সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে ড্রোন হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। নয়াদিল্লি এই ঘটনাকে “অগ্রহণযোগ্য” এবং মধ্যপ্রাচ্যে “বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি” হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে সব পক্ষকে সংযম দেখিয়ে আলোচনার পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে ভারত।
রবিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এমন হামলা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করা হয়।
আবুধাবির কাছে আগুন
ঘটনার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, আবুধাবির আল ধাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বারাকাহ কেন্দ্রের বাইরের অংশে একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে আগুন লাগে। ড্রোন হামলার পর এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং পারমাণবিক বিকিরণের মাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
এই হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরব ঘটনাটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বেড়েছে।
পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনাকে ঘিরে যেকোনো সামরিক কর্মকাণ্ড অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এর পরিণতি দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
ড্রোনের উৎস খতিয়ে দেখছে আমিরাত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন কোথা থেকে এসেছে তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। দেশটির সরকার বলেছে, এটি একটি “সন্ত্রাসী হামলা” এবং এর জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, অতিরিক্ত দুটি ড্রোন মাঝপথেই ভূপাতিত করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, ড্রোনগুলো পশ্চিম সীমান্তের দিক থেকে প্রবেশ করেছিল।
সৌদি আরবও ড্রোন প্রতিহত করেছে
এদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা তিনটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। রিয়াদের দাবি, ড্রোনগুলো ইরাকের আকাশপথ ব্যবহার করে ঢোকার চেষ্টা করেছিল।
সৌদি সরকার সতর্ক করে বলেছে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারমাণবিক স্থাপনার কাছে এমন হামলা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট আরও গভীর হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















