হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি ও অবরোধ বাড়িয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে এবং তেলের দামও বাড়তে শুরু করেছে।
কূটনৈতিক অচলাবস্থা
পাঁচ সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এর মধ্যে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ফোনালাপ পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের কর্মকাণ্ড পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা এখন নির্ভর করছে কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি ও সামরিক উত্তেজনা কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তার ওপর।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















