আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়া, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন দ্রুত উঁচুতে ওঠা এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতা—সব মিলিয়ে নতুন চাপের মুখে পড়েছে ভারতীয় রুপি। সোমবার বাজার খোলার আগেই মুদ্রাবাজারে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ডলারের বিপরীতে রুপির মান আরও দুর্বল হতে পারে।
গত শুক্রবার রুপি ডলারের বিপরীতে রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমে গিয়েছিল। যদিও দিনের শেষ দিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়, তবু বাজারে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
রুপির ওপর বাড়তি চাপ
)
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখন রুপির জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। বিশেষ করে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন যেভাবে বেড়েছে, তা উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলোর জন্য বড় চাপ তৈরি করছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন, ফলে ভারতসহ এশিয়ার অনেক দেশের মুদ্রা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সোমবার রুপির দর ৯৬-এর ওপরে খোলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে শুক্রবার ডলারের বিপরীতে রুপির দর ইতিহাসে প্রথমবার ৯৬.১৩-এর কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
তেলের বাজারে নতুন উত্তেজনা
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে উত্তেজনা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। এতে ভারতীয় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ ভারত বড় পরিমাণে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়ে, যা সরাসরি রুপির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এশিয়ার বাজারেও অস্থিরতা
শুধু ভারত নয়, এশিয়ার অন্যান্য মুদ্রাও চাপে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়াহ বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শেয়ারবাজারেও বিক্রির চাপ দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং মার্কিন সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচুতে থাকার সম্ভাবনা এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ কমতে পারে এবং স্থানীয় মুদ্রাগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর পরিস্থিতির দিকে
বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন রুপির পতনের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। কারণ বৈশ্বিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা এখনও অনেক বেশি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকে এবং মার্কিন বন্ডের ফলন আরও বাড়ে, তাহলে রুপির ওপর চাপ আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















